ভাঙড়ে জমি আন্দোলনকে সমর্থন জানাল বিরোধীরা

Elina Datta | News18 Bangla
Updated:Jan 17, 2017 05:19 PM IST
ভাঙড়ে জমি আন্দোলনকে সমর্থন জানাল বিরোধীরা
Photo : AFP
Elina Datta | News18 Bangla
Updated:Jan 17, 2017 05:19 PM IST

#ভাঙড়: চাষের জমি ফেরতের দাবিতে ভাঙড়ের চাষীদের আন্দোলনকে সমর্থন জানাল সিপিআইএম ৷ অবিলম্বে নিরীহ গ্রামবাসীদের উপর র‍্যাফ ও পুলিশি অত্যাচার বন্ধের দাবি জানিয়েছে বাম নেতারা ৷ তা না হলে বৃহত্তর আন্দোলনে চাষীদের পাশে থাকার হুঁশিয়ারি দিল সিপিআইএম ৷

সোমবার সকাল থেকে বিদ্যুতের সাব স্টেশন নির্মাণকে ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা ছড়ায় ভাঙড়ে। সকাল থেকে অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি ভাঙড়ের মাছিভাঙা ও খামারআইট এলাকায়। রাস্তার মোড়ে মোড়ে লাঠিসোঁটা নিয়ে জড়ো হয় বিক্ষোভকারীরা। শুরু হয় অবরোধ-বিক্ষোভ। পুলিশের বিরুদ্ধে অত্যাচারের অভিযোগ আনেন বিক্ষোভকারীরা ৷

বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, ‘ভাঙড়ে জোর করে জমি নেওয়া হচ্ছে ৷ পুলিশ-র‍্যাফ নির্বিচারে অত্যাচার চালাচ্ছে ৷ মহিলাদেরও রেয়াত করা হচ্ছে না ৷’ বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে সুর মিলিয়ে পুলিশি নির্যাতন বন্ধের অভিযোগ জানান সিপিআইএম নেতা শমীক লাহিড়িও ৷

ভাঙর আন্দোলন নিয়ে মহম্মদ সেলিম নিজের প্রতিক্রিয়ায় বলেন, ‘ভাঙরে যা হচ্ছে, তা চাষীদের অতীতের আন্দোলন ৷ যে মমতা জমি আন্দোলনে নেমে চাষীদের স্বার্থ রক্ষায় কৃষি জমি রক্ষা কমিটি গড়েছিলেন সেই নেত্রী এখন মুখ্যমন্ত্রী হয়ে জমি অধিগ্রহণ নিয়ে কথা বলছেন না ৷ তিনি এখন গ্লোবাল সামিট নিয়ে ব্যস্ত ৷ ’ সিপিআইএম নেতার আরও অভিযোগ, ‘জমি অধিগ্রহণের প্রয়োজন আছে বুঝেই আমরা এটা নিয়ে রাজনীতি করিনি ৷ কিন্তু আজ আন্দোলন বন্ধ করতে যেভাবে পুলিশ ও গুণ্ডাকে কাজে লাগাচ্ছে, তা মেনে নেওয়া যায় না ৷’ একইসঙ্গে এই বাম নেতা সরকারের নিস্ক্রিয়তারও অভিযোগ করেছেন ৷

গ্রামবাসীদের আন্দোলনে পিছু হঠেছে রাজ্য। ভাঙড়ে বিদ্যুতের সাবস্টেশনের কাজ আপাতত স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত। এদিকে, সোমবার আন্দোলনের নেতা শেখ সামসুল হককে তুলে নিয়ে যায় পুলিশ। প্রতিবাদে বিক্ষোভ দেখান আন্দোলনকারীরা। রাতভর সামসুলকে জেরার পর ছেড়ে দেয় সিআইডি। আন্দোলন-বিক্ষোভের মূলে বহিরাগতের ইন্ধনের অভিযোগ এনেছেন বিদ্যুৎমন্ত্রী।

অন্যদিকে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরি প্রশাসনের অতি সক্রিয়তার অভিযোগ তুলেছেন ৷ একইসঙ্গে বিদ্যুৎমন্ত্রীর মন্তব্যকেও দায়িত্বহীন আখ্যা দেন ৷ বলেন,  বিদ্যুৎমন্ত্রীর দায়িত্বজ্ঞানহীন মন্তব্যে উত্তেজনা বাড়ছে ৷ গোটা এলাকাই তো তৃণমূলের দখলে ৷ বহিরাগত কারা? হাজার-হাজার মানুষ প্রতিবাদ করছেন ৷ পুলিশ বাড়াবাড়ি করছে, লাঠি চালাচ্ছে ৷ তারই প্রতিবাদ করছেন মানুষ ৷’

বেশ কিছুদিন ধরেই ভাঙড়ে গ্রিড কর্পোরেশনের সাবস্টেশন তৈরির বিরুদ্ধে আন্দোলন চলছে। সোমবার আন্দোলনের এক নেতার গ্রেফতারকে কেন্দ্র করে বিক্ষোভে ফেটে পড়লেন খামারআইট, টোনা, মাছিভাঙার গ্রামের বাসিন্দারা। গ্রামবাসীদের অভিযোগ, চাষজোগ্য জমিতে অনিচ্ছা সত্ত্বেও প্রকল্পের কাজ চলছে। হাইটেনশন তারের জেরে স্বাস্থ্যে ক্ষতির আশঙ্কাও রয়েছে। তাই প্রকল্পের বিরুদ্ধে গ্রামবাসীরা। ১১ জানুয়ারি বিদ্যুৎমন্ত্রী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় আলোচনার মধ্যে সমাধানের আশ্বাস দেন। পরিকল্পিতভাবে বহিরাগত ইন্ধনের অভিযোগও করেছিলেন তিনি।

মন্ত্রীর আলোচনার আশ্বাসে গত কয়েকদিন আন্দোলন বন্ধই ছিল। এদিকে, বহিরাগতদের ভূমিকা খতিয়ে দেখছিল পুলিশও। সোমবার সন্ধেয় আন্দোলনের অন্যতম নেতা শেখ সামসুল হক ওরফে কালুকে তুলে নিয়ে যায় পুলিশ। খবর ছড়িয়ে পড়তেই ফের অবরোধ-বিক্ষোভ শুরু করেন খামারআইট, টোনা, মাছিভাঙার বাসিন্দারা।

বর্তমান পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে আপাতত সাবস্টেশন তৈরির কাজ স্থগিত রাখার কথা জানিয়েছেন বিদ্যুৎমন্ত্রী।

বিক্ষোভ হঠাতে গিয়ে আক্রান্ত হন কাশীপুর থানার ওসি সহ চার পুলিশ কর্মী। এদিকে, রাতেই নিউটাউনে নিয়ে গিয়ে সামসুলকে জেরা করে সিআইডি। জেরার পর ছেড়ে দেওয়া হয়। নেতা ঘরে ফিরতেই বিক্ষোভ তুলে নেন গ্রামবাসীরা। কিন্তু সকাল হতেই ফের শুরু বিক্ষোভ, অবরোধ ৷

First published: 04:43:14 PM Jan 17, 2017
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर