প্রায় ৩০ হাজার শিক্ষকের আশঙ্কার অবসান, পিটিটিআই মামলায় জয় রাজ্যের

Jul 22, 2016 05:34 PM IST | Updated on: Jul 22, 2016 07:56 PM IST

#কলকাতা: আশঙ্কা কাটল ২০০৯ সালে নিযুক্ত ২৯ হাজার ৭৭৫ জন শিক্ষকের। অন্যদিকে, ২০০৬ সালের আগে পিটিটিআই শংসাপত্র প্রাপক দুই থেকে আড়াই হাজার নিয়োগপ্রার্থীর নতুন করে চাকরি পাওয়ার আশা শেষ হয়ে গেল ৷

প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ মামলায় জয় পেল রাজ্য । পিটিটিআই ট্রেনিংপ্রাপ্তদের প্রাপ্য বাইশ নম্বরকে মান্যতা দেওয়ার রায় খারিজ করে দিল হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ।

প্রায় ৩০ হাজার শিক্ষকের আশঙ্কার অবসান, পিটিটিআই মামলায় জয় রাজ্যের

২০১০ সালে নিয়োগপত্র পাওয়া এই প্রাথমিক শিক্ষকদের নিয়োগ তালিকা পুনর্বিন্যাস করতে হবে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিল হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ। হাইকোর্টের সৌমিত্র পাল ও মীর দারাশেকোর ডিভিশন বেঞ্চ পিটিটিআই নিয়ে বিচারপতি দেবাংশু বসাকের সিঙ্গল বেঞ্চের নির্দেশ খারিজ করে দিল ।

চলতি বছরের ১২ এপ্রিল হাইকোর্টের বিচারপতি দেবাংশু বসাক পিটিটিআই প্রশিক্ষণপ্রাপ্তদের ২২ নম্বরকে মান্যতা দেন। বলেন, ২০০৯ সালে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নিয়োগের যে তালিকা তৈরি হয়েছিল তা পুনর্বিন্যাস করতে হবে। সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে ডিভিশন বেঞ্চে মামলা করে রাজ্য সরকার। আজ সৌমিত্র পাল ও মীর দারাশেকোর ডিভিশন বেঞ্চ রাজ্যের পক্ষেই রায় দিল।

এর ফলে পিটিটিআই নিয়ে কাটল জটিলতা ৷ এর আগে সিঙ্গল বেঞ্চের রায়ে বিপাকে পড়েছিল রাজ্য এবং একইসঙ্গে ২০০৯-১০ সালে নিযুক্ত প্রাথমিক শিক্ষকদের চাকরি হারানোর আশঙ্কা তৈরি হয় ৷

আরও পড়ুন.

শেষমেষ বেরোচ্ছে টেটের ফল

২০০৬ থেকে ২০১০, মামলা-মকদ্দমা সহ নানা ঘটনার জেরে প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগের পদ্ধতি নিয়েই একাধিক প্রশ্ন উঠেছিল। ২০০৯ সালের পরীক্ষার ভিত্তিতে, ২০১০ সালে নিয়োগপত্র পাওয়া প্রায় ৩০ হাজার প্রাথমিক শিক্ষক আচমকাই চরম সংশয়ে পড়েন।

শিক্ষার অধিকার আইন চালু হওয়ার আগে রাজ্যে প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগের জন্য মানা হত নিয়োগ আইন ২০০১। প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগের রিক্রুটমেন্ট রুল ২০০১ অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট জেলা প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদগুলি প্রাথমিক স্কুলে শিক্ষক নিয়োগ করত। সেই আইন অনুযায়ী জেলায় জেলায় প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগের জন্য বিজ্ঞপ্তি জারি হয় ২০০৬ সালে। প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত পিটিটিআই নিয়োগপ্রার্থীদের পাশপাশি প্রশিক্ষণহীনরাও নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অংশ নেয়। প্রতি জেলায় হাজার হাজার পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় বসে। শেষমেষ ২০০৯-১০ সালে ২০০৬ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ হয়।

নিয়োগের ক্ষেত্রে পিটিটিআই দের জন্য আলাদা করে কোনও সুবিধা দেওয়া হয়নি। ২২ মার্কসকে বাদ রেখেই চূড়ান্ত প্যানেল করে তৎকালীন বাম সরকার। এরপর মামলা গড়ায় সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত। শীর্ষ আদালত জানিয়ে দেয়, সুপ্রিম কোর্টে ২০০৬ সালের আগে পিটিটিআই শংসাপত্র প্রাপকদের ২২ নম্বর মার্কস নিয়ে কোনও নির্দিষ্ট পর্যবেক্ষণ রাখা হয়নি। এরপর পিটিটিআই পরীক্ষার্থীরা মামলা করে হাইকোর্ট।

সেই মামলায় গত ১২ এপ্রিল আমিনা খাতুন মামলায় ২০০৪-০৫ বর্ষ পর্যন্ত পিটিটিআই শংসাপ্রাপ্তদের আবেদনকে মঞ্জুর করে যুগান্তকারী রায় দেয় কলকাতা হাইকোর্ট ৷ বিচারপতি দেবাংশু বসাকের রায়ে দেয়, ২০০৪-০৫ শিক্ষাবর্ষ পর্যন্ত পিটিটি শংসাপত্র প্রাপকদের মেধা অনুযায়ী ২২ নম্বরকে মান্যতা দিতে হবে। ২০০৯ সালে প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ তালিকা প্রয়োজনে পুনর্বিন্যাস করতে হবে।

এই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে ডিভিশন বে়ঞ্চে যায় রাজ্য সরকার। আলাদা ভাবে ২৮৯ জন পিটিটিআই নিয়োগপ্রার্থীও মামলায় অংশ নেন। দীর্ঘ সওয়াল জবাব শেষে শুক্রবার বিচারপতি সৌমিত্র পাল ও মীর দারাশেকোর ডিভিশন বেঞ্চ জানায় ২০০৯ সালের প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ তালিকা নিষ্প্রয়োজন। পাশাপাশি, বিচারপতি দেবাংশু বসাকের নির্দেশ খারিজ করে দেয় ডিভিশন বেঞ্চ।

সিঙ্গল বেঞ্চের নির্দেশ কার্যকর করতে হলে রাজ্য জুড়ে চরম বিপত্তিতে পড়ত প্রাথমিক শিক্ষা সংসদগুলি। পিটিটিআই নিয়োগপত্রের ২২ নম্বরের মধ্যে কে কত নম্বর পেল সেই নম্বর যোগ করে নতুন করে প্রতিটি প্যানেল নতুন করে তৈরি করতে হত। এর ফলে ছয় বছর চাকরি করা ২২ হাজার শিক্ষককে বসিয়ে নতুন করে নিয়োগ তালিকার পিছনের ২২ হাজারকে সামনে আনতে হতো।

RELATED STORIES

RECOMMENDED STORIES