কাঠগড়ায় এনআরএস, ১ মাসের শিশুকে দু’বার ফেরাল হাসপাতাল

Mar 20, 2017 04:08 PM IST | Updated on: Mar 20, 2017 04:27 PM IST

#কলকাতা: অসুস্থ শিশুকে ভরতি নিতে রাজি নয় হাসপাতাল। নার্সদের দুর্ব্যবহারের পর বাধ্য হয়ে কলকাতা পুলিশে জানিয়ে শিশু ভরতি করান আত্মীয়রা। অন্যদিকে চিকিৎসায় গাফিলতিতে রোগীর হাত বাদ যাওয়ার সম্ভাবনা। দু’টি ঘটনাতেই কাঠগড়ায় এনআরএসের মতো সরকারি হাসপাতাল।

রোগী ফেরানোয় বেসরকারি হাসপাতালের বিরুদ্ধে অভিযোগ তো আছেই। কিন্তু সরকারি হাসপাতালেও একই রোগ। ১ মাসের সুরায়া সুলতানাকে শিশুকে ফিরিয়ে কাঠগড়ায় এনআরএস। হৃদযন্ত্রের সমস্যা নিয়ে শিশুটিকে  বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ থেকে শুক্রবার এনআরএসে রেফার করা হয়। এরপর থেকেই শুরু টালবাহানা।

কাঠগড়ায় এনআরএস, ১ মাসের শিশুকে দু’বার ফেরাল হাসপাতাল

অভিযোগ, আশঙ্কাজনক অবস্থায় থাকলেও নানা অছিলায় শিশুটিকে ভরতি নিতে অস্বীকার করে এনআরএস। একমাসের অসুস্থ শিশুকে নিয়ে চূড়ান্ত দুর্ভোগে পড়ে পরিবার। বাধ্য হয়ে সোজা লালবাজারে ছুটে ঘটনা জানান তাঁরা। পুলিশের চাপে এন্টালি থানার মাধ্যমে শিশুকে ভরতি নেয় এনআরএস। কিন্তু এরপরেও চিকিত্সা শুরু না করে নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীরা পরিবারের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন বলে অভিযোগ। এন্টালি থানায় সোমবার অভিযোগ দায়ের করে পরিবার।

এদিকে ১১ বছরের বিদ্যুৎস্পৃষ্ট কিশোরকে চিকিত্সা না করে ফেলে রাখার অভিযোগও উঠছে এনআরএসের বিরুদ্ধে। ৫ মার্চ বেলঘড়িয়ার বাসিন্দা রাকেশ মণ্ডল বাড়ির ছাদে খেলার সময় বিদ্যু‍্ৎস্পৃষ্ট হয়। প্রথমে সাগর দত্ত , পরে আরজিকরে নিয়ে যাওয়া হলে এনআরএসে পাঠানো হয়। ৭ মার্চ এনআরএসের আইসিইউতে ভরতি নেওয়া হয় রাকেশকে। এরপর জেনারেল বেডে দেওয়ার পর থেকে চিকিত্সা না করে ফেলে রাখার অভিযোগ রাকেশের পরিবারের। অবস্থার অবনতি হওয়ায় প্লাস্টিক সার্জারি বিভাগে রাকেশকে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেই চিকিত্সকরা ডান হাত বাদ দেওয়ার সম্ভাবনার কথা জানান। এন্টালি থানায় অভিযোগ দায়ের করেছে এই পরিবারটিও।

২টি ঘটনাতেই অভিযোগ খতিয়ে দেখা হবে বলেই দায় এড়িয়ে গিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

১ মাসের শিশু এনআরএসে ভরতি হয়েছে ঠিকই। কিন্তু টালবাহানায় কয়েক ঘণ্টা নষ্ট হওয়ায় ক্ষুব্ধ শিশুর পরিবার। ভরতির পরও আদৌ চিকিত্সা হবে কি না তা নিয়ে সন্দিহান পরিবার। মুখ্যমন্ত্রীর দফতরে অভিযোগ জানিয়েছে বেলঘড়িয়ার রাকেশের পরিবার। ১১ বছরের কিশোরের হাত বাদ যাওয়ার সম্ভাবনায় চিন্তায় আত্মীয়রা। চিকিত্সকদের গাফিলতিতে রাকেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে বাড়ছে দুশ্চিন্তা।

RELATED STORIES

RECOMMENDED STORIES