সোশ্যাল মিডিয়ায় গুজবের আতঙ্কে মৃত্যু নিরীহদের, কিন্তু কেন এমন মারণ আকার নিল গুজব

Elina Datta | News18 Bangla
Updated:Jan 22, 2017 05:54 PM IST
সোশ্যাল মিডিয়ায় গুজবের আতঙ্কে মৃত্যু নিরীহদের, কিন্তু কেন এমন মারণ আকার নিল গুজব
Photo : AFP
Elina Datta | News18 Bangla
Updated:Jan 22, 2017 05:54 PM IST

#কলকাতা: সোশ্যাল মিডিয়ায় ছেলেধরা গুজবে পোস্ট। আর তার জেরেই রাজ্যজুড়ে একের পর এক জায়গায় ছড়াচ্ছে আতঙ্ক। প্রাণ হারাচ্ছেন নিরীহ মানুষ। আক্রান্ত হচ্ছে পুলিশও। গুজবের মোকাবিলায় পালটা প্রচারে নেমেছে পুলিশ-প্রশাসনও। তাতেও গুজবের আতঙ্কে যে ভাটা পড়ছে না, নদিয়ার রানাঘাট, কল্যাণী থেকে শুরু করে হুগলির বলাগড়ের ঘটনাই তার প্রমাণ।

শুরুটা হয়েছিল নদিয়ার রানাঘাট থেকে। ১৬ই জানুয়ারির রাতে, চোর সন্দেহে এলাকাবাসীর রোষের মুখে পড়েন তিন ব্যক্তি। বাড়ি ফেরার পথে বেধরক মারধর করা হয় ফুলব্যবসায়ী মিলন মণ্ডল, কাঠমিস্ত্রি টোটোন অধিকারী এবং রাজমিস্ত্রি তাপস দাসসে। পরে পুলিশ এসে তিনজনকে উদ্ধার করে। হামলার অভিযোগে কয়েকজনকে আটক করলেও, জিজ্ঞাসাবাদের পর ছেড়ে দেয় পুলিশ।

 ১৮ই জানুয়ারি একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি নদিয়ার কল্যাণীতে। কল্যাণীর গয়েশপুরের গোকূলপুরে দুই ভবঘুরেকে ছেলেধরা সন্দেহে বেধরক মারধর করেন স্থানীয়রা। তাদের উদ্ধার করতে গেলে, পুলিশকে ঘিরেও বিক্ষোভ দেখান এলাকাবাসী। ধস্তাধস্তির পর পুলিশের গাড়িতে হামলা চালায় উত্তেজিত জনতা। পরিস্থিতি মোকাবিলায় নামানো হয় র‍্যাফ। অশান্তির অভিযোগে ৫ জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

শুক্রবার সকাল সাড়ে ৯টা। ছেলেধরা সন্দেহে কালনায় পাঁচজন ব্যক্তিকে মারধর করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁদের বর্ধমান মেডিক্যালে ভরতি করে পুলিশ। হাসপাতালেই নদিয়ার হবিবপুরের বাসিন্দা অনিল বিশ্বাসের মৃত্যু হয়। বেলা দেড়টা নাগাদ, বেসরকারি সংস্থার হয়ে সমীক্ষার কাজে গিয়ে আক্রান্ত হয় ১২ জনের একটি দল। যারমধ্যে ৯জন মহিলা ছিলেন। ছেলেধরা গুজবে তাঁদের আটকে রেখে মারধর করে এলাকাবাসী। তাঁদের উদ্ধার করতে গেলে আক্রান্ত হয় পুলিশও। ভাঙচুর করা হয় অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের গাড়ি।

শনিবার কালনার রেশ গিয়ে পড়ে নদিয়ার হবিবপুরে। অনিল বিশ্বাসের মৃত্যুর প্রতিবাদে চৌত্রিশ নম্বর জাতীয় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখান তার পরিবার ও প্রতিবেশীরা।

 শনিবার বলাগড় থেকে নিজের গাড়িতে বাড়ি ফিরছিলেন কল্যাণীর বাসিন্দা রঞ্জুবালা ঘোষ। সঙ্গে ছিলেন তাঁর স্কুলশিক্ষিকা মেয়ে অপর্ণাও। বলাগড়ের আসানপুরের কাছে কোনও কারণে গাড়ি থামান তাঁরা। সেটাই মস্ত বড় ভুল হয়ে দাঁড়ায়। ছেলেধরা সন্দেহে দিনেদুপুরে দুই মহিলার ওপর চড়াও হন স্থানীয় বাসিন্দারা। মারধর করা হয় গাড়ির চালককেও। গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয় উত্তেজিত জনতা। ঘটনায় ১১ জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

স্যোশাল মিডিয়ার গুজব ও তার জেরে আতঙ্কের আরেকটি উদাহরণ উত্তর ২৪ পরগনার পতলা। শনিবার দুপুরে পতলার পাঁচ নম্বর কলোনি এলাকায় শিশু চোর সন্দেহে জনরোষের মুখে পড়েন দুই ভবঘুরে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁদের বারাকপুর বিএন বসু হাসপাতালে নিয়ে গেলে, এক অজ্ঞাতপরিচয় ভবঘুরেকে মৃত বলে ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা।

প্রথমে গুজব। তারপর আতঙ্ক। সেখান থেকে নির্বোধের মতো হামলা। রাজ্যজুড়ে বারবার একই ধরনের ঘটনায় চিন্তিত পুলিশ-প্রশাসন।

First published: 05:54:59 PM Jan 22, 2017
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर