কলকাতা বিমানবন্দরের কাছে ভয়াবহ আগুন !

Jan 05, 2017 08:35 AM IST | Updated on: Jan 05, 2017 02:41 PM IST

#কলকাতা: রাতভর আগুনে ভস্মীভূত হয়ে গেল মধ্যমগ্রামের গঙ্গানগরের ঝাউতলার রাসায়নিক কারখানা। পোশাক কারখানার অনুমতি নিয়ে অবৈধভাবে চলছিল রাসায়নিকের কারখানা।আটত্রিশটি ইঞ্জিনের চেষ্টায় আগুন খানিকটা আয়ত্তে এলেও আজ সকালে কারখানার বিভিন্ন অংশ থেকে ধোঁয়া বেরোতে দেখা যায়।  কারখানার চারপাশে বিষাক্ত রাসায়নিক গ্যাস ছড়িয়ে পড়ায় আতঙ্ক ছড়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে। আগুন নেভাতে গিয়ে জখম হয়েছেন দমকলের চারজন কর্মী।

বুধবার সন্ধ্যায় আচমকাই আগুন লাগে ঝাউতলার রাসায়নিক কারখানায়। তিনতলা কারখানাটিতে মূলত কীটনাশক তৈরি করা হত, ফলে রাসায়নিক দ্রব্যে ঠাসা ছিল কারখানা। আগুন ছড়িয়ে পড়তে বেশি সময় নেয়নি, প্রথমে পাঁচটি ইঞ্জিন আগুন নেভানোর কাজে গেলেও আগুনের তীব্রতা এতোটাই ছিল, পরে আটত্রিশটি ইঞ্জিন যায় ঘটনাস্থলে। ফোম দিয়ে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করা হয়। আগুনের তীব্রতায় আহত হন চার  দমকলকর্মী। তাদের বারাসতের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।  আগুনের জেরে রাসায়নিক দ্রব্য থেকে কারখানার তিনতলার ছাদে বিস্ফোরণ হয়, সেই বিস্ফোরণের তীব্রতা এতোটাই ছিল আশপাশের বাড়িও কেঁপে ওঠে।  পোশাক কারখানার অনুমতি নিয়ে , ভিতরে কীটনাশকের কারখানা চালানো হচ্ছিল বলে  পুলিশ সূত্রে জানা গেছে। রোহানা চণ্ডীগড় পঞ্চায়েত থেকে লাইসেন্স নেওয়া হয়েছিল এই কারখানার। কারখানার ভিতরে অগ্নি নির্বাপন ব্যবস্থাও যথেষ্ট ছিল না বলে দমকলকর্মীরা জানান। বাম আমলে এই কারখানার লাইসেন্স দেওয়া হয়েছিল বলে জানান এলাকার এমএলএ ও মধ্যমগ্রাম পুরসভার চেয়ারম্যান রথীন ঘোষ।

কলকাতা বিমানবন্দরের কাছে ভয়াবহ আগুন !

আগুন লাগার সঠিক কারণ জানা না গেলেও প্রাথমিক অনুমান, শর্ট সার্কিট থেকেই আগুন লাগে। রাসায়নিক দ্রব্য মজুত থাকার কারণেই আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। সেমি ইন্ড্রাস্ট্রিয়াল জোনে কারখানা থাকলেও, নজরদারির অভাবেই এত বড় আগুন বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

সকাল থেকেই রাসায়নিক গ্যাসের তীব্রতার সঙ্গে আগুনের তীব্র কালো ধোঁয়ায় নাভিশ্বাস ওঠে স্থানীয়দের। আশপাশের কারখানা থেকেও দাহ্য পদার্থ সরানোর জন্য মাইকিং করা হয়। কারখানার মালিকের নামে অভিযোগ দায়ের হলেও, ঘটনার পর থেকেই ফেরার সে। বিমানবন্দর থেকে ঢিল ছোঁড়া দূরত্বে মধ্যমগ্রামের কারখানায় আগুনে তীব্র চাঞ্চল্য দেখা যায় বিমানবন্দরেও। প্রায় ১৮ ঘণ্টা ধরে চলতে থাকা আগুনের তীব্র কালো ধোঁয়ার জেরে বিমানবন্দরেও সাবধানতা অবলম্বন করা হয়। সকালের দিকে যে সব বিমানের ওঠা বা নামার কথা ছিল, তাদেরকেও সতর্ক করা হয়। যদিও বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানায়, বিমান চলাচলে কোনও সমস্যা হয়নি। 

RELATED STORIES

RECOMMENDED STORIES