কালিম্পংকে পৃথক জেলা ঘোষণা, মোর্চাকে কোণঠাসা করতে নয়া চাল মুখ্যমন্ত্রীর

Feb 14, 2017 04:45 PM IST | Updated on: Feb 14, 2017 04:45 PM IST

#কালিম্পং: বেশ কয়েকটি বোর্ড তৈরি করায় এমনিতেই চাপে ছিল মোর্চা। এবার কালিম্পঙকে পৃথক জেরা করায় পুরোপুরি কোণঠাসা বিমল গুরুং বাহিনী। পাহাড়ের উন্নয়নে জিটিএ-র ভূমিকাও ক্রমশ কমছিল। দীর্ঘদিন ধরে দার্জিলিং ও কালিম্পং-এর মানুষের মধ্যে ঠান্ডা লড়াইতো ছিল। আলাদা জেলা ঘোষণায় সেই আবেগ উস্কে দিয়েছে স্থানীয়দের। সাড়ম্বরে তাঁরা স্বাগত জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রীকে।

 গোর্খাল্যান্ড আন্দোলনের সময় বিমল গুরুঙদের সঙ্গে বনিবনা হচ্ছিল না কালিম্পঙয়ের। সেই আবেগ কাজে লাগিয়েই কালিম্পংকে আলাদা জেলা করার ঘোষণা করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মঙ্গলবার সম্পূর্ণ হল সেই বৃত্ত। এদিন নাম না করেই মোর্চাকে বেঁধেন মুখ্যমন্ত্রী।  কটাক্ষের সুরে তিনি বলেন, ‘দার্জিলিঙে উন্নয়ন করার প্রয়োজন রয়েছে, সেটা ৫ বছর আগে এসেই বুঝেছিলাম ৷ তার জন্য আরও বেশি টাকাও প্রয়োজন ৷ জিটিএ হওয়ার পরও উন্নয়নের কাজ এগোয়নি ৷ রাজ্য সরকার সবসময় উন্নয়নের পাশে থেকেছে ৷ পাহাড়ের উন্নয়নে সব ক্ষমতাই জিটিএ-র হাতে, আমরা অনেক কাজ করেছি, আরও অনেক কাজ বাকি ৷’

কালিম্পংকে পৃথক জেলা ঘোষণা, মোর্চাকে কোণঠাসা করতে নয়া চাল মুখ্যমন্ত্রীর

 পাহাড়ে মোর্চা ও বিজেপির গলাগলি নিয়েও খোঁচা দেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজ্যে অশান্তি পাকানোর চেষ্টা হলে বরদাস্ত করা হবে না বলেও বার্তা দেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী এদিন বলেন, ‘দাঙ্গা লাগানোর কাজ আমাদের নয় ৷ বিভাজন করার কাজও আমাদের নয় ৷ সবাইকে একসঙ্গে নিয়েই আমরা চলতে চাই ৷ আমরা সবাইকে নিয়ে কাজ করতে চাই ৷ আগুন জ্বালিয়ে সম্পত্তি নষ্ট করো না ৷ যারা সত্যিকারের পাহাড়ি তারা আগুন জ্বালাবে না ৷ সত্যিকারের পাহাড়িরা অশান্তি করে না ৷ আমাদের আগুন জ্বালানোর সময় মেলে না ৷ যাদের কোনও কাজ নেই তারাই আগুন জ্বালায় ৷ আমরা কারও আগুন বরদাস্ত করব না ৷ আগুন জ্বালিয়ে উন্নয়নের কাজ হয় না ৷ তা সে হিন্দু-মুসলিম, লেপচা-তামাং-গুরুং যেই হোক ৷ আমাদের কাছে সবাই সমান ৷’

কালিম্পঙয়ে পানীয় জল প্রকল্প, ২২০ কোটি টাকায় কালিম্পং-সিকিম সিল্ক রুট, এডুকেশন হাব-সহ একাধিক প্রকল্প গড়ার প্রতিশ্রুতি দেন মুখ্যমন্ত্রী। পৃথক জেলার ঘোষণায় অকাল হোলিতে মেতে ওঠে কালিম্পং। দেখা যায় উৎসবের মেজাজ।

RELATED STORIES

RECOMMENDED STORIES