শিক্ষকতায় হারাচ্ছে আগ্রহ, কমছে পড়ুয়ার সংখ্যা, বিএড-এ ভরল না ৫০ শতাংশও আসন !

Jul 13, 2017 06:53 PM IST | Updated on: Jul 13, 2017 07:00 PM IST

#কলকাতা: আর শিক্ষক হতে চাইছেন না অনেকে। শিক্ষকতা পেশায় ধীরে ধীরে কমছে আগ্রহ। এখনও বিএড-এর পঞ্চাশ শতাংশ আসন ফাঁকা। পঞ্চম থেকে দ্বাদশে বিএড বাধ্যতামূলক। তবু কমছে বিএড-এ ভরতির আগ্রহ। শিক্ষক নিয়োগে নানা জটিলতা। হাইকোর্টে শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে একাধিক মামলা । নিয়োগের পরেও মামলায় ঝুলে ভবিষ্যৎ । বহু ক্ষেত্রে আটকে আছে নিয়োগও। তার জেরেই কি আগ্রহ হারাচ্ছেন প্রার্থীরা? প্রশ্ন শিক্ষামহলে।

হারাচ্ছে আগ্রহ। কমছে পড়ুয়ার সংখ্যা। বিএড পড়তে চাইছেন না অনেকেই। বিএড পড়ার পরিসংখ্যানেই তা স্পষ্ট। প্রথম পর্যায়ে ভরতি প্রক্রিয়ার শেষে বিএড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে থাকা কলেজগুলিতে পঞ্চাশ শতাংশ আসনও ভরতি হয়নি। দ্বিতীয় পর্যায়ের ভরতি প্রক্রিয়া চললেও, তাতেও যে খুব একটা আশানুরূপ ফল হবে না সে ব্যাপারে নিশ্চিত বিএ়ড বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

শিক্ষকতায় হারাচ্ছে আগ্রহ, কমছে পড়ুয়ার সংখ্যা, বিএড-এ ভরল না ৫০ শতাংশও আসন !

-----দি ওয়েস্ট বেঙ্গল ইউনিভার্সিটি অফ টিচার্স ট্রেনিং , এডুকেশন , প্ল্যানিং এন্ড অ্যাডমিনিস্ট্রেশন

-----এই বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে রাজ্যে ৩৮৯ টি কলেজ রয়েছে

----১৮ সরকারি , বাকিগুলি বেসরকারি কলেজ

---মোট আসন সংখ্যা ৩৩ হাজার ২৫০

---বেসরকারি কলেজে আসন সংখ্যা ৩২ হাজার

---সরকারি কলেজের ১২৫০ টি আসন

---প্রথম পর্যায়ে ভরতি হয়েছে ১২, ৮৭১ টি আসন

---অর্থাৎ পঞ্চাশ শতাংশ আসনও ভরতি হয়নি

-----দ্বিতীয় পর্যায়ের ভরতি প্রক্রিয়া চললেও গ্রাফ ইতিবাচক নয়

-----সেক্ষেত্রে ত্রিশ থেকে চল্লিশ শতাংশ আসন ফাঁকা থেকে যাবে

বর্ধমান ও সিধু কানহু বিশ্ববিদ্যায়ের অধীনে থাকা দেড়শোটি বিএড কলেজ এখনও অন্তর্ভুক্তি হয়নি। তবে তাদের ভরতির ছবিটাও এক। দ্বিতীয় পর্যায়ে যদি পুরো আসন ভরতি না হয়, সেক্ষেত্রে তৃতীয় পর্যায় ভরতি প্রক্রিয়ার ভাবনা চিন্তা শুরু করা হবে। কেন্দ্রের নির্দেশে ইতিমধ্যেই পঞ্চম থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত বিএড বাধ্যতা মূলক করেছে রাজ্য। টেট দিতে গেলেও লাগবে বিএড। সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে প্রথম পর্যায়ে এত আসন ফাঁকা কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে কলেজ কর্তৃপক্ষের।

শিক্ষায় জটিলতা

-----২০১১-র পর স্কুল সার্ভিস কমিশন মারফত রাজ্যে একবার মাত্র শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে

----ফের টেট নিতে বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে কমিশন

----- ইতিমধ্যেই উচ্চ প্রাথমিকের টেট নিয়েছে এসএসসি

---নবম-দশম ও একাদশ-দ্বাদশের বিষয়ভিত্তিক পরীক্ষাও নিয়েছে স্কুল সার্ভিস কমিশন

---বিষয়ভিত্তিক ফল প্রকাশ করলেও আইনি জটিলতায় আটকে নিয়োগ প্রক্রিয়া

---আইনি জটিলতায় উচ্চপ্রাথমিকের টেটের ফলাফলও প্রকাশ করতে পারেনি কমিশন

---একেকটি নিয়োগ প্রক্রিয়া বহুদিন ধরে চলছে

---নিয়োগ সংক্রান্ত একাধিক মামলা ঝুলে আছে আদালতে

---কখনও স্থগিতাদেশ, কখনও নিয়োগ হলেও নিয়োগের ভবিষ্যত ঝুলে রয়েছে হাইকোর্টের হাতে

বিএড পড়া বাধ্যতামূলক, অথচ পড়ায় অনীহা । ২০১৬ শিক্ষাবর্ষেও বি-এডে আশি শতাংশেরও বেশি ভরতি হয়েছিল। কিন্তু মাঝে শিক্ষক নিয়োগের নানা জটিলতায় বেড়েছে আশঙ্কা। তৈরি হচ্ছে অনিশ্চয়তা। তাই হারাচ্ছে বিএড পড়ার আগ্রহ। মনে করছে শিক্ষাজগতের একাংশ।

RELATED STORIES

RECOMMENDED STORIES