‘মাটির ঘর থেকেই আমার যাত্রা শুরু’, রাষ্ট্রপতি পদে শপথের পরে আবেগতারিত কোবিন্দ

Elina Datta | News18 Bangla
Updated:Jul 25, 2017 12:58 PM IST
‘মাটির ঘর থেকেই আমার যাত্রা শুরু’, রাষ্ট্রপতি পদে শপথের পরে আবেগতারিত কোবিন্দ
Photo : AFP
Elina Datta | News18 Bangla
Updated:Jul 25, 2017 12:58 PM IST

#নয়াদিল্লি: দেশের চতুর্দশতম রাষ্ট্রপতি হিসেবে সংসদ ভবনে শপথ নিলেন রামনাথ কোবিন্দ। কে আর নারায়ণনের পর তিনিই দেশের দ্বিতীয় দলিত রাষ্ট্রপতি ৷ দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক ক্ষমতা আজ থেকে থাকবে তাঁরই হাতে।

শপথের পর বক্তব্য রাখতে গিয়ে আবেগতাড়িত হয়ে পড়েন নয়া রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ ৷ মাটির ঘর থেকে আজ রাইসিনা হিল ৷ জীবনের এই গুরুত্বপূর্ণ মূহূর্তে শৈশবের স্মৃতিচারণ করে বলেন- ‘মাটির ঘর থেকে আমার যাত্রা শুরু ৷ আমার এই যাত্রা দীর্ঘ দিনের ৷’

এরপরই নিজেকে সামলে নিয়ে দেশের স্বার্থে কাজ করার জন্য দৃঢ়প্রতিজ্ঞ রামনাথ কোবিন্দ ৷ বক্তব্য রাখতে গিয়ে বলেন, ‘সর্বধর্ম সমন্বয়ের দেশ ভারতবর্ষ ৷ গোটা বিশ্ব ভারতীয় সংস্কৃতির প্রতি আকৃষ্ট ৷ নিষ্ঠার সঙ্গে সমস্ত দায়িত্ব পালন করব ৷ দেশের অখণ্ডতা রক্ষা করব ৷ সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে থাকব ৷’

বহুদিনের পোড় খাওয়া রাজনীতিবিদ ও আইনজ্ঞ রামনাথ কোবিন্দ বরাবরই বিজেপির গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ছিলেন ৷ ৭১ বছর বয়সী রামনাথ কোবিন্দ ১৯৪৫ সালের পয়লা অক্টোবর উত্তরপ্রদেশের কানপুরের পারাউনখ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। কানপুর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিকম এবং এলএলবি করার পর আইনজীবীর পেশাকে বেছে নেন তিনি। এরপর IAS পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে দিল্লি চলে যান। পরপর তৃতীয়বারের চেষ্টায আইএএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন তিনি। কিন্তু পাশ করার পরও আইনের পেশাকেই বেছে নেন রামনাথ কোবিন্দ। ১৯৭১ সালে দিল্লি বার কাউন্সিলে আইনজীবী হিসেবে তাঁর নাম নথিভুক্ত হয়।

১৯৭৭ সালে দিল্লি হাইকোর্টে সরকারি আইনজীবী হিসেবে তাঁকে নিযুক্ত করে কেন্দ্রীয় সরকার। টানা তিন বছর এই পদে কাজ করার পর ১৯৮০ সালে কেন্দ্রীয় সরকারের আইনি পরামর্শদাতা করা হয় কোবিন্দকে। এই পদে টানা ১৩ বছর ছিলেন তিনি।

১৯৭৭ সালেই সক্রিয় রাজনীতিতে যোগ দেন রামনাথ কোবিন্দ। তার আগে, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী মোরারজি দেশাইয়ের ব্যক্তিগত সচিব ছিলেন তিনি।

১৯৯৪ সালে সংসদীয় রাজনীতিতে প্রবেশ করেন রামনাথ কোবিন্দ।

উত্তরপ্রদেশ থেকে পরপর দু-বার রাজ্যসভার সদস্য হন তিনি। এই সময় তফশিলি জাতি-উপজাতি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক, সামাজিক ন্যায় ও ক্ষমতায়ন, পেট্রোলিয়াম ও ন্যাচারাল গ্যাস এবং আইন এ বিচার সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সংসদীয় কমিটির প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এরপর রাজ্যসভা হাউস কমিটির চেয়ারম্যানও হন তিনি।

১৯৯৮ সালে বিজেপি দলিত মোর্চার সভাপতি নির্বাচিত হন রামনাথ কোবিন্দ। ২০০২ সাল পর্যন্ত এই পদে ছিলেন তিনি। সেইসঙ্গে তিনি কোলি সমাজেরও সর্বভারতীয় সভাপতি ছিলেন। কৃষক পরিবারের সন্তান কোবিন্দের দলিত সমাজের প্রতিনিধিত্ব ভোটের বাক্সে বরাবরই ফসল তুলতে সাহায্য করেছে। উত্তরপ্রদেশে কোবিন্দই ছিলেন মায়াবতীর বিরুদ্ধে বিজেপি-র অন্যতম তাস।

দলিত ভোট ব্যাঙ্কের রাজনীতির অঙ্ককে মাথায় রেখেই .. সালে কোবিন্দকে বিহারের রাজ্যপাল করে বিজেপি। তা নিয়ে জলঘোলাও কম হয়নি। তাঁকে না জানিয়ে কেন রাজ্যপালের নাম ঠিক করা হল তা নিয়ে আপত্তি জানান নীতীশ কুমার। ভুল উচ্চারণ করায় ২০১৫ সালে মন্ত্রী হিসেবে লালু প্রসাদ যাদবের বড় ছেলে তেজপ্রতাপ যাদবকে দু-বার শপথবাক্য পাঠ করিয়েছিলেন রামনাথ কোবিন্দ।

এমন এক বর্ণময় ব্যক্তিত্ব আজ দেশের ১৪তম রাষ্ট্রপতি ৷ ৬৫.৬৬ শতাংশ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন তিনি ৷

First published: 12:58:49 PM Jul 25, 2017
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर