সোশ্যাল মিডিয়ায় গুজবের বলি আরও ১, গুজব-তদন্তে রাজ্য ও কলকাতা পুলিশ

Elina Datta | News18 Bangla
Updated:Jan 23, 2017 05:57 PM IST
সোশ্যাল মিডিয়ায় গুজবের বলি আরও ১, গুজব-তদন্তে রাজ্য ও কলকাতা পুলিশ
Photo : AFP
Elina Datta | News18 Bangla
Updated:Jan 23, 2017 05:57 PM IST

#কলকাতা: সোশ্যাল মিডিয়ায় গুজবের বলি আরও এক। জগদ্দলের রামনগরে গণপিটুনিতে মৃত্যু হল এক ভবঘুরের। রাজ্যে নিহতের সংখ্যা বেড়ে চার। এই পরিস্থিতিতে গুজব রুখতে একযোগে তদন্তে নেমেছে রাজ্য ও কলকাতা পুলিশ। নজরে ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপের বিতর্কিত মেসেজ। চক্রান্তের মাথা খুঁজে কঠোর পদক্ষেপের ইঙ্গিত দিলেন রাজ্য পুলিশের ডিজির।

গুজবে কান দেবেন না। পুলিশ-প্রশাসনের লাগাতার প্রচারেও যে কাজের কাজ হচ্ছে না, ফের একবার তার প্রমাণ মিলল। সোশ্যাল মিডিয়ায় গুজবের জেরে প্রাণ হারালেন আরও একজন। সোমবার উত্তর চব্বিশ পরগনার জগদ্দলে এক ভবঘুরের মৃত্যু হয়। এদিন ভোররাতে জগদ্দলের রামনগরের একটি বাড়ির শৌচালয়ে ঢুকে পড়েন ওই ভবঘুরে। তাঁর মাথা ও শরীরের বিভিন্ন জায়গা থেকে রক্ত ঝড়ছিল। বাসিন্দাদের চেঁচামেচিতে ছুটে আসেন এলাকাবাসী। সকালে তাঁকে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়। স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে গেলে, ওই ভবঘুরেকে মৃত বলে ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা। গুজবের জেরে গণপিটুনিতেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে প্রাথমিক অনুমান পুলিশ এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের।

সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছেলেধরা গুজব মাথাব্যথার কারণ হয়ে উঠেছে পুলিশ-প্রশাসনের। নদিয়া থেকে শুরু হয়ে দ্রুত তা ছড়িয়ে পড়েছে হুগলি, বর্ধমান, উত্তর চব্বিশ পরগনায়।

- ১৬ জানুয়ারি - রানাঘাট

শুরুটা হয়েছিল নদিয়ার রানাঘাট থেকে। ১৬ই জানুয়ারির রাতে, চোর সন্দেহে এলাকাবাসীর রোষের মুখে পড়েন তিন ব্যক্তি। বাড়ি ফেরার পথে বেধরক মারধর করা হয় ফুলব্যবসায়ী মিলন মণ্ডল, কাঠমিস্ত্রি টোটোন অধিকারী এবং রাজমিস্ত্রি তাপস দাসসে। পরে পুলিশ এসে তিনজনকে উদ্ধার করে। হামলার অভিযোগে কয়েকজনকে আটক করলেও, জিজ্ঞাসাবাদের পর ছেড়ে দেয় পুলিশ।

১৮ জানুয়ারি - কল্যাণী

১৮ই জানুয়ারি একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি নদিয়ার কল্যাণীতে। কল্যাণীর গয়েশপুরের গোকূলপুরে দুই ভবঘুরেকে ছেলেধরা সন্দেহে বেধরক মারধর করেন স্থানীয়রা। তাদের উদ্ধার করতে গেলে, পুলিশকে ঘিরেও বিক্ষোভ দেখান এলাকাবাসী। ধস্তাধস্তির পর পুলিশের গাড়িতে হামলা চালায় উত্তেজিত জনতা। পরিস্থিতি মোকাবিলায় নামানো হয় র‍্যাফ। অশান্তির অভিযোগে ৫ জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

২০ জানুয়ারি - কালনা

সকাল সাড়ে ৯টা। ছেলেধরা সন্দেহে কালনায় পাঁচজন ব্যক্তিকে মারধর করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁদের বর্ধমান মেডিক্যালে ভরতি করে পুলিশ। হাসপাতালেই নদিয়ার হবিবপুরের বাসিন্দা অনিল বিশ্বাসের মৃত্যু হয়। বেলা দেড়টা নাগাদ, বেসরকারি সংস্থার হয়ে সমীক্ষার কাজে গিয়ে আক্রান্ত হয় ১২ জনের একটি দল। যারমধ্যে ৯জন মহিলা ছিলেন। ছেলেধরা গুজবে তাঁদের আটকে রেখে মারধর করে এলাকাবাসী। তাঁদের উদ্ধার করতে গেলে আক্রান্ত হয় পুলিশও। ভাঙচুর করা হয় অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের গাড়ি।

 ২১ জানুয়ারি - বলাগড়

শনিবার কালনার রেশ গিয়ে পড়ে নদিয়ার হবিবপুরে। অনিল বিশ্বাসের মৃত্যুর প্রতিবাদে চৌত্রিশ নম্বর জাতীয় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখান তার পরিবার ও প্রতিবেশীরা। শনিবার বলাগড় থেকে নিজের গাড়িতে বাড়ি ফিরছিলেন কল্যাণীর বাসিন্দা রঞ্জুবালা ঘোষ। সঙ্গে ছিলেন তাঁর স্কুলশিক্ষিকা মেয়ে অপর্ণাও। বলাগড়ের আসানপুরের কাছে কোনও কারণে গাড়ি থামান তাঁরা। সেটাই মস্ত বড় ভুল হয়ে দাঁড়ায়। ছেলেধরা সন্দেহে দিনেদুপুরে দুই মহিলার ওপর চড়াও হন স্থানীয় বাসিন্দারা। মারধর করা হয় গাড়ির চালককেও। গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয় উত্তেজিত জনতা। ঘটনায় ১১ জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

 ২১ জানুয়ারি - পতলা

শিশুচোর সন্দেহে দুই ভবঘুরেকে মার। হাসপাতালে মৃত্যু একজনের।

এই পরিস্থিতিতে গুজবের মোকাবিলায় যৌথ তদন্তে নেমেছে রাজ্য এবং কলকাতা পুলিশ। সাহায্য নেওয়া হচ্ছে সাইবার বিশেষজ্ঞদেরও। সোমবার ভাবনী ভবনে রাজ্য পুলিশের ডিজি জানান, অশান্তি ছড়াতে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবেই রটানো হচ্ছে গুজব।

ভবানী ভবনে এদিন  ডিজি সুরজিৎ কর পুরকায়স্থ   বলেন , ‘পরিকল্পিত ভাবে কেউ এটা করছে ৷ গুজব ছড়ানো অপরাধ ৷ কলকাতা পুলিশ নজর রাখছে  ৷ চারিদিকে নিরীহ মানুষ মার খাচ্ছেন ৷ অসামাজিক কাজ হচ্ছে, অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা চলছে ৷ যারা একাজে জড়িত,  তাদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে ৷ এখনও পর্যন্ত ২৫ জনকে  গ্রেফতার করা হয়েছে ৷ ’

তদন্তে নেমে ফেসবুক ও হোয়াটসঅ্যাপের মতো জনপ্রিয় সোশ্যাল মিডিয়াগুলিতে নজরদারি চালাচ্ছে পুলিশ। বিতর্কিত মেসেজগুলি উ‍ৎস সন্ধানে আইপি অ্যাড্রেস খোঁজার চেষ্টা চালাচ্ছে পুলিশের সাইবার ক্রাইম বিভাগ।

ধৃতদের বিরুদ্ধে খুন, খুনের চেষ্টা এবং উষ্কানি দেওয়ার অভিযোগে মামলা দায়ের হয়েছে। পাশাপাশি, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে তথ্যপ্রযুক্তি আইনেও মামলা করা হয়েছে ।

First published: 05:57:38 PM Jan 23, 2017
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर