সফল পুরুলিয়ার সুচবিদ্ধ শিশুর অস্ত্রোপচার, ৪৮ ঘণ্টা রাখা হয়েছে পর্যবেক্ষণে

Elina Datta | News18 Bangla
Updated:Jul 18, 2017 04:41 PM IST
সফল পুরুলিয়ার সুচবিদ্ধ শিশুর অস্ত্রোপচার, ৪৮ ঘণ্টা রাখা হয়েছে পর্যবেক্ষণে
Photo : AFP
Elina Datta | News18 Bangla
Updated:Jul 18, 2017 04:41 PM IST

#কলকাতা: পুরুলিয়ার সুচবিদ্ধ শিশুর সফল অস্ত্রোপচার এসএসকেএমে। দু’ঘণ্টার অপারেশনে শিশুকন্যার শরীর থেকে সাতটি সুচই বের করা গিয়েছে। আজ দফায় দফায় আলোচনার পর অপারেশন করে সাত সদস্যের মেডিক্যাল বোর্ড। শইশুটিকে আপাতত ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটে আটচল্লিশ ঘণ্টা পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।

সাড়ে তিন বছরের ছোট্ট শরীর। বিকৃতকাম বয়স্ক সেই শরীরেই গেঁথে দিয়েছে সাত সাতটি সুচ। বুকে-পিঠে-মেরুদণ্ডে এমনকী যৌনাঙ্গেও নানা আঘাতের চিহ্ন। শনিবার, এমন পরিস্থিতিতে পুরুলিয়ার শিশুকন্যাকে ভরতি করা হয় এসএসকেএমে। শিশুটির যন্ত্রণামুক্তির উপায় কী? উপযুক্ত চিকিৎসার জন্য তৈরি হয় মেডিক্যাল বোর্ড।

সফল অস্ত্রোপচার

- মেডিক্যাল বোর্ডে ৫ সার্জন ও ২ অ্যানাস্থেসিস্ট

- দফায় দফায় আলোচনা করে মেডিক্যাল বোর্ড

- মঙ্গলবার অপারেশন টেবিলেও একদফা আলোচনা চলে

- সকাল ১১.৩৫ থেকে দুপুর ১.৩৫ পর্যন্ত চলে অপারেশন

শেষপর্যন্ত, সফল হয় অস্ত্রোপচার। অস্ত্রোপচার সফল হলেও ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটে শিশুকন্যাটিকে আটচল্লিশ ঘণ্টা পর্যবেক্ষণে রেখেছেন চিকিৎসকরা।

যৌনাঙ্গে একাধিক ক্ষত। চোখের তলায় পুরু কালো দাগ । সারা শরীরে অসংখ্য কালশিটে। শিশুর বয়স মাত্র সাড়ে তিন বছর। এই নারকীয় অত্যাচার চালিয়েছে পঁয়ষট্টি বছরের সনাতন ঠাকুর। যার সঙ্গেই থাকত শিশুটির মা। অভিযুক্তের খোঁজ মেলেনি। এসএসকেএমে চিকিৎসা চলছে শিশুটির।

গত মঙ্গলবার, পুরুলিয়া সদর হাসপাতালে সাড়ে তিন বছরের শিশুকন্যাকে জ্বর নিয়ে ভরতি করতে যায় মা। শিশুর গায়ে অসংখ্য ক্ষত, সারা শরীরে কালশিটে দাগ, এমনকী যৌনাঙ্গেও বীভৎস ক্ষতচিহ্ন স্পষ্ট। চিকিৎসকরা একনজরেই বুঝতে পারেন, শিশুটি মানসিক ও শারীরিকভাবে চরম নির্যাতনের শিকার। যদিও চুপ ছিল মা। হাসপাতাল থেকেই সদর থানায় ঘটনা জানানো হয়। কিন্তু কোনও অভিযোগ না পেয়ে ফিরে যায় পুলিশ। পরে সাংবাদিকদের হস্তক্ষেপে বেরিয়ে আসে মূল অভিযুক্ত সনাতন ঠাকুরের নাম।

মেয়ের উপরে এরকম অত্যাচারের পরেও কেন মুখ খোলেননি মা? জানা গিয়েছে, স্বামী পরিত্যক্তা ওই মহিলা পুরুলিয়ার মফস্বল থানার সতরো এলাকায় থাকত। বছর পঁয়ষট্টির বিপত্নীক সনাতন নদিয়াড়ায় গ্রামের বাড়িতে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে মহিলাকে নিয়ে থাকতে শুরু করে। অভিযুক্তকে বাঁচাতেই মহিলা প্রথমে নাম বলেননি বলে অভিযোগ। শিশুটি সনাতনকে পছন্দ না করায় চলত নির্যাতন। মারধর তো বটেই, সাড়ে তিন বছরের শিশু রেহাই পায়নি বৃদ্ধের বিকৃত লালসা থেকেও। যৌনাঙ্গে একাধিক ক্ষত থেকেই তা স্পষ্ট। এক্স-রে রিপোর্ট বলছে, শিশুর শরীরে ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছে সাতটি সুচও। পুরুলিয়া সদর হাসপাতালে বোর্ড গড়ে শুরু হয় শিশুর চিকিৎসা। অবস্থার অবনতি হওয়ায় পাঠানো হয় বাঁকুড়া মেডিক্যালে। সেখান থেকে কলকাতার এসএসকেএমে পাঠানো হয় তাকে।

First published: 04:01:08 PM Jul 18, 2017
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर