‘আমরা কি ভারতে আছি?’ বিজেপিকে প্রশ্ন মোর্চার

Jul 09, 2017 08:48 AM IST | Updated on: Jul 09, 2017 08:48 AM IST

#দার্জিলিং: বিজেপির নীরবতায় ক্ষুব্ধ মোর্চা ৷ বসিরহাট নিয়ে সরব হলেও পাহাড় নিয়ে মুখে কুলুপ এঁটেছে বিজেপি ৷ গেরুয়াবাহিনীর এই দ্বৈত অবস্থান নিয়ে ক্ষুব্ধ মোর্চার কড়া বিবৃতি ৷ যদিও রাজ্য বিজেপির বিরুদ্ধে অভিযোগ নিয়ে কেন্দ্রেরই দ্বারস্থ বিমল গুরুংয়ের দল ৷ ফের কেন্দ্রের হস্তক্ষেপ চেয়ে দিল্লিতে বার্তা দিল পাহাড় ৷ মোর্চার তরফে গোর্খাল্যান্ড ইস্যুতে আলোচনার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে কেন্দ্রকে ৷

অন্যদিকে, শাঁখের করাত অবস্থা রাজ্য বিজেপির ৷ দার্জিলিং বিভাজন মেনে নিলে রাজ্য রাজনীতিতে বড় প্রভাব পড়বে বলে আশঙ্কা করছে গেরুয়াবাহিনী ৷ এই আশঙ্কাতেই মোর্চার সঙ্গে তাই দূরত্ব বাড়াচ্ছে বিজেপি ৷ গোর্খাল্যান্ডের দাবিতে আন্দোলন যত তীব্র হচ্ছে, মোর্চা সহ পাহাড়ের দলগুলির থেকে দূরে সরছে রাজ্য বিজেপি ৷ পাহাড়ের ৩টি আসনের জন্য রাজ্যের বাকি ২৯১ টি আসন ছাড়তে নারাজ বিজেপি ৷

‘আমরা কি ভারতে আছি?’ বিজেপিকে প্রশ্ন মোর্চার

File Photo

এদিকে কেন্দ্রকে আলোচনা প্রস্তাব দিলেও মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের বার্তা ওড়াল মোর্চা ৷ শনিবার একটি বিবৃতিতে মোর্চার পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়, ‘‘ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে কোনও আলোচনা নয় ৷ রাজ্য সরকারের সঙ্গে আলোচনার কোনও সম্ভাবনা নেই ৷ চিরকালের মত রাজ্যের সঙ্গে আলোচনার দরজা বন্ধ ৷ কেন্দ্র গোর্খাল্যান্ড নিয়ে আলোচনায় ডাকলে, তবেই সাড়া দেওয়া হবে ৷ ’’

শনিবার নবান্নে সাংবাদিক বৈঠকে পাহাড়ের উদ্দেশ্যে শান্তির বার্তাই দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী ৷ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘‘মোর্চা চাইলে ১০-১২ দিনের মধ্যেই বৈঠক হবে ৷ অশান্তির পথ ছাড়লে তবেই আলোচনা ৷ আজকের সোনাদাকাণ্ডে তদন্ত হবে ৷ আইন মেনেই দোষীদের শাস্তি হবে ৷ বনধ প্রত্যাহার করুন ৷ পাহাড়ের স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরিয়ে আনুন ৷ স্কুল, কলেজ, দোকান-বাজার খুলতে দিন ৷ মোর্চা নেতারা খাবার জোগাড় করে নিচ্ছেন ৷ কিন্তু ভুগতে হচ্ছে পাহাড়ের আমজনতাকে ৷’’

পাহাড়ে দিল্লির নেতাদের মদত আছে বলেও এদিন অভিযোগ করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ৷ মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘ বিজেপি-র প্ররোচনায় সীমান্তে উত্তেজনা ছড়াচ্ছে ৷ অশান্তিতে সরাসরি ইন্ধন বিজেপি-র ৷ অশান্তিতে বিদেশি শক্তির হাত আছে ৷ কেন্দ্রীয় সরকার অসহযোগিতা করছে ৷ ১ মাস ধরে অসহযোগিতা করছে কেন্দ্র ৷ ফেসবুকের নামে ‘ফেকবুক’ চলছে ৷ বাংলার সীমান্ত অশান্ত করার চেষ্টা চলছে ৷ অনেকবার চাওয়া সত্ত্বেও CRPF পাওয়া যায়নি ৷ সময়মতো CRPF পেলে অবস্থা সামলানো যেত ৷ দার্জিলিঙের ঘটনা পূর্ব পরিকল্পিত ৷ একাধিক কেন্দ্রীয় সংস্থা এতে নাক গলাচ্ছে ৷ প্রতিবাদ করলেই সিবিআই দিয়ে ভয় দেখানো হচ্ছে ৷ ’’ যদিও মুখ্যমন্ত্রীর প্রস্তাব এদিন সরাসরি ফিরিয়ে দিয়েছে মোর্চা ৷ আর আলোচনা নয়, এবার গোর্খাল্যান্ড চাই-ই চাই তাদের ৷

RELATED STORIES

RECOMMENDED STORIES