যৌন নির্যাতনের শিকার পুরুলিয়ার শিশুর চিকিৎসায় মেডিক্যাল বোর্ড গঠন

Jul 17, 2017 10:10 AM IST | Updated on: Jul 17, 2017 10:10 AM IST

#কলকাতা: পুরুলিয়ায় শিশুকে সুচ ফুটিয়ে যৌন নির্যাতনের ঘটনায় শিশুর চিকিৎসায় মেডিক্যাল বোর্ড গঠন করা হল ৷ SSKM-এ ৫ সদস্যের মেডিক্যাল বোর্ড গঠন করা হয়েছে ৷ চিকি‍ৎসক আর.পাত্রের নেতৃত্বে বোর্ড গঠন হয়েছে ৷ আগামীকাল, মঙ্গলবার শিশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করবেন বোর্ডের সদস্যরা ৷ তবে এখনই হচ্ছে না অস্ত্রোপচার ৷ শরীরে ফ্লুইড কম থাকায় এখনই অস্ত্রোপচার নয় ৷ শিশুর শরীরে এখনও ৭টি সুচ রয়েছে বলে  জানিয়েছেন চিকিৎসকরা ৷

গত মঙ্গলবার পুরুলিয়া সদর হাসপাতালে সাড়ে তিন বছরের শিশুকন্যাকে জ্বর নিয়ে ভর্তি করতে যায় মা। শিশুর গায়ে অসংখ্য ক্ষত, সারা শরীরে কালশিটে দাগ, এমনকী যৌনাঙ্গেও বীভৎস ক্ষতচিহ্ন স্পষ্ট। চিকিৎসকরা একনজরেই বুঝতে পারেন, শিশুটি মানসিক ও শারীরিকভাবে চরম নির্যাতনের শিকার। যদিও চুপ ছিল মা। হাসপাতাল থেকেই সদর থানায় ঘটনা জানানো হয়। কিন্তু কোনও অভিযোগ না পেয়ে ফিরে যায় পুলিশ। পরে সাংবাদিকদের হস্তক্ষেপে বেরিয়ে আসে মূল অভিযুক্ত সনাতন ঠাকুরের নাম।

যৌন নির্যাতনের শিকার পুরুলিয়ার শিশুর চিকিৎসায় মেডিক্যাল বোর্ড গঠন

Representational Image

মেয়ের উপরে এরকম অত্যাচারের পরেও কেন মুখ খোলেননি মা ? জানা গিয়েছে, স্বামী পরিত্যক্তা ওই মহিলা পুরুলিয়ার মফস্বল থানার সতরো এলাকায় থাকত। বছর পঁয়ষট্টির বিপত্নীক সনাতন নদিয়াড়ায় গ্রামের বাড়িতে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে মহিলাকে নিয়ে থাকতে শুরু করে। অভিযুক্তকে বাঁচাতেই মহিলা প্রথমে নাম বলেননি বলে অভিযোগ। শিশুটি সনাতনকে পছন্দ না করায় চলত নির্যাতন। মারধর তো বটেই, সাড়ে তিন বছরের শিশু রেহাই পায়নি বৃদ্ধের বিকৃত লালসা থেকেও। যৌনাঙ্গে একাধিক ক্ষত থেকেই তা স্পষ্ট। এক্স-রে রিপোর্ট বলছে, শিশুর শরীরে ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছে সাতটি সুচও। পুরুলিয়া সদর হাসপাতালে বোর্ড গড়ে শুরু হয় শিশুর চিকিৎসা। অবস্থার অবনতি হওয়ায় পাঠানো হয় বাঁকুড়া মেডিক্যালে। সেখান থেকে কলকাতার এসএসকেএমে পাঠানো হয় তাকে।

নিজের স্বার্থসিদ্ধির জন্য শিশুর উপর অত্যাচার হলেও কীভাবে চুপ ছিল মা ? কীভাবে এক বিকৃতকাম বৃদ্ধকে সঙ্গ দিয়ে যায় শিশুরই মা ? তার ভূমিকা নিয়েও তাই প্রশ্ন উঠছে।

RELATED STORIES

RECOMMENDED STORIES