পাহাড় পরিস্থিতির জন্য কেন্দ্রের কাছে আরও আধা সেনা চাইল রাজ্য

Jun 15, 2017 07:59 PM IST | Updated on: Jun 15, 2017 07:59 PM IST

#কলকাতা: মোর্চার জঙ্গি আন্দোলনে রণক্ষেত্র পাহাড়। পুলিশ ও সংবাদমাধ্যমের গাড়ি ও পুলিশ ফাঁড়িতে আগুন। আগুন হিলটপ লজেও। বাহিনীকে লক্ষ করে পেট্রোলবোমা ও চোরাগোপ্তা পাথরবৃষ্টি। আজ পাতলেবাসে মোর্চাপ্রধানের অফিসে পুলিশি অভিযানের পরই শুরু হয় বেলাগাম হিংসা৷ সঙ্গে মোর্চার অফিসে অস্ত্রাগারের খোঁজ, উদ্ধার ওয়ানশটার, উদ্ধার বাক্সভরতি বিস্ফোরক, মিলল ধারালো অস্ত্র, উদ্ধার ক্রস বো ও প্রচুর তির, মিলল বাইনোকুলার, উদ্ধার নাইট ভিশন ক্যামেরা, উদ্ধার প্রচুর মোবাইল ৷ ওই অভিযানের পরেই দাঁত-নখ বের করে শুরু হয় আক্রমণ। পাতলেবাস থেকে বেরনোর মুখে তীব্র বিক্ষোভের মুখে পড়ে পুলিশ বাহিনী। তিন আইপিএস অফিসার সিদ্ধিনাথ গুপ্তা, জাভেদ শামিম ও অজয় নন্দাকে ঘিরেও চলে বিক্ষোভ।

দার্জিলিঙের অশান্ত পরিবেশ নিয়ে কপালে ভাঁজ রাজ্য প্রশাসনের ৷ নবান্ন সূত্রে পাওয়া খবর অনুযায়ী, এরই মাঝে পাহাড় পরিস্থিতির জন্য আধা সেনা চাইল রাজ্য ৷ কেন্দ্রের কাছে আরও ৬-৮ কোম্পানি আধা সেনা চাইল রাজ্য সরকার ৷

পাহাড় পরিস্থিতির জন্য কেন্দ্রের কাছে আরও আধা সেনা চাইল রাজ্য

৮ জুন, ৪৩ বছর পর আজ পাহাড়ে মন্ত্রিসভার বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ৷ পাশাপাশি সেদিনই প্রতিবাদ মিছিল করে মোর্চা ৷ এদিনের মিছিলে মোর্চা প্রধান বিমল গুরুং-সহ উপস্থিত ছিলেন দলের শীর্ষ নেতারা ৷ মোর্চার বিক্ষোভ ঘিরে উত্তপ্ত পাহাড় ৷

এদিন দুপুরে ভানুভবনের সামনে বিক্ষোভ-ধরনা শুরু করে মোর্চা ৷ বিক্ষোভের জেরে সারি সারি আটকে গাড়ি ৷ পুলিশি ব্যারিকেড মোর্চা কর্মীরা ভাঙার চেষ্টা করলে উত্তেজনা ছড়ায় এলাকায় ৷ বিক্ষোভ থেকে পুলিশকে লক্ষ্য করে ছোঁড়া হয় পাথর ৷ পাল্টা কাঁদানে গ্যাস পুলিশের ৷ পুলিশের গাড়িতে আগুন লাগিয়ে দেয় মোর্চা সমর্থকরা ৷ সরকারি বাসেও আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে ৷ আটকে পড়েছে প্রায় ১০ হাজার পর্যটক ৷ ঘটনায় আহত হয়েছেন বেশ কয়েকজন পুলিশকর্মী ৷ পরিস্থিতি সামাল দিতে সেনাকে ডেকে পাঠিয়েছে প্রশাসন ৷ গ্রেফতার করা হয়েছে প্রায় ১৮জন মোর্চা সমর্থককে ৷ পাহাড়ে ১২ ঘণ্টার বনধের ডাক দেয় মোর্চা ৷ তবে তাতেও চিঁড়ে না ভিজলে সোমবার থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য পাহাড়ে বনধ ডাকে মোর্চা ৷

হিংসার চেনা রাস্তাতেই হাঁটল মোর্চা। বৃহস্পতিবার পাতলেবাসে মোর্চা প্রধান বিমল গুরুঙের বাড়ি লাগোয়া মোর্চা দফতরের দরজা ভেঙে ঢোকে পুলিশ। মোর্চার অফিসে অস্ত্রাগারের খোঁজ, উদ্ধার ওয়ানশটার, উদ্ধার বাক্সভরতি বিস্ফোরক, মিলল ধারালো অস্ত্র, উদ্ধার ক্রস বো ও প্রচুর তির, মিলল বাইনোকুলার, উদ্ধার নাইট ভিশন ক্যামেরা, উদ্ধার প্রচুর মোবাইল ৷

ওই অভিযানের পরেই দাঁত-নখ বের করে শুরু হয় আক্রমণ। পাতলেবাস থেকে বেরনোর মুখে তীব্র বিক্ষোভের মুখে পড়ে পুলিশ বাহিনী। তিন আইপিএস অফিসার সিদ্ধিনাথ গুপ্তা, জাভেদ শামিম ও অজয় নন্দাকে ঘিরেও চলে বিক্ষোভ।

এরমধ্যেই পেডং ফাঁড়িতে আগুন। ভাঙচুর পেডং ফাঁড়ির ওসির গাড়িও। সিংমারি ফেরার পথে জায়গায় জায়গায় পুলিশকে লক্ষ করে আচমকা হামলা মোর্চার। ভৌগলিক অবস্থানের সুবিধা নিয়ে উঁচু জায়গা থেকে পাথর ছুড়তে শুরু করে তারা। হামলা হয় নীচ থেকেও। এসপি-র গাড়ি লক্ষ করেও থর ছোড়া হয়। পাথরের ঘায়ে আহত হন কয়েকজন পুলিশকর্মী।

পালটা লাঠিচার্জ, কাঁদানে গ্যাসের শেল ফাটায় পুলিশ। তাতেও অবশ্য মোর্চা সমর্থকদের আটকানো যায়নি। ছোড়া হয় পেট্রোলবোমা। মোর্চার কোপে পড়ে সংবাদমাধ্যম। সংবাদমাধ্যমের একটি গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। জখম হন সাংবাদিকরাও। মোর্চার তাণ্ডব অবশ্য এখানেই থামেনি। কালিম্পংয়ে হিলটপ লজে আগুন ধরানোর চেষ্টা করে মোর্চা সমর্থকরা। পুলিশ যেতেই অবশ্য চম্পট দেয় তারা। উত্তেজনা ছড়ানোর অভিযোগে তিন মোর্চা নেতাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। কার্শিয়ং থেকে গ্রেফতার মোর্চা নেত্রী করুণা গুরুং। পেডং ফাঁড়িতে হামলার অভিযোগে গ্রেফতার মোর্চা নেতা বিনোদ প্রধান। আর কালিম্পঙে গ্রেফতার ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর বরুণ ভুজেল।

RELATED STORIES

RECOMMENDED STORIES