‘গুরুং আগে পাহাড়ের হাবিলদার হন,তারপর পাহাড়ের মুখ্যমন্ত্রী হবেন’, মন্তব্য মন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়

Jun 09, 2017 05:41 PM IST | Updated on: Jun 09, 2017 05:41 PM IST

#কলকাতা: তৃণমূল মহাসচিবের তীব্র আক্রমণ মোর্চা প্রধান বিমল গুরুংকে ৷ এর আগে গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার প্রধান বিমল গুরুং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্দেশ্যে কটাক্ষ করে বলেন, তিনিই নাকি পাহাড়ের মুখ্যমন্ত্রী ৷ একইসঙ্গে খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে হুঁশিয়ারি দেন, পাহাড়ে যেন অশান্তি না হয় ৷

গুরুংয়ের সেই বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে এদিন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের পাল্টা আক্রমণ ৷ মোর্চা প্রধানের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘গুরুং আগে পাহাড়ের হাবিলদার হন ৷ তারপর পাহাড়ের মুখ্যমন্ত্রী হবেন৷ পাহাড়ে বাংলা চতুর্থ ভাষা অর্থাৎ ঐচ্ছিক ৷ পাহাড়ে সরকারি সম্পত্তি ভাঙচুর ৷ প্রশাসন এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেবে ৷’

‘গুরুং আগে পাহাড়ের হাবিলদার হন,তারপর পাহাড়ের মুখ্যমন্ত্রী হবেন’, মন্তব্য মন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়

গতকাল পাহাড়ে মন্ত্রিসভার বৈঠক চলাকালীন জঙ্গি আন্দোলনে নামে মোর্চা। পুলিশকে পাথর ও গাড়িতে আগুন দেওয়া হয়। ভানুভক্ত ভবনে নিরাপদ আশ্রয় থেকে কার্যত কন্ট্রোল রুম খুলে আন্দোলন নিয়ন্ত্রণ করলেন বিমল গুরং সহ মোর্চা নেতৃত্ব। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেনা তলব করেছে রাজ্য সরকার। শুক্রবার ১২ ঘণ্টা বনধ-এর ডাক দিয়েছে মোর্চা। সবমিলিয়ে রণক্ষেত্র পাহাড়। আতঙ্কে পাহাড় ছাড়তে শুরু করেছে পর্যটকরা।

জঙ্গি আন্দোলনের পথ নেয় গোর্খা জনমুক্তি মোর্চা। পাথরবৃষ্টি আর লাঠিচার্জের মধ্যে আগুন জ্বলে একের পর এক গাড়িতে। বৃষ্টির মতো পাথর উড়ে আসে পুলিশের দিকে। তাতে মাথা ফেটে যায় অনেকের। চোখেও আঘাত পেয়েছেন এক পুলিশকর্মী। পাল্টা লাঠি চার্জ, কাঁদানে গ্যাস ছুঁড়ল পুলিশ। সব মিলিয়ে রণক্ষেত্র পাহাড়।

এদিকে কলকাতা ফেরার পরিকল্পনা বাতিল করে পাহাড়েই রয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। মোর্চার বারো ঘণ্টা বনধের মধ্যেই পাহাড় চষে বেড়ালেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কখনও হেঁটে। কখনও গাড়িতে। প্রশাসনের তৎপরতা বোঝাতে নিজেই করলেন মাইকিং । অভয় দিলেন পর্যটকদের। তাঁদের সমতলে নামার ব্যবস্থা করে দিলেন। মোর্চাকে হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়ে দিলেন, এখনই পাহাড় ছাড়ছেন না।

মোর্চার বনধের মধ্যেই সকাল ছটায় রিচমন্ড হিলস থেকে বেড়িয়ে পড়েন মুখ্যমন্ত্রী। মলের রাস্তা ধরে হাঁটতে শুরু করেন। কথা বলেন পথচলতি মানুষদের সঙ্গে। নিরাপত্তা নিয়ে আশ্বস্থ করেন পর্যটকদের।

প্রায় তিন ঘণ্টা। পাহাড়ের বিভিন্ন অংশ চষে ফেলেন মুখ্যমন্ত্রী। হাঁটতে হাঁটতে পৌঁছে যান গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার সিংমারি পার্টি অফিসের সামনে। টহলরত সেনার মুখোমুখি হতেই তাঁদের ধন্যবাদ জানান মুখ্যমন্ত্রী।

তিন ঘণ্টা পর সরকারি আবাসে ফিরেই পাহাড় পরিস্থিতি নিয়ে জরুরি বৈঠক। এবার গন্তব্য দার্জিলিং জেলা হাসপাতাল। মনোবল বাড়াতে কথা বলেন আহত পুলিশকর্মীদের সঙ্গে।

পথে দেখা রাজস্থানী পর্যটকদের সঙ্গে। তাঁদের এক আহত শিশুকে হাসপাতালে ভর্তির ব্যবস্থাও করে দেন। হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে গাড়িতে করে শুরু হয় মাইকিং। পাহাড়ের নিরাপত্তায় প্রশাসন তৎপর। এটা বোঝাতেই শহরের রাস্তায় ঘুরে ঘুরে চলে মাইকিং।

এর মধ্যেই পথে দেখা কয়েকজন বিদেশী পর্যটকদের সঙ্গে। নিজস্ব ভঙ্গিতে তাঁদেরও সাহস দেন মুখ্যমন্ত্রী।

পাহাড়ে ক্ষমতাসীন দলের ডাকা বনধের দিন এই প্রথম সমতলের কোনও নেতাকে দেখা গিয়েছে বনধ বিরেধিতায় এলাকায় ঘুরে বেড়াতে। বেনজির এই ঘটনায় আবারও ব্যাকফুটে মোর্চা আর নতুন করে বনধ-এর সময় বাড়ানোর সাহস দেখায়নি।

RELATED STORIES

RECOMMENDED STORIES