কে এই পার্থ দে ? এক নজরে দেখে নিন গায়ে কাঁটা দেওয়া রবিনসনস্ট্রিট কঙ্কাল কাণ্ড

Dolon Chattopadhyay | News18 Bangla
Updated:Feb 21, 2017 06:33 PM IST
কে এই পার্থ দে ? এক নজরে দেখে নিন গায়ে কাঁটা দেওয়া রবিনসনস্ট্রিট কঙ্কাল কাণ্ড
Photo : AFP
Dolon Chattopadhyay | News18 Bangla
Updated:Feb 21, 2017 06:33 PM IST

#কলকাতা: যেন বৃত্ত সম্পূর্ণ হল ।  গায়ে আগুন দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করলেন পার্থ দে।  তার আগেই হার্টফেল করে মৃত্যু হল তিন নম্বর রবিনসন স্ট্রিটের একমাত্র জীবিত সদস্য পার্থ দের।  দু’বছর আগে গায়ে আগুন দিয়েই আত্মহত্যা করেন পার্থর বাবা অরবিন্দ দে।  তাঁর দেহ উদ্ধারে গিয়ে মেলে মেয়ে দেবযানীর কঙ্কাল।  দীর্ঘ ছমাস এই কঙ্কালের সঙ্গে বাবা-ভাইয়ের সহাবস্থান চমকে দিয়েছিল সকলকে। দু’বছর পর রবিনসন স্ট্রিট থেকে দূরে ওয়াটগঞ্জের একটি আবাসনে আত্মহত্যা করলেন পার্থ দে।

১১ জুন, ২০১৫

চমকে উঠেছিল কলকাতা। দিদির কঙ্কালের সঙ্গে দীর্ঘ ছমাস ঘর করেছেন শেকসপিয়র সরণীর তিন নম্বর রবিনসন স্ট্রিটের বাসিন্দা পার্থ দে।  কিভাবে সম্ভব? মানসিক বিকার? না কী  অন্য  কিছু। মনস্তত্বের আলোচনায় উঠে এসেছিল নানা দিক।

১০ জুন, ২০১৫

৩ নম্বর রবিনসন স্ট্রিটের বাড়ির শৌচাগারে গায়ে আগুন দিয়ে আত্মহত্যা করেন পার্থ দে-র বাবা অরবিন্দ দে।  শৌচাগার থেকে উদ্ধার হয় দেহ পাশে স্যুইসাইডাল নোট। দেহ ময়নাতদন্তে পাঠানোর পর বাড়ির বাইরে বসে পুলিশ পাহারা।  পুলিশের সামনেই রাতভর চলে ছেলে পার্থ দে-র অস্বাভাবিক আচরণ।। ঘরের মধ্যেই দৌড়াদৌড়ি। দেওয়ালে ঘুষি মারা, মাথা ঠোকা।

রাত যত গড়ায় , বাড়ে অস্বাভাবিকতা। খবর যায় পুলিশের বড়কর্তাদের কাছে। বাড়িতে এসে তাঁরা জেরা করেন প্রাক্তন আইটি কর্মী পার্থকে। এরপর যা প্রকাশ্যে আসে, তাতে চোখ কপালে দুঁদে পুলিশকর্তাদের।  ফ্ল্যাটের মধ্যে তল্লাশি চালাতে গিয়ে পার্থর ঘরে মেলে আস্ত মানুষের কঙ্কাল। সঙ্গে দুটি কুকুরের কঙ্কালও। চারদিকে  ছড়ানো ছিটানেো খাবার । ঠান্ডা পানীয়ের বোতল।  ধূপ-ধূনো। এখানেই শেষ নয়।  সবকটি ঘরেই স্ত্রোত্রপাঠের রেকর্ডিং চালানো। কঙ্কালগুলির পাশে টেডিবিয়ার, আধ খাওয়া কেক, প্রচুর আধ্যাত্মিক বই।

পুলিশি জেরায় পার্থর অকপট স্বীকারক্তি, দিদি দেবযানীর হাড়গোড় সর্বস্ত কঙ্কালের সঙ্গেই টানা ছ মাস থেকেছেন তিনি।  দিদিকে খাইয়েছেন।  যত্ন করেছেন।  গোটা ঘটনায় হতচকিত হলেও, মনোবিদরা জানাচ্ছেন নিজের সবচেয়ে প্রিয় মানুষে্র মৃত্যুর পর তাকে জীবিত ভাবার তাৎক্ষনিক মানসিকতা স্বাভাবিক। তবে পার্থ দে-র মত কিছু ব্যতিক্রমী ঘটনাও রয়েছে। যে মানসিক বিকৃতি সময়ের সঙ্গে আরও চরমে ওঠে। ডাক্তারি ভাষায় যার নাম প্যাথলজিকাল গ্রিফ।

১১ জুন, ২০১৫-

পার্থকে ভর্তি করা হয় পাভলভ মানসিক হাসপাতালে।  প্রথমে অস্বাভাবিক আচরণ করলেও, পরে ধীরে ধীরে শান্ত হয়ে আসেন তিনি।  সাড়াও দেন চিকিৎসায় ।  পরে তাঁকে ভরতি করা হয় ইনস্টিটিউট অফ সাইকিয়াট্রিতে। চলে দীর্ঘ চিকিৎসা।

৩০ সেপ্টেম্বর, ২০১৫

সুস্থ হয়ে ফিরে আসেন পার্থ দে। একা।  রবিনসন স্ট্রিটের বাড়িতে ফিরতে চাননি আর। চলে যান  মাদার হাউজে।  সেখান থেকে খড়দহের মাদার হাউজের আরেকটি শাখায়।

২০১৬

খড়দহ থেকে চলে আসেন ওয়াটগঞ্জের আবাসনে। গত দেড় বছর এখানকার ১১ ই ফ্ল্যাট থাকতেন তিনি।   মঙ্গলবার সেখানেই শৌচাগারে গায়ে আগুন লাগিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন পার্থ দে।  তার আগেই হার্ট অ্যাটাক করে মৃত্যু হয় তাঁর।

সুস্থ হয়ে উঠেছিলেন পার্থ দে। তবু কেন আত্মহত্যার চেষ্টা?  ফের কী  মনোরোগে আক্রান্ত হয়েছিলেন পার্থ? অনেক  প্রশ্নের উত্তর খুঁজছেন মনোবিদরা।  তবে পার্থর মৃত্যুতে আক্ষরিক অর্থেই বৃত্ত সম্পূর্ণ হল তিন নম্বর  রবিনসন স্ট্রিটের ।

First published: 06:33:57 PM Feb 21, 2017
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर