‘‘ মহানায়কের কেরিয়ার এতটাই পজিটিভ যে ‘নেগেটিভ’ দিকগুলো বায়োপিকে না দেখালেও চলে !’’

May 06, 2017 09:31 PM IST | Updated on: May 12, 2017 12:35 AM IST

#কলকাতা:  দক্ষিণ কলকাতার ভবানীপুরের ইন্দিরা সিনেমা হল ৷ সময় তখন দপুর আড়াইটা ৷ মাল্টিপ্লেক্সের যুগে সিঙ্গল স্ক্রিন থিয়েটারের কদর এখন অনেকাংশেই কমে গিয়েছে, তাই সপ্তাহের ব্যস্ত দিনে সিনেমাপ্রেমীদের ভিড় প্রায় নেই বললেই চলে ৷ এমন সময় হঠাৎই সিনেমা হলের মাথায় একটা সাদা-কালো ছবির পোস্টার দেখে থমকে গেলেন পথ-চলতি অনেক মানুষই ৷ অনেকে আবার নিজের কাজ ভুলে কৌতূহলবশত সোজা ঢুকেই পড়লেন পেক্ষাগৃহে ৷ টিকিট কাউন্টারে গিয়ে তাঁদের প্রশ্ন, ‘‘ আচ্ছা স্ত্রী ছবির শো-টাইম কখন ? উত্তম কুমারের স্ত্রী কি আবার রিলিজ করেছে ? ’’

উত্তরটা হল, এটা আসলে একটা সিনেমার সেট ৷ বেশ কয়েকমাস ধরেই মহানায়ক উত্তম কুমারের জীবনের নানা কাহিনী নিয়ে ছবি তৈরির কাজ করছেন পরিচালক প্রবীর রায় ৷ শ্যুটিংয়ের কাজও শেষ ৷ ছবির নাম ‘যেতে নাহি দিব’ ৷ শহরের অন্যান্য বেশ কিছু সিনেমা হলের মতো ভবানীপুরের এই ইন্দিরাতেও ১৯৭২ সালে মুক্তি পেয়েছিল উত্তম কুমার , সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়, আরতি ভট্টাচার্য অভিনীত সুপারহিট ছবি ‘স্ত্রী’ ৷ পরিচালক প্রবীর রায় নিজের বায়োপিকে মহানায়কের কেরিয়ারের বিভিন্ন চড়াই-উতরাই , তাঁর স্টারডমকেই তুলে ধরতে চেয়েছেন ৷ কীভাবে নিজের বিভিন্ন ছবি প্রিমিয়ারের দিন কয়েকশো ভক্তদের সীমাহীন ভালবাসা আর আবেগের ‘শিকার’ হতেন মহানায়ক ৷ নিজের ছবিতে সেটাকেই তুলে ধরতে চেয়েছেন পরিচালক ৷ প্রবীরবাবুর  কথায়, ‘‘এই ছবি প্রচলিত বায়োপিকের আধারে ধরা নেই, আমরা ধরতে চেয়েছি তাঁকে, এক নিষ্ঠাবান নায়কের কাঠামোগত বিশ্লেষনের নিরীখে। এমনই এক নায়ক এর জীবন-দর্শন অনুপ্রাণিত করে আজও, যে অভিনেতা দর্শকদের মনের অনেকটা জুড়ে কর্তৃত্ব করতে পারেন , তিনিই তো সত্যিকারের একজন ‘সুপারস্টার’ বা মহাতারকা।’’

‘‘ মহানায়কের কেরিয়ার এতটাই পজিটিভ যে ‘নেগেটিভ’ দিকগুলো বায়োপিকে না দেখালেও চলে !’’

কিংবদন্তী মানুষ সমাজের সব ক্ষেত্রেই রয়েছেন ৷ কিন্তু যতদিন বাংলা ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি থাকবে, ততদিন প্রকৃত অর্থে ‘কিংবদন্তী’ এবং ‘মহানায়ক’ একজনকেই বোঝাবে, তিনি উত্তম কুমার ৷ তাঁর ভুবনভোলানো হাসি, তাঁর অভিনয়ের দক্ষতা, তাঁর ব্যক্তিত্ব , চিরকালই মুগ্ধ করেছে বাংলার মানুষকে ৷ স্বয়ং সত্যজিৎ রায় বলে গিয়েছেন, উত্তম কুমারকে ঘিরে একটা ইন্ডাস্ট্রি তিন দশক ধরে চলেছে ৷ গোটা বিশ্বে কোথাও এমন নজির নেই ৷ সেই মহানায়ককে নিয়ে ছবি তৈরি করা সহজ কাজ নয় ৷ এখনও পর্যন্ত মহানায়ককে নিয়ে সেভাবে কোনও বায়োপিক তৈরিও হয়নি বাংলা ইন্ডাস্ট্রিতে ৷ কিন্তু সেই কাজেই এবার হাত দিয়েছেন পরিচালক প্রবীর রায় ৷

বাংলা ছবির ‘স্বর্নযুগ’ যে সময়টাকে ধরা হয়, সেসময়  উত্তম কুমার অভিনীত ছবি বছরে প্রায় ১৪-১৫টা মুক্তি পেত ৷ সব ছবিই তখন এক একটা সুপারহিট ৷ পরিচালক প্রবীর রায়ও তাঁর ছবিতে মহানায়ককে যতটা সম্ভব, জীবন্ত করে তুলতে চেয়েছেন ৷ তাঁর মতে, ‘‘ উত্তম কুমার, উত্তম কুমার হয়েছেন তাঁর অভিনয়ের জন্য ৷ ওঁর ব্যক্তিগত জীবন আমি আমার ছবিতে খুব একটা তুলে ধরতে চাইনি ৷ চাইনি কোনও বিতর্কিত কিছু দেখাতেও ৷ কারণ সব মানুষের ব্যক্তিগত জীবনেই অনেক পজিটিভ-নেগেটিভ বিষয় থাকে ৷ ওঁর জীবনে পজিটিভ দিকগুলো এতই বেশি ৷ যে ছোটখাটো নেগেটিভগুলি সিনেমায় আর না দেখালেও চলে ৷ ’’

ছবিতে উত্তম কুমারের ভূমিকায় অভিনয় করতে দেখা যাবে সুজন মুখোপাধ্যায়কে ৷এছাড়া অন্যান্য ভূমিকায় রয়েছেন মল্লিকা সিনহা রায়, উজ্জ্বয়িনী বন্দ্যোপাধ্যায়, প্রিয়া মালাকার, স্বস্তিকা দত্ত, সুদীপ সরকার প্রমুখ৷ ছবির চিত্রনাট্য লিখেছেন অশোক রায় ৷

RELATED STORIES

RECOMMENDED STORIES