সরকারি অফিসের ঘড়িকেই দোষ দিচ্ছেন কর্মচারীরা, কিন্তু কেন!

Elina Datta | News18 Bangla
Updated:Jul 03, 2017 08:17 PM IST
সরকারি অফিসের ঘড়িকেই দোষ দিচ্ছেন কর্মচারীরা, কিন্তু কেন!
Photo : AFP
Elina Datta | News18 Bangla
Updated:Jul 03, 2017 08:17 PM IST

#কলকাতা: টেবিলে অপেক্ষা করছে মোটা মোটা ফাইল। কখন সাফসুতরো হয়ে বাবুরা বসবেন। রেডি চেয়ারও। আলো-পাখারও অবিরাম ঘোরায় ক্লান্তি নেই। কিন্তু যাঁদের জন্য এত আয়োজন, তাঁরা কোথায়?

ঘড়ির কাঁটায় সকাল দশটা বেজে গেলেও খাঁখাঁ করছে সরকারি অফিস। ২০১১ থেকে এখনও পর্যন্ত পাঁচবছরে জেলায় জেলায় প্রায় ১৬০টি প্রশাসনিক বৈঠক করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। ওয়ার্ক কালচার ফেরাতে আধিকারিকদের বারবার সতর্ক করেছেন। নবান্নকে নিয়ে গিয়েছেন জেলাতেও। কিন্তু অসুখ যে তিমিরে ছিল সেই তিমিেরই। দেরি করে হাজিরার অভ্যেস ছাড়তেই পারছেন না সরকারি কর্মীরা।

৩০ জুন। শুক্রবার। আগের দিনই বর্ধমানে প্রশাসনিক সভায় দফতর ধরে ধরে কাজের অগ্রগতির হিসেব নিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। বরাবরের মতো বকেয়া কাজ দ্রুত শেষ করতে আধিকারিকদের পরামর্শও দিয়েছেন। পরের দিন জেলাশাসকের দফতরের পাশে সেচ ও জলসম্পদ দফতরের অফিসে পৌঁছাতে দেখা গেল ফাঁকা অফিস।

ততক্ষণে অবশ্য সকাল দশটা বেজে গিয়েছে। কিন্তু একী! কর্মীরা কোথায়? সাঁকো বিভাগে বাঁই বাঁই করে ফ্যান ঘুরছে। হাওয়া খেতে পৌঁছতে পারেননি কেউই। টেবিলে ফাইলের স্তূপ থেকে একটাও যদি খোলা হত!

কাটল আরও পঁচিশ মিনিট । সরকারি কর্মী খুঁজতে এবার গন্তব্য দোতলায় এস্টাবলিশমেন্ট বিভাগ। এখানেও পাওয়া গেল না কাউকেই। যিনি ছিলেন তিনি তখনও অন্যদের আসার অপেক্ষায়।

পাশেই রেকর্ড সেকশন। দূর থেকে দেখা যায় টেবিলে ফাইলের হিমালয়। ফাইল পাস করে অফিস ধন্য করতে হাজির নেই কেউই। যদিও দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিক, সহকর্মীদের ঢালাও প্রশংসায় ব্যস্ত। তিনি সময়ে এসেছেন এই ঢের!

ঘড়ির কাঁটা জানান দিল দশটা পঁয়ত্রিশ। অপেক্ষাই সার। এস্টাবলিশমেন্ট বিভাগে গিয়ে আগের ছবির অদলবদল কিন্তু ঘটল না। খানিকক্ষণ পর হেলতে দুলতে ঢুকলেন শেখ বদরুদ্দোজা। তিনি তো আবার অফিসের ঘড়িকেই যত দোষ দিলেন।

অফিসের ঘড়ি যদি সময়মতো নাই চলে, তাহলে কী করেই বা কাজের গতি আসবে? চেয়ারে বসে ঢুলতে লাগলেন বদরুদ্দোজা। গ্রিন সিগন্যাল পেলেই হয়তো পায়ে জুতো গলিয়ে বাড়ি হাঁটা দেবেন সরকারি কর্মচারী।

ঘরে আলো পাখা জ্বালিয়েই এগজিকিউটিভ ইনজিনিয়রও যেন কোথায় চলে গিয়েছেন। নিচের ঘরের তাপসবাবু অফিসে একদিন ঠিকসময়ে এসে পড়েছেন । তাই একটু ঘোরাঘুরি করে চাঙ্গা হচ্ছিলেন। কাজে বসার ফুরসতই হয়নি।

কার্যত আতসকাঁচ নিয়ে তন্নতন্ন করে খুঁজতে হল সরকারি বাবুদের। নিপাট নির্দ্বিধায় ঢিলেমি দিয়েছেন কর্মচারীরা। নিয়মের গেরোয় পড়লে অজুহাত আছেই। কারণ, ঘড়িটা যে ফাস্ট আছে দাদা।

First published: 08:17:32 PM Jul 03, 2017
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर