কেটেছে ৫০ দিন, রাজনীতির তপ্ত আঁচে এখনও পুড়ছে শৈলশহর দার্জিলিং

Aug 03, 2017 02:33 PM IST | Updated on: Aug 03, 2017 02:40 PM IST

#দার্জিলিং: গোর্খাল্যান্ড দাবীতে অনির্দিষ্টকালের বনধ চলছে পাহাড়ে। পাহাড় আন্দোলনের রাশ কার হাতে থাকবে তাই নিয়ে চলছে চাপা দ্বন্দ্ব। তুঙ্গে রাজ্য-মোর্চা স্নায়ু-যুদ্ধ। ৫০ দিন কেটে যাওয়ার পর এখনও পুড়ছে পাহাড় ৷

জুন ৮- পাহাড়ে মমতার সঙ্গে সম্মুখসমরে মোর্চা। দীর্ঘ সচার দশক পর আজ পাহাড়ে মন্ত্রিসভার বৈঠক। দার্জিলিঙ রাজভবনে বৈঠক শুরু হওয়ার আগেই ময়দানে নামল গোর্খা জনমুক্তি মোর্চা। ভানুভবনের সামনে বিক্ষোভ-ধরনা শুরু করেমোর্চা সমর্থকরা। বিক্ষোভের জেরে দার্জিলিং, সোনাদা ও লেবংয়ে আটকে পড়ে বহু গাড়ি। বিক্ষোভের জেরে বন্ধ হয়ে যায় দোকানপাট। কালিম্পংয়েও শুরু হয় বিক্ষোভ। তরাই ও ডুয়ার্সেও আন্দোলন চালানোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে মোর্চা। এদিন ধূপগুড়িতেও মুখে কালো কাপড় বেঁধে চলে বিক্ষোভ। মোর্চার বিক্ষোভ সত্ত্বেও মন্ত্রিসভার বৈঠকের দিকে তাকিয়ে গোটা পাহাড়। পাহাড়ে উন্নয়নই হাতিয়ার মুখ্যমন্ত্রীর।

কেটেছে ৫০ দিন, রাজনীতির তপ্ত আঁচে এখনও পুড়ছে শৈলশহর দার্জিলিং

জুন ৯- হিংসার পথ নিল মোর্চা। পাহাড়ে মন্ত্রিসভার বৈঠক চলাকালীন জঙ্গি আন্দোলনে নামে তারা। পুলিশকে পাথর ও গাড়িতে আগুন দেওয়া হয়। ভানুভবনে নিরাপদ আশ্রয় থেকে কার্যত কন্ট্রোল রুম খুলে আন্দোলন নিয়ন্ত্রণ করলেন বিমল গুরং সহ মোর্চা নেতৃত্ব। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেনা তলব করেছে রাজ্য সরকার। আজ বারো ঘণ্টা বনধ-এর ডাক দিয়েছে Darjeeliongমোর্চা।সবমিলিয়ে রণক্ষেত্র পাহাড়। আতঙ্কে পাহাড় ছাড়তে শুরু করেছে পর্যটকরা।

পাহাড় আগলে মুখ্যমন্ত্রী। মোর্চার বারো ঘণ্টা বনধের মধ্যেই পাহাড় চষে বেড়ালেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কখনও হেঁটে। কখনও গাড়িতে। প্রশাসনের তৎপরতা বোঝাতে নিজেই করলেন মাইকিং । অভয় দিলেন পর্যটকদের। তাঁদের সমতলে নামার ব্যবস্থা করে দিলেন। প্রায় তিন ঘণ্টা। পাহাড়ের বিভিন্ন অংশ চষে ফেলেন মুখ্যমন্ত্রী। হাঁটতে হাঁটতে পৌঁছে যান গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার সিংমারি পার্টি অফিসের সামনে। টহলরত সেনার মুখোমুখি হতেই তাঁদের ধন্যবাদ জানান মুখ্যমন্ত্রী।

জুন ১০- বৃহস্পতিবার পাথর-বোমা-গুলতি মজুত করে হামলা করেছিল গোর্খা জনমুক্তি মোর্চা। সরকারি ভবনকে কন্ট্রোলরুম করে ঝামেলায় মদত। অ্যাকশনে নামানো হয় গোর্খাল্যান্ড পার্সোনেলকে। দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতার অভিযোগ ওঠে পাহাড়ে পুলিশের বিরুদ্ধে। তখন থেকেই তৈরি হয়েছিল রদবদলের সম্ভাবনা। গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার জঙ্গি আন্দোলন ঠেকাতে বৃহস্পতিবার হিশমিশ খেয়েছিল পুলিশ। কোথায় কিভাবে জমায়েত, কিভাবে জমা করা হয় পেট্রোল, বোমা- হদিশই পায়নি পুলিশ। এর ব্যর্থতাতেই সরতে হল দার্জিলংয়ের পুলিশ সুপারকে।

জুন ১২- আজ থেকে পাহাড়ে অনির্দিষ্টকালের বনধ। সব সরকারি অফিস, ব্যাঙ্কে বনধ ডেকেছে মোর্চা। তবে ছাড় দেওয়া হয়েছে পরিবহণ, পর্যটনে। খোলা থাকবে দোকানপাট। এদিকে, মোর্চার বনধ মোকাবিলায় কড়া অবস্থান রাজ্যের। হাজিরা না দিলেই সার্ভিস বুকে পড়বে লালকালি। গন্ডগোল এড়াতে তৈরি থাকতে বলা হয়েছে পুলিশকে। টহল দেবে সেনাও। কোনও ক্ষয়ক্ষতি হলেই নেওয়া হবে আইনি পদক্ষেপ।

জুন ১৩- চাপে সুর বদল বিজেপি রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষের। আন্দোলনের নামে হিংসার পথ নিচ্ছে মোর্চা। গোর্খাল্যান্ডের দাবিতেই ফের সুর চড়াচ্ছেন গুরুংরা। বেকায়দায় পড়ে পিছু হঠছে রাজ্য বিজেপি। মোর্চার সঙ্গে দুরত্ব বজায়ের চেষ্টা। এর আগে জঙ্গি আন্দোলন সমর্থন করেন দিলীপ ঘোষ।

জুন ১৫- চেনা জঙ্গি পথে ফিরছে পাহাড়ের আন্দোলন। তিনদিন জল মাপার পর আজ থেকে পাহাড়ে শুরু হল সর্বাত্মক বনধ। গোর্খাল্যান্ডের দাবিতে আরও মরিয়া মোর্চা। চোরাগোপ্তা আক্রমণ । পুলিশকে উস্কে ক্ষয়-ক্ষতি হলে তা দিয়ে আরও জোরদার আন্দোলন। অন্যদিকে কেন্দ্রের হস্তক্ষেপ চেয়ে দিল্লি দরবার।

জুন ১৭ - পাহাড়ে মোর্চার সমর্থকদের জঙ্গি আন্দোলনের মুখে পড়েছে পুলিশ। চলেছে গুলি। উড়ে এসেছে পাথর, ইঁট। কোপানো হয় IRB এর অ্যাসিস্ট্যান্ট কমান্ডান্ট কিরণ তামাংকে। প্রথমে কোণঠাসা হলেও পরিস্থিতির মোকাবিলা পুলিশের। মৃত্যু ৩ মোর্চা সমর্থকের। পুলিশের গুলিতেই এই মৃত্যু কিনা তা নিয়ে চাপানউতোর মোর্চা ও রাজ্য প্রশাসনের।

জুন ২২- বিমল গুরুং, আশা গুরুং সহ মোর্চা নেতাদের বিরুদ্ধে খুনের মামলা দায়ের করল পুলিশ। গত ১২ জুন মোর্চার সিংমারি অভিযানে রণক্ষেত্র হয়েছিল পাহাড়। মৃত্যু হয় ৩ মোর্চা সমর্থকের। মোর্চা সমর্থকদের গুলিতেই মারা গিয়েছেন ওই ৩ জন। ময়নাতদন্তের রিপোর্টেই এই প্রমাণ মিলতেই দায়ের হয় খুনের মামলা।

জুন ২৩- পাহাড় নিয়ে রাজ্যের সঙ্গে চরম সংঘাতে গোর্খা জনমুক্তি মোর্চা। শুক্রবার জিটিএ থেকে পদত্যাগ করলেন মোর্চা সভাসদরা। তবে জিটিএ নির্বাচন করতে দেওয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি মোর্চার। সিংমারি অভিযানে ৩ সমর্থকের মৃত্যুতেও পুলিশর দিকেই আঙুল মোর্চা নেতৃত্বের। মোর্চা প্রধানের ঘোষণা, গোর্খাল্যান্ড ছাড়া আর কিছুই মানবেন না পাহাড়বাসী।

জুন ২৬- নয়া চাপে মোর্চা। বিমল গুরুঙের পদত্যাগপত্র নিলেন না রাজ্যপাল। জানিয়ে দিয়েছেন, মোর্চা সুপ্রিমোকে সশরীরে এসে পদত্যাগপত্র জমা দিতে হবে। খুনের মামলা মাথায় নিয়ে কি কলকাতায় আসবেন বিমল? পাহাড়ের গোপন ডেরা থেকে বেরিয়ে সেই ঝুঁকি তিনি নেবেন ? এই জল্পনার মাঝেই এবার রাজ্যের ওপর চাপ বাড়াতে তেলঙ্গানার ধাঁচে পাহাড়ে আত্মাহুতি দিয়ে দাবি আদায়ের হুমকি দিয়েছে মোর্চা।

জুন ২৮- এতদিন পাহাড়ে বিক্ষিপ্ত আগুন লাগানোর ঘটনা ঘটলেও এবার তা শুরু হল নির্দিষ্ট টার্গেটে। আজ জিটিএ-র পূর্ত বিভাগের প্রধান অফিসে আগুন লাগানো হয়। পুড়ে ছাই হয়ে যায় সব নথি ও কম্পিউটার। জিটিএ-র দুর্নীতি নিয়ে যে তদন্ত শুরু হয়েছে তাতে এই নথি ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেকারণেই মোর্চার বিরুদ্ধে দুর্নীতি ঢাকতে আগুন লাগিয়ে দেওয়ার অভিযোগে সরব রাজ্য সরকার।

রাজ্যের কৌশলে থমকে পাহাড়ের আন্দোলন। ফলে, পৃথক রাজ্যের জিগির তুলে কার্যত বাঘের পিঠে চড়েছেন বিমল গুরুংরা। সেই চাপ থেকে বেরিয়ে আসতে এবার উসকানি দেওয়ার পথই বেছে নিল মরিয়া মোর্চা। শক্তি জাহির করতে আজ মহিলা-শিশুদের ঢাল করেই চলে সশস্ত্র মিছিল।

জুন ২৯- প্রথমে বৈঠকের ডেরা পরিবর্তন হয়েছিল। এবার আন্দোলনের রাশই চলে গেল মোর্চার হাত থেকে। গোর্খাল্যান্ডের দাবিতে আন্দোলনে নামা সবকটি দলকে নিয়ে তৈরি হচ্ছে গোর্খাল্যান্ড মুভমেন্ট কো-অর্ডিনেশন কমিটি। এদিন পাহাড় নিয়ে সর্বদল বৈঠকে বনধ প্রত্যাহার নিয়েও চাপের মুখে পড়তে হল মোর্চা নেতৃত্বকে। দীর্ঘ সময় ধরে চলল আলোচনার পর বনধ চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত ১৫টি রাজনৈতিক দল ও গণ-সংগঠনের।

জুলাই ৪- পাহাড় নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর প্রস্তাবও মানছে না গোর্খা জনমুক্তি মোর্চা। গোর্খাল্যান্ড ছাড়া অন্য সব বিষয়ে আলোচনায় তৈরি কেন্দ্র। দার্জিলিংয়ের সাংসদের মাধ্যমে মোর্চা নেতৃত্বকে বার্তা দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী। সেই প্রস্তাব খারিজ করল মোর্চা প্রধান। বিমল গুরুংয়ের একগুঁয়েতি ধৈর্য্য হারাচ্ছে পাহাড়ের অন্য দলও। মোর্চার সঙ্গ ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জিএনএফ। আন্দোলন নিয়েও মোর্চা যাতে একা সিদ্ধান্ত নিতে না পারে, তা নিশ্চিত করতেও উদ্যোগী বাকিরা।

জুলাই ৮- সোনাদায় গুলিতে গোর্খা সমর্থকের মৃত্যু ঘিরে ফের আগুন জ্বলল পাহাড়ে।

জুলাই ৯- পাহাড় নিয়ে বিজেপির নীরবতায় ক্ষুব্ধ মোর্চা। গোর্খাল্যান্ড ইস্যুতে কেন্দ্রের হস্তক্ষেপ চেয়ে যন্তরমন্তরে অবস্থান-বিক্ষোভ গোর্খাল্যান্ড মুভমেন্টস কোঅর্ডিনেশন কমিটির। মোর্চার দাবির প্রতি সহানুভূতিশীল। ধোঁয়াশা বাড়িয়ে মন্তব্য দিলীপ ঘোষের। পালটা বিজেপিকে কটাক্ষ করেছে শাসদকল তৃণমূল।

জুলাই ১০- পাহাড়ে লাগাতার হিংসায় ব্যাকফুটে মোর্চা। মুখে শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের কথা বলে কেন লাগাতার হিংসা? আন্দোলনের রাশ মোর্চার হাতছাড়া হতেই এমন পরিস্থিতি বলে সাফাই দিচ্ছেন মোর্চা নেতারা। পাহাড়ে মোর্চার আন্দোলনের এক মাসেরও বেশি সময় গড়িয়েছে। এখন আগুন আয়ত্তের বাইরে যেতেই কি পিছু হটছে মোর্চা? নাকি ভিন্ন কোনও কৌশল রয়েছে?

জুলাই ১৯- এবার আরও বিপাকে মোর্চা নেতৃত্ব। বিমল গুরুং সহ ২২ মোর্চা নেতাকে আগামী মাসের মাঝামাঝি থেকে কলকাতায় স্থায়ীভাবে থাকতে হবে। হাইকোর্টের এই নির্দেশে উভয় সংকটে মোর্চা। ১৭ অগাস্টের মধ্যে মদন তামাং হত্যায় চার্জ গঠন ও বিচারপ্রক্রিয়া শুরুর নির্দেশ দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট। দেরি হওয়ার জন্য সিবিআইয়ের ওপরও ক্ষুদ্ধ হাইকোর্ট।

জুলাই ২৪- হাইকোর্টের নির্দেশে মদন তামাং হত্যাকাণ্ডে উদ্যোগী সিবিআই। আদালতে হাজিরা না দেওয়ায়, আজ বিমল গুরুং, রোশন গিরি-সহ বাইশ নেতার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির আবেদন করল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। চাপে পড়ে পালটা সুপ্রিম কোর্টে মোর্চার আবেদন। অন্য রাজ্যে মামলা নিয়ে যাওয়ার জন্য আবেদন করেছে তারা।

জুলাই ২৫ - মদন তামাং হত্যাকাণ্ডে সাময়িক স্বস্তিতে অভিযুক্ত বাইশ মোর্চা নেতা। তাঁদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির আবেদন খারিজ করে দিল নগর দায়রা আদালত। একইসঙ্গে, অভিযুক্তদের বদলে তাঁদের আইনজীবীকে আদালতে উপস্থিত হওয়ার আবেদন গ্রহণ করেছে আদালত।

জুলাই ২৬ - দার্জিলিঙে ইন্টারনেট চালুর দাবিতে অভিনব কর্মসূচি মোর্চার। মিছিল করে মোবাইল পোড়ালেন মোর্চা সমর্থকরা। ঘুম রেল স্টেশনের কাছে মিছিল শেষে মোবাইল পোড়ানো হয়।

অগাস্ট ১ - কালিম্পঙে অসুস্থ ২ অনশনকারী ৷ প্রশাসন উদাসীন অভিযোগ তুলে ঘেরাও করেন মোর্চা সমর্থকরা ৷ ১১ দিন ধরে অনশন যুবমোর্চার সমর্থকদের ৷ শারীরিক অবস্থার অবনতি ২ অনশনকারীর ৷

অগাস্ট ১- পাহাড়ে শান্তি ফেরাতে ফের আলোচনায় বসার আহ্বান মুখ্যমন্ত্রীর। উত্তর দিনাজপুরের চোপড়ায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্তব্য, পাহাড় আন্দোলনের আঁচে পুড়ছেন সাধারণ মানুষ। পরিস্থিতির মোড় ঘোরাতে মোর্চা-সহ অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলিকেও এগিয়ে আসার বার্তা দিয়েছেন তিনি। জঙ্গি আন্দোলন চালিয়েছে দার্জিলিঙের পর্য়টন শিল্প ধ্বংস না করার আবেদনও করেছেন মুখ্যমন্ত্রী।

RELATED STORIES

RECOMMENDED STORIES