কুখ্যাত নিঠারি হত্যা মামলায় দোষীদের মৃত্যুদণ্ডের নির্দেশ

Elina Datta | News18 Bangla
Updated:Jul 24, 2017 05:30 PM IST
কুখ্যাত নিঠারি হত্যা মামলায় দোষীদের মৃত্যুদণ্ডের নির্দেশ
Photo : AFP
Elina Datta | News18 Bangla
Updated:Jul 24, 2017 05:30 PM IST

#নয়াদিল্লি: পিঙ্কি সরকার হত্যা মামলায় প্রাণদণ্ডের সাজা হল মনিন্দর সিং পান্ধের ও তার পরিচারক সুরিন্দর কোহলির। গাজিয়াবাদের বিশেষ সিবিআই আদালতের বিচারক পবন তিওয়ারি পান্ধের ও কোহলির অপরাধকে বিরলের মধ্যে বিরলতম বলে উল্লেখ করেছেন। ২০০৬ সালের পাঁচ অক্টোবর নয়ডার নিঠারিতে খুন হন বাংলার তরুণী পিঙ্কি সরকার। শারীরিক নির্যাতন চালানোর পর তাঁকে নৃশংসভাবে খুন করে, পিঙ্কির দেহাংশ রান্না করে খেয়েছিল সুরিন্দর কোহলি। 

গত শনিবার দুই অভিযুক্তকেই দোষী সাব্যস্ত করেছিলেন গাজিয়াবাদের বিশেষ সিবিআই আদালতের বিচারক পবন তিওয়ারি। ২০০৬ সালে পান্ধেরের নিঠারির বাড়ি থেকে একাধিক কঙ্কাল ও দেহাবশেষ উদ্ধারের পর চাঞ্চল্য ছড়ায়।  বেশ কিছু শিশু, কিশোর, কিশোরীর ওপরে যৌন নির্যাতন ও তাদের খুনের অভিযোগ ওঠে পান্ধের ও তার বাড়ির পরিচারক সুরিন্দর কোহলির বিরুদ্ধে।

কুড়ি বছরের পিঙ্কি সরকার পান্ধেরের নিঠারির বাড়িতে পরিচারিকার কাজে যোগ দিয়েছিলেন। ২০০৬ সালের পাঁচ অক্টোবর খুন হন ওই বাঙালি তরুণী। সিবিআই তদন্তে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, খুনের আগে পিঙ্কিকে শারীরিক নির্যাতন করা হয়। সুরিন্দর কোহলি এরপর দোতলার কলঘরে তাঁর দেহ হিঁচড়ে নিয়ে গিয়ে ছুরি দিয়ে মাথা কেটে, জামাকাপড় ছিঁড়ে সেগুলো বাইরে ফেলে দেয়। তার পর বাকি দেহ প্রেশার কুকারে রান্না করে খেয়ে নেয় বলে অভিযোগ।

২০০৭-এর এপ্রিলে মৃত মেয়ের জামাকাপড় শনাক্ত করেন তার বাবা-মা। পরে সুরেন্দ্র নিজেই পিঙ্কির চটিজোড়াও শনাক্ত করে। পিঙ্কির মাথার খুলির ডিএনএ পরীক্ষাও করা হয়। যা তাঁর বাবা-মার ডিএনএ-র সঙ্গে ম্যাচ করে যায়।

সোমবার পিঙ্কি সরকার হত্যা মামলার সাজা ঘোষণা করলেন গাজিয়াবাদের বিশেষ সিবিআই আদালতের বিচারক পবন তিওয়ারি। মনিন্দর সিং পান্ধের ও তার বাড়ির পরিচারক সুরিন্দর কোহলিকে প্রাণদণ্ড দিয়েছে আদালত। দু'জনের অপরাধকেই বিরলের মধ্যে বিরলতমের আখ্যা দিয়েছেন বিচারক। অন্য মামলাগুলোতেও কোহলি নিজেই শিশুদের ধর্ষণ, খুন ও খেয়ে ফেলার কথা স্বীকার করেছে। মিষ্টি ও চকোলেটের লোভ দেখিয়ে কোহলি ওই শিশুদের পান্ধেরের নিঠারির বাড়িতে নিয়ে আসা হতো। তারপর তাদের নির্যাতন করে খেয়ে ফেলা হতো।

 নিঠারি হত্যাকাণ্ড নামে কুখ্যাত এই মামলায় ১৬ টি খুনের ইতিমধ্যেই ফয়সালা হয়েছে। সাতটি মামলায় সুরিন্দর কোহলিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে বিশেষ সিবিআই আদালত। তবে মনিন্দর সিং পান্ধের এই মামলায় জামিনে ছাড়া পেয়েছিল। তবে শনিবার শেষ নির্যাতিতা পিঙ্কি সরকারের খুনের ঘটনায় দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পরই ফের জেলে পোরা হয় তাকে।

পান্ধের এবং কোহলির অপরাধকে বিরলের মধ্যে বিরলতম হিসাবে চিহ্নিত করেছেন বিচারক। পান্ধেরের বাড়িতেই পরিচারিকা হিসাবে কাজ করতে গিয়েছিলেন পিঙ্কি সরকার। শারীরিক নির্যাতনের পর ওই বাঙালি তরুণীকে নৃশংসভাবে খুন করে সুরিন্দর কোহলি। পরে পিঙ্কি-র দেহাংশকে প্রেশার কুকারে রান্না করে খেয়ে ফেলে সে।

First published: 05:30:08 PM Jul 24, 2017
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर