নিজেই স্বীকার করলেন তিনি ভুয়ো ডাক্তার, খুলে নিলেন সাইনবোর্ড

Jun 07, 2017 11:37 AM IST | Updated on: Jun 10, 2017 12:26 PM IST

#কলকাতা: ফের ভুয়ো চিকিৎসকের খোঁজ কাটোয়ায় ৷ নিজেই সাইনবোর্ড মুছে দিলেন চিকিৎসক ৷ স্বীকারোক্তি ‘আমি ভুয়ো চিকিৎসক’ ৷ চেম্বারের বাইরে সাইনবোর্ড মুছলেন ৷ লেখা ছিল ‘MBBS, MD, গোল্ড মেডেলিস্ট’, ‘ন্যাচেরোপ্যাথি, হাড় ও শিরার ডাক্তার’ ৷ আজ সবই মুছে দিলেন প্রিয়লাল শীল ৷ ভুয়ো চিকিৎসক বলে স্বীকার করলেন নিজেই ৷ কাটোয়ার সার্কাস ময়দানের ঘটনা ৷ রাজ্যে একের পর এক ভুয়ো ডাক্তারের খোঁজে মিলছে প্রায় প্রতিদিনই ৷

এর আগে গতকালই পূর্ব বর্ধমানের কাটোয়ায় আরও এক ভুয়ো চিকিৎসকের খোঁজ মেলে ৷ চিকিৎসকের আয়ুর্বেদিক ডিগ্রি রয়েছে। অথছ তিনি অ্যালোপ্যাথি চিকিৎসা করতেন বলে অভিযোগ। বাউড়িয়া থেকে ধৃত আর-এক জাল চিকিৎসক রমাশঙ্কর সিংকে আজ বিধাননগর আদালতে তোলা হয়। কলকাতার গা‍র্ডেনরিচ থেকে ধৃত অজয় তিওয়ারির সার্ভিস বুক বাজেয়াপ্ত করেছে সিআইডি।

নিজেই স্বীকার করলেন তিনি ভুয়ো ডাক্তার, খুলে নিলেন সাইনবোর্ড

শহরের কাছারি রোড এলাকায় জমিয়ে ব্যবসা চালাচ্ছিলেন সত্যবান মণ্ডল নামে এক ব্যক্তি। আয়ুর্বেদ চিকিৎসক হয়েও প্রেসক্রিপশনে নাকি দিব্যি লিখতেন অ্যালোপ্যাথি ওষুধের নাম।

ধরা পড়তেই একের পর এক উদ্ভট দাবি অভিযুক্তের।

- কলকাতার যামিণীভূষণ রায় মেডিক্যাল কলেজ থেকে আয়ুর্বেদে বিএমএস ডিগ্রি পান তিনি

- অসমের একটি মেডিক্যাল কলেজ থেকে নাকি ‘এমবিবিএস-ডিপ্লোমা’ পাস করেন

- শম্ভুনাথ পণ্ডিত হাসপাতাল ও বেলেঘাটা আই ডি হাসপাতালে নাকি ইনটার্নশিপও করেন

- ২০০৮ সালে কাটোয়ার আলমপুর গ্রামীণ হাসপাতালে চুক্তিভিত্তিক চিকিৎসক হিসেবে নিযুক্ত হন

কোন মেডিক্যাল কলেজ থেকে ‘এমবিবিএস-ডিপ্লোমা’ পাস করেন তিনি? তার উত্তর অবশ্য দিতে পারেননি অভিযুক্ত।

নিজেকে কাটোয়ার আলমপুর গ্রামীণ হাসপাতালে চুক্তিভিত্তিক চিকিৎসক বলে দাবি করলেও, তেমন কোনও হাসপাতাল নেই বলেই জানিয়েছেন জেলার স্বাস্থ্য আধিকারিক।

মঙ্গলবার হাওড়ার বাউড়িয়া থেকে ধৃত রমাশঙ্কর সিংকে আদালতে তোলে সিআইডি। তবে আদালতে বাউড়িয়া থানার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। রমাশঙ্করকে গ্রেফতার করা হলেও কেন কোনও অ্যারেস্ট মেমো দেওয়া হয়নি? তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তাঁর আইনজীবী। তাঁর বিরুদ্ধে, নাম ভাঁড়িয়ে প্রতারণা, প্রতারণার উদ্দেশ্যে নকল শংসাপত্র তৈরি, অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র-সহ একাধিক ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

ভুয়ো চিকিৎসক কাণ্ডে মঙ্গলবার কোঠারি হাসপাতালে যায় সিআইডি। ধৃত অজয় তিওয়ারি সম্পর্কে হাসপাতাল সুপার ও এইচ আর-কে জিজ্ঞাসাবাদ করেন গোয়েন্দারা।

সিআইডি-র প্রশ্ন

- অজয় তিওয়ারিকে কোঠারিতে কে নিয়োগ করেন?

- সপ্তাহে কতদিন কোঠারি হাসপাতালে বসতেন তিনি?

- কত টাকা নিতেন তিনি?

- এ পর্যন্ত কতগুলি অপারেশন করেছেন?

অজয় তিওয়ারির সার্ভিস বুকও বাজেয়াপ্ত করা হয়। নানা সূত্র থেকে ভুয়ো চিকিৎসক চক্র স্বাস্থ্য ব্যবস্থার কতটা গভীরে পৌঁছেছে তার আন্দাজ করছে সিআইডি।

RELATED STORIES

RECOMMENDED STORIES