বিআরডি মেডিক্যাল কলেজ পরিদর্শেন যোগী আদিত্যনাথ, দায়িত্ব থেকে সরানো হল ডাক্তার কাফিল আহমদকে !

Aug 13, 2017 06:27 PM IST | Updated on: Aug 13, 2017 06:34 PM IST

#গোরখপুর: গোরখপুরের বিআরডি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ৬০টির বেশি শিশুর মৃত্যু। তাতে রাজ্য রাজনীতি তো বটেই, ঝড় উঠল দেশের রাজনীতিতেও। রবিবার বিআরডি মেডিক্যাল কলেজ পরিদর্শন করতে এলেন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ ও কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নাইডু ৷ এই মুখ্যমন্ত্রীর এই পরিদর্শনের সময়ই এনসেফালাইটিস বিভাগ থেকে সরিয়ে দেওয়া হল দায়িত্বপ্রান্ত ডাক্তার কাফিল আহমদকে ৷ ডাক্তার কাফিলের জায়গায় দায়িত্বে এলেন ডাক্তার ভূপেন্দ্র শর্মা ৷

সূত্র থেকে পাওয়া খবর অনুযায়ী, ডাক্তার কাফিল নাকি প্রাইভেট প্র্যাকটিস করতেন ৷ আর সেই অভিযোগেই তাঁকে সরানো হয়েছে ৷

বিআরডি মেডিক্যাল কলেজ পরিদর্শেন যোগী আদিত্যনাথ, দায়িত্ব থেকে সরানো হল ডাক্তার কাফিল আহমদকে !

তবে রবিবার ডাক্তার কাফিল খবরের শিরোনামে উঠে আসে অন্য এক ঘটনায় ৷ যেখানে ধরা পড়ে ডাক্তার কাফিলের অন্যরকম রূপ ৷

সব রাজনীতির উর্ধ্বে গিয়ে গোরখপুরের ডাক্তার কাফিল আহমদ একাই লড়ে গেলেন শিশুমৃত্যু রুখতে৷ যেখানে হাসপাতালের সবাই গভীর নিদ্রায় ডুবে গিয়েছিলেন ৷ আশা ছেড়ে দিয়েছিলেন ৷ সেখানে ডাক্তার কাফিল আহমদই নিজের কাঁধে নিয়ে নিলেন পুরো দায়িত্ব ! সারারাত দৌড়াদৌড়ি করেই জোগান রাখলেন শিশুদের জন্য অক্সিজেন ৷

বৃহস্পতিবার রাত দু’টো নাগাদ হাসপাতালের কর্মীরা এসে ডাক্তার কাফিল আহমেদকে জানান, হাসপাতালে মজুত অক্সিজেন ফুরিয়ে এসেছে। যেটুকু অক্সিজেন রয়েছে, তাতে বড়জোর আর এক ঘন্টা অক্সিজেন সরবরাহ করা যাবে । হাসাপাতালের কর্মীদের মুখে একথা শুনে একবারটিও অন্য কিছু ভাবেননি ডাক্তার কাফিল আহমদ ৷ তোয়াক্কা করেননি সরকারি নিয়ম নীতির ৷ শুধু ভেবেছেন শিশুদের প্রাণের কথা ৷ যেমন ভাবা তেমন কাজ ৷ ডাক্তার কাফিল, নিজের চিকিৎসক বন্ধুদের ফোন করে ১২টি অক্সিজেন সিলিন্ডার জোগাড় করে আনেন হাসপাতালে। ফোন করেন ‘স্বশস্ত্র সীমা বল’-এর ডিআইজিকেও। আপৎকালীন পরিস্থিতিতে সেখান থেকে জোগাড় করা হয় ১০টি সিলিন্ডার।

কিন্তু মোটে ২২ টি অক্সিজেন সিলিন্ডার ! কতক্ষণ রক্ষা করে যাবে শিশুদের প্রাণ? তাই নতুন ভাবনা শুরু করেন ডাক্তার কাফিল৷ জেলার এক সিনিয়র ডাক্তারের কাছ থেকে ছ’টি অতিরিক্ত সিলিন্ডার নিয়ে আসেন সকালে। এলাকার এক ব্যবসায়ী নগদ টাকার বদলে অক্সিজেন সিলিন্ডার দিতে রাজি হলে ডাক্তার কাফিল তাঁর এটিএম কার্ড দিয়ে দেন ওই ব্যবসায়ীকে। ট্রাকে দ্রুত আনা হয় বাড়তি অক্সিজেন সিলিন্ডার। তার ভাড়াও মেটান ওই চিকিৎসকই। ফোন যায় জেলার অন্যান্য হাসপাতালে। শেষমেশ শিশুদের বাঁচাতে পারেনওনি ডাক্তার কাফিল ৷ তবে লড়ে গিয়েছে নিজের শেষটুকু পর্যন্ত ৷ অন্তত শিশু মৃত্যুর সংখ্যাটা তো কমেছে !

RELATED STORIES

RECOMMENDED STORIES