মত্ত অবস্থায় বেপরোয়া গতি ঠেকাতে এবার শহরের সব পানশালাতে হবে ‘শ্বাস পরীক্ষা’

May 06, 2017 08:04 PM IST | Updated on: May 06, 2017 08:04 PM IST

#কলকাতা: মত্ত অবস্থায় বেপরোয়া গতি। একের পর এক দুর্ঘটনা। নিরাপত্তা বাড়াতে এবার কড়া লালবাজার। এবার থেকে মদ্যপানের পর পানশালাতেই হবে শ্বাস পরীক্ষা। ব্রেথ অ্যানালাইজারে লাল সঙ্কেত মিললে নিজের গাড়ি নয়। করতে হবে গাড়ি ভাড়া। সেই গাড়িতে বাড়ি ফেরার ব্যবস্থা করবে বার কর্তৃপক্ষ। দিনে ১৫-র মধ্যেই শহরের সব বারে ব্রেথ অ্যানালাইজার চালু বাধ্যতামূলক। পুলিশের উদ্যোগে সহযোগিতার আশ্বাস হোটেল ও রেস্তোরাঁ অ্যাসোসিয়েশনে

শহরে একের পর এক পথ দুর্ঘটনা। সম্প্রতি এ শহর দেখেছে মডেল সনিকা সিং চৌহানের মৃত্যু। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই মদ্যপ চালকের বেপরোয়া গতির বলি হয় একের পর এক প্রাণ। আবার মদ খেয়ে বারে মারামারি, ভাঙচুরের ঘটনা আকছারই ঘটে। শনিবার লালবাজারে শহরের ৩০টি পানশালার মালিকদের নিয়ে বৈঠক করে পুলিশ। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন জয়েন্ট সিপি হেডকোয়ার্টার সুপ্রতিম সরকার, জয়েন্ট সিপি ক্রাইম বিশাল গর্গ, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার-সহ একাধিক পুলিশকর্তা। মদ্যপ গতিতে লাগাম পড়াতে আরও কঠোর হচ্ছে কলকাতা পুলিশ।

মত্ত অবস্থায় বেপরোয়া গতি ঠেকাতে এবার শহরের সব পানশালাতে হবে ‘শ্বাস পরীক্ষা’

-- মদ্যপান করে গাড়ি চালানো যাবে না

-- পুলিশের সঙ্গে নজর রাখবে বার কর্তৃপক্ষও

-- এবার থেকে বারে ব্রেথ অ্যানালাইজার রাখা বাধ্যতামূলক

-- মদ্যপের শ্বাস পরীক্ষা করে ব্যক্তিগত গাড়ি চালানোর অনুমতি

-- অতিরিক্ত মদ্যপকে বাড়ি পাঠানোর ব্যবস্থা করবে বার কর্তৃপক্ষ

-- অ্যাপ নির্ভর ক্যাব বা ট্যাক্সিতে মদ্যপকে বাড়ি পাঠাতে হবে

-- হোটেলের নিজস্ব গাড়ি থাকলে সেই গাড়ির ব্যবস্থা করতে হবে

নির্দেশিকা চালু হলে পথ দুর্ঘটনা কমবে বলে আশাবাদী হোটেল ও রেস্তোরাঁ অ্যাসোসিয়েশন। তবে নিয়মের ফাঁক রয়েছে বলে আশঙ্কা করছেন তাঁরা। বার মালিকদের দাবি,

নিয়মের ফাঁক 

-- অনেক সময়েই বারের বাইরে গাড়ি পার্কিং না পেয়ে অন্য কোথাও গাড়ি রাখেন ক্রেতা

-- সেক্ষেত্রে মদ্যপ বার থেকে বেরিয়ে অন্য জায়গায় গিয়ে গাড়িতে উঠতে পারেন

-- বার কর্তৃপক্ষের নজরদারি এড়াতে ইচ্ছে করেও কোনও ক্রেতা ভিন্ন স্থানে পার্কিং করতে পারেন

নিয়মের ফাঁক পূরণে অবশ্য আরও পরিকল্পনার প্রয়োজন বলে মনে করছেন বার মালিকরা। তবে কলকাতা পুলিশের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন তাঁরা। ১৫ দিনের মধ্যেই নিয়ম কার্যকর করার নির্দেশ দিয়েছে লালবাজার। সব মিলিয়ে দুর্ঘটনা আদৌ কমবে কী না, সে প্রশ্নটা কিন্তু থেকেই যাচ্ছে।

RELATED STORIES

RECOMMENDED STORIES