ভালো থেকো সুজয়.................

Jun 14, 2017 07:03 PM IST | Updated on: Jun 14, 2017 07:06 PM IST

#কলকাতা: অসময়েই চলে গেলেন ইটিভি নিউজ বাংলার কর্মী সুজয় গুপ্ত। মাত্র ৩৫ বছর বয়সে দক্ষিণ কলকাতার এক বেসরকারি হাসপাতালে প্রায় বিনা চিকিৎসায় মারা গেলেন সুজয়। হাসপাতালের বিরুদ্ধে চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগে সরব সুজয়ের পরিবার।

শনিবারও অফিসে এসেছিল। রোজকার মতো কাজের মাঝেমাঝেই চলছিল হাসি, আড্ডা। সহকর্মীদের কাছে স্বত‍ঃস্ফূর্ততার আরেক নাম ছিল সুজয়। কাজ করতেন গ্রাফিক্স বিভাগে। কিন্তু স্বভাববশতঃ সকলকেই আপন করে নিতে তাঁর জুড়ি ছিল না। কিন্তু শনিবার আউট পাঞ্চ করাটাই যে সুজয়ের অফিসের শেষ দিন তা কি তিনি নিজেও জানতেন? জানতেন না সহকর্মীদের কেউই।

ভালো থেকো সুজয়.................

vlcsnap-7968-05-23-09h16m45s130

সোমবার সকালে অসহ্য পেটে ব্যথা হওয়ায় সুজয়কে ভর্তি করা হয় দক্ষিণ কলকাতায় তাঁর বাড়ির কাছেই একটি বেসরকারি হাসপাতালে। পরিবারের অভিযোগ, ভরতির পর থেকেই সুজয়ের শারীরিক অবস্থা নিয়ে তাঁদের অন্ধকারে রেখেছিলেন কর্তৃপক্ষ। পরিজনের সঙ্গে কথা বলার মত প্রয়োজন বোধ করেননি কর্তব্যরত চিকিৎসকও।

মঙ্গলবার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা হয় সুজয়ের। জানান, সামান্য পেটে ব্যথা আছে। এরপর মঙ্গলবার রাতে আচমকাই শারীরিক অবস্থার অবনতি হয় সুজয়ের। হাসপাতালের তরফে জানানো হয় তাঁকে ভেন্টিলেশনে দেওয়া হচ্ছে। বুধবার ভোর সাড়ে পাঁচটার সময় সব শেষ। হাসপাতালের তরফে জানানো হয় হার্ট অ্যাটাকে মৃত্যু হয়েছে তাঁর। স্ত্রী অনন্যা আর দেড় বছরের মেয়ে পাঞ্চালি তখনও জানেনা অসম্ভব দূরত্বে পাড়ি দিয়েছে তাদের সবচেয়ে প্রিয় মানুষটি। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে চিকিৎসায় গাফিতলির অভিযোগ এনেছে পরিবার।

12189690_10201238683006521_7390779686038155366_n

পরে চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগ স্বীকার করে নেয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। বিবৃতি দিয়ে চিকিৎসক দীপঙ্কর সরকার জানান,‘ আমি মেনে নিচ্ছি। রাতে রোগীর অবস্থা খারাপ হওয়ার পরও আমি দেখতে যায়নি। আমার রোগীকে দেখা উচিত ছিল। ’

সুজয় নেই। রয়েছে অফিসে তাঁর ছেড়ে যাওয়া চেয়ারটা। রয়েছে একরাশ স্মৃতি। সারাজীবন হাসিমুখে থেকে সবাইকে এক লহমায় কাঁদিয়ে সুজয়ের অনন্তযাত্রা। ভালো থেকো সুজয়।

RECOMMENDED STORIES