দেশবাসীকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি রাখতে স্বাধীনতা দিবসে ফের মোদি চমক !

Elina Datta | News18 Bangla
Updated:Aug 16, 2017 02:50 PM IST
দেশবাসীকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি রাখতে স্বাধীনতা দিবসে ফের মোদি চমক !
Photo : AFP
Elina Datta | News18 Bangla
Updated:Aug 16, 2017 02:50 PM IST

#নয়াদিল্লি: মন কি বাত-এ প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। স্বাধীনতা দিবসের ভাষণ হবে সংক্ষিপ্ত। সেই মতো একাত্তরতম স্বাধীনতা দিবসে লালকেল্লা থেকে এযাবৎকালের সংক্ষিপ্ততম বক্তৃতাই দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। শপথ নিলেন এক নতুন দেশ গড়ার।

সব মিলিয়ে ৭১ তম স্বাধীনতা দিবসে মাত্র ৫৭ মিনিটের মধ্যেই শেষ করলেন লালকেল্লা থেকে দেশবাসীর উদ্দেশ্যে তাঁর বার্তা ৷ মোদি জমানার চার বছরের মধ্যে এটিই সবচেয়ে সংক্ষিপ্ত ৷ এর আগে তাঁর রেডিও অনুষ্ঠান মন কি বাত-এ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি জানিয়েছিলেন স্বাধীনতা দিবসে ভাষণ অতিদীর্ঘ হয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ জানিয়েছেন অনেক দেশবাসী ৷ অনেকেই চিঠি দিয়ে বক্তব্য সংক্ষিপ্ত করার অনুরোধ জানিয়েছেন ৷ সেই মতোই স্বাধীনতা দিবসে মোদির প্রতিশ্রুতি রক্ষা ৷

স্বাধীনতা দিবস উদযাপনের ইতিহাস বলে ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহেরু ১৯৪৭ সালে ১৫ অগাস্ট সদ্যপ্রাপ্ত স্বাধীনতার খুশিতে লালকেল্লা থেকে দেশবাসীর উদ্দেশ্যে বক্তব্য রাখতে ব্যয় করেছিলেন মোট ৭২ মিনিট ৷ ২০১৫ সাল পর্যন্ত সেটিই ছিল স্বাধীনতা দিবসে প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া দীর্ঘতম ভাষণ ৷ ২০১৫ সালে সেই রেকর্ড ভেঙে মোদি দেশবাসীর উদ্দেশ্যে বার্তা দিতে সময় নেন ৮৬ মিনিট ৷ গত বছর সেই নজির ভেঙে স্বাধীনতা দিবসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বক্তব্য পেশ করতে নেন মোট ৯৬ মিনিট ৷ দীর্ঘ এই ভাষণে ধৈর্য হারিয়ে অনেক দেশবাসী তাঁর কাছে অভিযোগ জানান ৷

একাত্তরতম স্বাধীনতা দিবসের ভাষণে রাজধর্ম পালনের বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী। অবিরত রক্তপাত আর হিংসাত্মক ঘটনার সুবাদে নিয়মিত সংবাদ শিরোনামে জম্মু-কাশ্মীর। ভূস্বর্গে শান্তি ফেরাতে আলাপ-আলোচনার উপরেই জোর দিলেন তিনি ৷ তাঁর সংক্ষিপ্ত ভাষণে উঠে আসে কাশ্মীর ও সন্ত্রাসবাদ প্রসঙ্গ। তিনি বলেন, গুলি বা গালাগালি দিয়ে কাশ্মীর সমস্যার সমাধান হবে না। একমাত্র ভালবাসাই এই সমস্যার সমাধান করতে পারে।

লালকেল্লা থেকে রাজধর্ম পালনের বার্তা প্রধানমন্ত্রীর। একইসঙ্গে রাজনৈতিক বার্তাও। একাত্তরতম স্বাধীনতা দিবসে নতুন ভারত গড়ার ডাক দিলেন নরেন্দ্র মোদি। এমন এক ভারত যেখানে কেউ ছোট-বড় নয়, সকলেই সমান। সকলেই ইতিবাচক মানসিকতার। প্রধানমন্ত্রীর ভাষায়, দিব্য ভারত, ভব্য ভারতে জাতপাত বা ধর্মীয় সংকীর্ণতার কোনও স্থান হবে না। একইসঙ্গে তাঁর দাবি, বাংলা-বিহার-ওড়িশার মতো প্রাকৃতিক সম্পদে সমৃদ্ধ রাজ্যগুলির উন্নয়নে বিশেষভাবে নজর দেবে কেন্দ্র।

নরেন্দ্র মোদি জমানায় অসহিষ্ণুতার অভিযোগ উঠেছে বিস্তর। বেড়েছে গোরক্ষার নামে তাণ্ডব, গণপিটুনি, ধর্মের নামে মাতব্বরির কু-অভ্যাস। তাই কি প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে উঠে এল জাতপাত আর সাম্প্রদায়িকতার নামে বিভাজনের রাজনীতি হঠানোর অঙ্গীকার?

বিরোধীদের মতে, উত্তর পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলিতে পদ্ম-ঝড় ইতিমধ্যেই স্পষ্ট। নীতীশকুমারের হাত ধরে বিহারও ঢুকে পড়েছে মোদি-বলয়ে। পূর্ব ভারতে এনডিএ-র গলার কাঁটা একমাত্র বাংলা এবং ওড়িশা। উন্নয়নের মোড়কে কি আদতে এই দুই রাজ্যকে রাজনৈতিক বার্তাই দিলেন নরেন্দ্র মোদি? সেই জল্পনা ক্রমশই জোরাল হচ্ছে।

First published: 05:21:00 PM Aug 15, 2017
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर