‘বাংলা ইস্যু নয়,পুরভোটে একটা ঘা খেয়ে ভয় পেয়ে গেছে ওরা’, মোর্চাকে কটাক্ষ মুখ্যমন্ত্রীর

Jun 09, 2017 08:05 PM IST | Updated on: Jun 09, 2017 08:07 PM IST

#দার্জিলিং: মোর্চার বিক্ষোভকে কটাক্ষ করে এমনই মন্তব্য করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ৷ মোর্চার হিংসাত্মক বিক্ষোভে ভরা পর্যটন মরশুমে অশান্ত পাহাড়। পর্যটকদের নিরাপদে সমতলে ফেরাতে একাধিক উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। আতঙ্কে রাতে ঘুম নেই। মেলেনি জল, খাবার। হতাশা, আক্রোশ নিয়ে পাহাড় ছাড়ছেন পর্যটকরা। অনেকেই বিমানে ও ট্রেনে কলকাতায় ফিরেছেন। মোর্চার আন্দোলন নিয়ে ক্ষোভ উগরে দেন তারা।

এদিকে কলকাতা ফেরার পরিকল্পনা বাতিল করে পাহাড়েই রয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। মোর্চার বারো ঘণ্টা বনধের মধ্যেই পাহাড় চষে বেড়ালেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কখনও হেঁটে। কখনও গাড়িতে। প্রশাসনের তৎপরতা বোঝাতে নিজেই করলেন মাইকিং । অভয় দিলেন পর্যটকদের। তাঁদের সমতলে নামার ব্যবস্থা করে দিলেন। মোর্চাকে হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়ে দিলেন, এখনই পাহাড় ছাড়ছেন না। মোর্চাকে কটাক্ষ করে মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্য, ‘বাংলা ভাষা আসলে ইস্যু নয় ৷ পুরভোটে একটা ঘা খেয়েছে ৷ তাতে ভয় পেয়ে গেছে ওরা ৷ কিছু করতে পারেনি বলে এসব করছে ৷ এভাবে মানুষকে বিপদে ফেলে দেওয়া, দেউলিয়াপনা ছাড়া এটা কিছু না ৷ কালীদাসের মতো এদের দশা ৷ পর্যটকরা এখানকার লক্ষ্মী ৷ লক্ষ্মীই যদি না থাকে ব্যবসা হবে কী করে ৷ বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলন করতে চাই না ৷

‘বাংলা ইস্যু নয়,পুরভোটে একটা ঘা খেয়ে ভয় পেয়ে গেছে ওরা’, মোর্চাকে কটাক্ষ মুখ্যমন্ত্রীর

আর এই আন্দোলন করতেও দেব না ৷ যাঁরা এসবকে প্রশ্রয় করেন, তাঁরা ভালবাসেন না ৷’

মুখ্যমন্ত্রীর কৌশলে চাপে পড়ে, ফের গোর্খাল্যান্ডের দাবি তুলছে মোর্চা পাহাড়ের ভাবাবেগ কাজে লাগানোর চেষ্টা করছেন বিমল গুরুংরা। আজও ১২ ঘণ্টার বনধ ঘিরে পাহাড়ে গোলমাল পাকানোর চেষ্টা করে মোর্চা। কালিম্পং, মিরিকের কিছু এলাকায় ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। যদিও পুলিশ প্রশাসন কড়া হাতে তা সামলেছে।

সাতসকালেই শুরু হয়েছিল প্রশাসনিক তৎপরতা। দার্জিলিংয়ের রাস্তায় ঘুরে পাহাড়বাসী, পর্যটকদের ভরসা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। তারপরেও অশান্তির আগুন পুরোপুরি নিভল না। মংপুতে আইআইটিতে আগুন লাগানো হল। পর্যটকদের বাস আটকানোর অভিযোগ মোর্চার বিরুদ্ধে। প্রশাসনের কড়া মনোভাব বুঝে গা-বাঁচানোর চেষ্টাও করলেন বিমল গুরং।

পর্যটকদের ফেরাতেও সকাল থেকেই শুরু হয়েছিল যুদ্ধকালিন তৎপরতা। রাস্তায় নেমে ভরসা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী। চলছিল সেনা- আধা সেনার টহল।

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘সবাইকে শান্তি রক্ষার জন্য আবেদন করছি ৷ অসৎ উপায়ে যেন কেউ রাজনীতি না করে, আমাদের আগের সরকার আপস করেছে ৷ আমরাও আপস করেছি ৷ দিল্লির সরকারও করেছে কিন্তু একটা সীমা থাকা দরকার ৷ আইনের পথে সব সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে ৷ দেশের স্বার্থে, মানুষের স্বার্থে নেওয়া হবে ৷’

ভোর ৬ --

শিলিগুড়ি থেকে পুলিশ কর্ডনে দার্জিলিংয়ে আসতে শুরু করে বাস

কাজ শুরু করে রাজ্য সরকারের তৈরি হেল্পডেক্স

সকাল ৯.৩০ ---

রিচমন্ড হিলে প্রশাসনিক শীর্ষকর্তাদের সঙ্গে আলোচনায় মুখ্যমন্ত্রী

মোর্চার তান্ডবে আহত পুলিশকর্মীকে কলকাতার আনার উদ্যোগ শুরু

পাহাড়ে আইনের শাসন ফেরাতে কি ব্যবস্থা? রিচমন্ড হিলে প্রশাসনিক কর্তাদের সঙ্গে বৈঠকেই সেই নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী। তার কিছুক্ষণ পরই মংপুতে মোর্চা সমর্থকদের তান্ডবের খবর আসে

সকাল ১০.০০

মংপুতে নির্মীয়মান আইআইটিতে ভবনে আগুন লাগিয়ে দেয় মোর্চা সমর্থকরা

কালিপংয়ে পর্যটকদের বাস আটকানোর অভিযোগ পায় পুলিশ

সুকনার কাছেও রাস্তা আটকে বিক্ষোভ মোর্চা সমর্থকদের

দুপুর ১.৩০

কালিম্পংয়ে ফের পর্যটকদের রাস্তা আটকানোর চেষ্টা

এক মোর্চা সমর্থককে আটক করল পুলিশ

দুপুর ১.৪৫

এনজেপি স্টেশন ও শিলিগুড়ি জংশনে পর্যটকদের সঙ্গে কথা পর্যটনমন্ত্রীর

কলকাতাগামী ট্রেনে অতিরিক্ত কোচের আশ্বাস

এরই মাঝে গুরুংয়ের সন্ধানে শুরু হয় পুলিশ তল্লাশি।

দুপুর ১.৪৫

গোপন ডেরা থেকে বেরোলেন বিমল গুরং

সাংবাদিক সম্মেলন করে তৃণমূলকে দোষারোপ

বিকেল ৩.৪৫

জিটিএ-র অডিট করতে পাহাড়ে পৌঁছল অডিটর টিম

মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে পৌঁছলেন ৩ শীর্ষ পুলিশ কর্তাও

বিকেলের আগেই পাহাড় ছেড়েছেন অধিকাংশ পর্যটক। বৃহস্পতিবার হুমকি - হুঁশিয়ারি দিলেও মুখ্যমন্ত্রীর কড়া মনোভাবে এদিন সুর চড়ায়নি মোর্চাও।

RELATED STORIES

RECOMMENDED STORIES