‘ধর্ষক নাবালক হতে পারে না, দেশের নেতাদের মানসিকতার পরিবর্তন হোক’ : নির্ভয়ার বাবা-মা

Elina Datta | News18 Bangla
Updated:May 05, 2017 06:41 PM IST
‘ধর্ষক নাবালক হতে পারে না, দেশের নেতাদের মানসিকতার পরিবর্তন হোক’ : নির্ভয়ার বাবা-মা
Photo : AFP
Elina Datta | News18 Bangla
Updated:May 05, 2017 06:41 PM IST

#নয়াদিল্লি: নির্ভয়া গণধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় দিল্লি হাইকোর্টের রায়ই বহাল। দোষী চার জনের ফাঁসির সাজাই দিল সুপ্রিম কোর্ট। বিরতলম এই ঘটনায় সমাজে সুনামির মতো প্রভাব ফেলেছে। তাই দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হিসেবেই মৃত্যুদণ্ড বহার রাখল সর্বোচ্চ আদালত।

সাড়ে চার বছরের লড়াই শেষ। ভেজা চোখেই সুপ্রিম নির্দেশকে স্বাগত জানিয়েছেন নির্ভয়ার বাবা-মা। নির্ভয়ার বাবা বদ্রী সিং এদিন সাংবাদিক সম্মেলনে এসে বলেন, ‘ধর্ষক নাবালক হতে পারে না ৷ দেশের নেতাদের মানসিকতার পরিবর্তন হোক ৷ যতক্ষণ না ফাঁসি হচ্ছে শান্তি পাব না ৷’ অন্যদিকে মেয়ের অপরাধীদের সাজা শুনে মায়ের চোখে জল ৷ ভেজা চোখেই লুকিয়ে শান্তি ৷ বললেন, ‘ধর্ষণ রুখতে হবে ৷ সমাজের সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে ৷ এটা নারী-পুরুষ প্রত্যেকের লড়াই ৷ দেরিতে হলেও ন্যায় মিলেছে ৷ ধর্ষণের বিচার বিশেষ আদালতে হোক ৷ বয়স দেখবেন না ৷ যে কোনও বয়সের ধর্ষককে শাস্তি দেওয়া হোক ৷ ঘটনা ঘটার পর অনেক আলোচনা হয়, এবার আলোচনা থেকে বেরিয়ে আসুন ৷’

২০১২ ডিসেম্বর থেকে ২০১৭ সালের মে। প্রায় সাড়ে চার বছরের আইনি লড়াই। শুক্রবার নির্ভয়া গণধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় দোষী পবণ গুপ্তা, বিনয় শর্মা, অক্ষয় ঠাকুর ও মুকেশ সিংয়ের মৃত্যুদণ্ডই বহাল রাখল সুপ্রিম কোর্ট।

বিচারপতি দীপক মিশ্র, আর ভানুমতী ও অশোক ভূষণের ডিভিশন বেঞ্চ রায়দান শুরু করে। পনেরো মিনিটের মধ্যেই দোষী চার জনের মৃত্যুদণ্ডের নির্দেশ বহাল রাখার কথা জানিয়ে দিয়েছে বেঞ্চ। এর আগে দিল্লি হাইকোর্টে মৃত্যুদণ্ডের রায়ের পিছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিল দোষ প্রমাণে তথ্যসামগ্রী,

- মৃত্যুশয্যায় নির্যাতিতা নির্ভয়ার জবানবন্দি

- সেইসঙ্গে ফরেন্সিক রিপোর্ট, CCTV ফুটেজ ও অন্যান্য তথ্য

হাইকোর্টের রায়কে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন জানিয়েছিল দোষীরা। কিন্তু, হাইকোর্টের রায় বহাল রাখতে গিয়ে সর্বোচ্চ আদালতের পর্যবেক্ষণ।

কী পদক্ষেপ করা যেত

(হয়) দোষীদের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড (দেওয়া যেতে পারে)

(নয়তো) মৃত্যুদণ্ড দিয়ে সমাজকে দৃষ্টান্তমূল নজির স্থাপন (করা যায়)

কিন্তু, সর্বোচ্চ আদালতের সিদ্ধান্ত,

সুপ্রিম পর্যবেক্ষণ

- নির্ভয়াকাণ্ড দোষীদের নৃশংস ও বর্বর মানসিকতার পরিচয় দিয়েছে

- এই ঘটনা সমাজে সুনামির মতো প্রভাব ফেলেছে

- এই ঘটনা বিরলের মধ্যে বিরলতম

- তাই মৃত্যুদণ্ড ছাড়া অন্য কোনও শাস্তি হতে পারে না

nirbhaya

যদিও, দোষীদের আইনজীবীর দাবি, জনতার চাপেই সুপ্রিম কোর্টের এই রায়।

একনজরে নির্ভয়াকান্ড ও বিচারপর্ব-

১৬ ডিসেম্বর, ২০১২

দিল্লির রাজপথে চলন্ত বাসে প্যারা মেডিক্যালের ছাত্রীকে প্রেমিকের সামনেই গণধর্ষণ । দু’জনকেই মারধরের পর বাস থেকে ছুড়ে ফেলে দেয় দুষ্কৃতীরা

১৮ ডিসেম্বর, ২০১২

ধর্ষণের ঘটনায় চার অভিযুক্ত গ্রেফতার । দেশজুড়ে অভিযুক্তদের শাস্তির দাবিতে উত্তাল রাজধানী। অভিযুক্তদের ফাঁসির দাবি তোলেন তৎকালীন বিরোধী দলেনেত্রী সুষমা স্বরাজ। অপরাধ আইন সংশোধনের দাবি

২১ ডিসেম্বর, ২০১২

আরও ১ অভিযুক্ত অক্ষয় ঠাকুর গ্রেফতার।

২৩ ডিসেম্বর, ২০১২

অপরাধ আইন সংশোধনে তৎকালীন বিচারপতির নেতৃত্বে ৩ সদস্যের কমিটি গঠন।

২৪ ডিসেম্বর, ২০১২

গণধর্ষণ ও ঘটনার নৃশংসতার কথা স্বীকার দুই অভিযুক্তের।

২৬ ডিসেম্বর, ২০১২

নির্ভয়ার শারীরিক অবস্থার অবনতি। দিল্লিজুড়ে মোতায়েন ৩ হাজার নিরাপত্তারক্ষী । সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে স্থানান্তর।

২৯ ডিসেম্বর, ২০১২

১৩ দিনের লড়াই শেষ। সিঙ্গাপুরের হাসপাতালে নির্ভয়ার মৃত্যু।

৩০ ডিসেম্বর, ২০১২

নির্ভয়ার মরদেহ ফিরল দিল্লি। সরকারের ওপর চাপ বজায় রাখতে দিল্লির রাজপথে প্রতিবাদীদের শান্তিপূর্ণ মিছিল।

১৭ জানুয়ারি, ২০১৩

দ্রুত বিচারের জন্য গঠিত ফাস্ট ট্র্যাক কোর্টে প্রাপ্ত বযস্ক পাঁচ অভিযুক্তের বিরুদ্ধে মামলা শুরু।

১১ মার্চ, ২০১৩

তিহার জেলে মূল অভিযুক্ত রাম সিংয়ের আত্মহত্যা।

চার অভিযুক্ত মুকেশ সিং, বিনয় শর্মা, অক্ষয় ঠাকুর এবং পবন গুপ্তা দোষী সাব্যস্ত।

২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৩

চার দোষীকেই মৃত্যুদণ্ডের সাজা ফাস্ট ট্র্যাক কোর্টের। সাজা নিশ্চিত করতে মামলা দিল্লি হাইকোর্টে পাঠালো নিম্ন আদালত।

১৩ মার্চ, জানুয়ারি, ২০১৪

নিম্ন আদালতের রায় বহাল রাখল দিল্লি হাইকোর্ট।

২ জুন, ২০১৪

দিল্লি হাইকোর্টের রায়কে চ্যালেঞ্জ ক’রে সুপ্রিমকোর্টের দ্বারস্থ মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুই দোষী।

১৪ জুলাই, ২০১৪

পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত চার দোষীর মৃতুদণ্ড কার্যকর করার উপর স্থগিতাদেশ শীর্ষ আদালতের।

৬ মার্চ, ২০১৭

দোষীদের পক্ষ থেকে শেষ হলফনামা দাখিল। এই মামলায় শুনানির কাজ শেষ।

৫ মে, ২০১৭

অবশেষে রায়দান ৷ মৃত্যুদন্ড বহাল রাখল সু্প্রিম কোর্ট

First published: 05:34:10 PM May 05, 2017
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर