না ঘুমিয়ে প্রতিরাতে ভূতবাংলোয় কী খুঁজে বেড়ান শিল্পী নিহার মজুমদার ?

Jul 11, 2017 03:09 PM IST | Updated on: Jul 11, 2017 03:09 PM IST

#জলপাইগুড়ি: গভীর রাত। সুনসান নীরবতা। কুকুরগুলোও যেন গভীর ঘুমে। ঘুমোয়নি কেবল আবছা হয়ে আসা আলোগুলো। আর ঘুমোননি নীহার মজুমদার। গা-ছমছমে বিশাল বাড়ির দোতলার একটা ঘরে একমনে কাজ করে চলেছেন বিশ্ববিখ্যাত এই মাসান শিল্পী। আর খুঁজে ফিরছেন ম্যাকেঞ্জি সাহেবকে। কখনও বারান্দায়। কখনও একতলার সিঁড়িতে। জানেন কি কোথায় ম্যাকেঞ্জিসাহেবের এই ভূতবাংলো ?

কাঠের সিঁড়ি। মেঝেও কাঠের। রঙ-বেরঙের ভাঙা কাঁচের জানলা। নুয়ে পড়া বাঘের মাথা। ঝুল পড়া বিলিয়ার্ড রুম। পরিত্যক্ত বার। টেনিস কোর্ট। ভাঙা পুরনো আসবাব। অযত্নে দেওয়ালের গায়ে গজিয়ে ওঠা বট, পাকুর। দিনের বেলায়েও গা-ছমছমে পরিবেশ।

না ঘুমিয়ে প্রতিরাতে ভূতবাংলোয় কী খুঁজে বেড়ান শিল্পী নিহার মজুমদার ?

জলপাইগুড়ির ক্লাব রোডের ইউরোপিয়ন ক্লাব। লাল বাংলোর আনাচে কানাচে আজও চলকে পড়ে ব্লু-ব্লাড। পরাধীন ভারতে নিজের প্রিয় আস্তানার প্রতি আকর্ষণ নাকি আজও ছাড়তে পারেননি চা-বাগানের শেষ ইংরেজ ম্যানেজার ম্যাকেঞ্জি সাহেব।

সাহেবদের বিনোদনের জন্য ১৮৯৪-এ তৈরি হয় ক্লাব। আজই সবই স্মৃতি। দেশ স্বাধীনের পর এখানে পা পড়েনি কোনও সাহেবের। সংস্কার হয়নি। নেই ব্যবহারও। কোথায় যেন একটা দুরত্ব। Dogs and indians Are not allowed। মন থেকে মোছা বোধহয় এত সহজ নয়।

তবে এই বাড়িটাই ভারী পছন্দ শিল্পী নীহার মজুমদারের। রাজবংশী সংস্কৃতির অপদেবতা মাসানকে ঘিরে কথা বলে তাঁর তুলি। তাঁর সাবজেক্টের সঙ্গে কোথায় যেন মিলেমিশে যায় নীরব সাহেব বাংলো। সুনসান বাংলোর দোতলার কোনের ঘরে চলে তাঁর শিল্পচর্চা। যে ঘরের বাথটব থেকে নাকি উদ্ধার হয়েছিল ম্যাকেঞ্জি সাহেবের মৃতদেহ। সেই সাহেবের সঙ্গে মাঝে মাঝেই দেখা হয় শিল্পীর। চাক্ষুষ নয়। অনুভবে।

তেনাদের উপস্থিতি নিয়ে নানা গল্প। দিনের বেলাতেই খুব একটা কেউ ধারেকাছে ঘেঁষে না। বাংলো সংলগ্ন রেসের মাঠে আজ গড়ে উঠেছে রেসকোর্স পাড়া। ইউরোপীয় ক্লাব আজ হানাবাড়ি। সেখানেই ম্যাকেঞ্জি সাহেবকে আজও খুঁজে বেড়ান মাসান শিল্পী।

RECOMMENDED STORIES