সিঙ্গুর-নন্দীগ্রাম নয় ভাঙড়, দাবি পার্থ ও কৃষিমন্ত্রীর

Jan 18, 2017 03:44 PM IST | Updated on: Jan 18, 2017 03:44 PM IST

#কলকাতা: ভাঙড় আর সিঙ্গুর নন্দীগ্রামের আন্দোলন এক নয় বলে দাবি তুললেন তৃণমূল মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায় ৷ কৃষিমন্ত্রী পূর্ণেন্দু বসুর গলাতেও একই সুর ৷ চাষীদের চাষের জমি ফেরতের দাবিকে এক করে মিলিয়ে দেওয়া হয়েছিল ভাঙড়-সিঙ্গুর-নন্দীগ্রাম ৷ সেই দাবির চুড়ান্ত বিরোধিতা করে তৃণমূলের মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘সিঙ্গুর-নন্দীগ্রামের সঙ্গে ভাঙরের তুলনা হচ্ছে ৷ সিঙ্গুর-নন্দীগ্রামের সঙ্গে গুলিয়ে দেওয়া হচ্ছে ৷ ওখানে সিঙ্গুর-নন্দীগ্রামে পুলিশ বাড়াবাড়ি করেছিল ৷ আমরা কখনই লাঠি-গুলি দিয়ে কিছু করব না ৷’

যে কৃষকদের জমি ফেরতের দাবিকে সমর্থন জানিয়ে লড়াই করেছিলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ৷ তাঁরই মুখ্যমন্ত্রীত্বকালে ভাঙড়ে জমি ফেরত চেয়ে কৃষকদের আন্দোলন এত হিংসাত্মক রূপ ধারণ করায় প্রশ্ন ওঠে সরকারের নীতি নিয়ে ৷ অশান্ত ভাঙড়ের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে মঙ্গলবারই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বার্তা, মানুষ না চাইলে, জোর করে জমি নেওয়া হবে না। প্রয়োজনে অন্য কোনও জায়গায় পাওয়ার গ্রিড গড়ে তোলা হবে। ভাঙড়ে কৃষিজমির চরিত্রের কোনও বদল হচ্ছে না বলে আগেই জানিয়ে দিয়েছে রাজ্য সরকার। একইসঙ্গে, পাওয়ার গ্রিড প্রকল্পের কাজ বন্ধের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে ৷ ভাঙড় এলাকার সাধারণ মানুষের দাবিকেই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে রাজ্য সরকার। সেই বার্তা পৌঁছে দিতেই সোমবার প্রকল্পের কাজ স্থগিত রাখার ঘোষণা করে রাজ্য।

সিঙ্গুর-নন্দীগ্রাম নয় ভাঙড়, দাবি পার্থ ও কৃষিমন্ত্রীর

অন্যদিকে, ভাঙড়কাণ্ডে গুলি চালনায় আরাবুল ইসলাম ও তাঁর দলবলের যুক্ত থাকার অভিযোগ ওঠে ৷ সেই অভিযোগকে খন্ডন করে পার্থ চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘ভাঙড়কাণ্ডে তৃণমূলের কেউ যুক্ত নয় ৷ দল কোনও প্ররোচনায় পা দেবে না ৷ তৃণমূল কোনও গন্ডগোলের সঙ্গে যুক্ত নয় ৷ ভাঙড়ে সরকার কোনও জমি অধিগ্রহণ করেনি ৷ জমি কিনে নেওয়া হয়েছে ৷ ভাঙড়ে শান্তি বজায় রাখাই সরকারের প্রথম কাজ ৷’

মহাসচিবের সুরে সুর মেলালেন কৃষিমন্ত্রী ৷ ভাঙ্গড়ের জমি আন্দোলন নিয়ে কৃষিমন্ত্রী পূর্ণেন্দু বসু বলেন, ‘সিঙ্গুর ও নন্দীগ্রামের জমি আন্দোলনের সাথে তুলনা করছে তা ভাঙ্গরের জমি আন্দোলন এক নয়। ইতিহাস দু’বার একই ভাবে ঘুরে আসে না, একটা থাকে আসল আন্দোলন ও অপরটি নকল আন্দোলন। নকল যে আন্দোলন হয় তা কখনই এগিয়ে যেতে পারে না।

এদিন সিঙ্গুরে কৃষি মেলা উদ্বোধনে এসে কৃষিমন্ত্রী বলেন, ‘১৮৫৫ সালে কেন্দ্রের টেলিগ্রাফ আইন অনুযায়ী পাওয়ার গ্রিডের জন্য জমি অধিগ্রহণ করা হচ্ছিল। এতে রাজ্য সরকারের আইন শৃঙ্খলা রক্ষা করা ছাড়া আর কিছুই দেখার নেই। বিজ্ঞানের অপ্রচার করে ভাঙ্গড়ে ভুল বোঝানোর খেলা চলছে ৷ এটা তৈরী করা উত্তাপ।’

RELATED STORIES

RECOMMENDED STORIES