বাচ্চা মানুষ করা কঠিন কাজ তাই প্রতিবেশিকে সন্তানদান করলেন মহিলা, তারপর যা ঘটল...

Akash Misra | News18 Bangla
Updated:Jun 20, 2017 02:01 PM IST
বাচ্চা মানুষ করা কঠিন কাজ তাই প্রতিবেশিকে সন্তানদান করলেন মহিলা, তারপর যা ঘটল...
Photo : AFP
Akash Misra | News18 Bangla
Updated:Jun 20, 2017 02:01 PM IST

#হাওড়া: গত বছর মার্চ মাসে শান্তিপুর গামী ট্রেনে এক মহিলা এক শিশুকে নিয়ে বসে থাকতে দেখে ট্রেন যাত্রীদের সন্দেহ হয় তাকে চেপে ধরতেই স্বীকার করে শিশুটি তার নয়। এরপর শান্তিপুরের আরপিএফ এর হাতে তুলে দেওয়া হয় শিশু ও মহিলাকে। জেরায় ঐ মহিলা জানান তার বাড়ি হাওড়ার চেঙ্গাইলে। প্রতিবেশী এক মহিলা এই কন্যা সন্তানের জন্ম দেন কিন্তু বেশী বয়সে বাচ্চা হবার কারনে বিষয়টি গোপনে তিনি প্রতিবেশীর হাতে তুলে দিয়েছেন বড় করবার জন্য। এরপর আরপিএফ ফোনে শিশুটির মায়ের সাথে যোগাযোগ করেন এবং তিনি এসে একই কথা জানান। সেদিনটা ছিল ৫ই এপ্রিল২০১৬। যে মহিলার কাছে শিশুটিকে পাওয়া যায় তাকে গ্রেপ্তার করে রানাঘাট জিআরপির হাতে তুলে দেওয়া হয়। রানাঘাট মহকুমা আদালত নির্দেশ দেন ডিএনএ টেষ্ট করবার। তারপর থেকে মা ও শিশুসহ দুজনকেই শান্তিপুর ষ্টেট জেনারেল হাসপাতালে ভরতি করা হয়। তখন থেকেই শান্তিপুর হাসপাতালের মহিলা ওয়ার্ডের ২ নং বেড পাকাপাকিভাবেই বন্দোবস্ত করা ওদের দুজনের।

শুরু হয় আইনি জটিলতা দীর্ঘ এক বছর আড়াই মাস পর ডিএনএ রিপোর্ট বলছে শিশুটি তারই। অর্থাৎ শিশুটির মা স্বপ্না মন্ডল( দলুই )। বাড়ি হাওড়ার চেঙ্গাইলে। প্রথম পক্ষের স্বামী মারা যাবার পর পুনরায় বিবাহ করেন যেহেতু বেশী বয়সের সন্তান তাই লোক লজ্জার ভয়ে প্রতিবেশীর হাতে মানুষ করবার জন্য তুলে দেওয়া হয়। স্বপ্না নিজে রাজ মিস্তীর যোগাড়ে নুন আনতে পান্তা ফুরানোর সংসারে কোনমতে সংসার চলে তার। এরপর থেকে মা তার একদিনের শিশুর জায়গা হল হাসপাতালের বেড। এখানেই বড় হচ্ছে ছোট্ট শিশু। তবে তার জন্মের সময় শাক বাজেনি উলুও দেয়নি কেউ। হাসপাতালের সরকারি কর্মীরা ছয়মাস বয়সে তার অন্নপ্রাশন করে নামকরন করেন টুকটুকি। টুকটুকি এখন সকলের নয়ণের মনি। গুটিগুটি পায়ে হাসপাতালের এ ঘর থেকে ও ঘর ঘুরে বেড়ায় নিজে নিজেই। আর একগাল হাসিতে সকলকে ভুলিয়ে রাখে।

হাসপাতালের একাধিক মায়ের ভালোবাসা তাকে বেড়ে উঠতে সাহায্য করছে। টুকটুকি কথা বলতে পারেনা কিন্তু কার কি নাম তাকে অনায়াসেই চিনতে পারে। আইনি জটিলতা কাটিয়ে এখন শুধু চলে যাবার অপেক্ষা। শান্তিপুর হাসপাতালের সুপার জয়ন্ত বিশ্বাস জানান একদিন বয়স থেকে দেখে আসছি আমরা টুকটুকির উপর আমাদের মায়া জন্মে গিয়েছে চলে যাবে খারাপ লাগছে তবে যতটা পারব আমরা সাহায্য করব। মা স্বপ্না মন্ডল বলেন ঘটনার কথা যখন সব জানাজানি হয়েই গেছে তখন নিজেই মানুষ করব। নার্স সোমা দেব সরকার জানান তার কোলেই সারাক্ষণ কাটে টুকটুকির নিজের বাচ্চার সাথে টুকটুকিকে এতটুকু আলাদা করে রাখতে চান না। মা বলে তাকেই চেনে টুকটুকি। অফিসে এসে স্নান করানো থেকে খাওয়ানো সবই করতে হয় তাকে। ছুটির দিনে মনটা খারাপ হয় এতদিম মানুষ করবার পর এবার চলে যাবে ভাবলেই খারাপ লাগে। আমি চাইব যেখানেই থাকুক সুখী হয় যেন টুকটুকি।

First published: 02:01:42 PM Jun 20, 2017
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर