বিক্রি হয়ে যাওয়া শিশুকে সাতদিনের মধ্যে সন্তানহীন দম্পতির কাছে ফেরানোর নির্দেশ দিল হাইকোর্ট

May 17, 2017 05:46 PM IST | Updated on: May 17, 2017 05:46 PM IST

#কলকাতা: বাদুড়িয়া শিশু পাচারকাণ্ডে নজিরবিহীন নির্দেশ হাইকোর্টের। বিক্রি হয়ে যাওয়া শিশুকে সাতদিনের মধ্যে সন্তানহীন দম্পতির কাছে ফেরানোর নির্দেশ দিল হাইকোর্ট। বাদুড়িয়া থেকে আর্মহার্স্ট স্ট্রিটের শ্রীকৃষ্ণ নার্সিংহোমে আসে শিশুটি। সেখান থেকেই একদিন বয়সের শিশুটিকে কিনেছিলেন ওই দম্পতি। বাদুড়িয়ার ঘটনা সামনে আসতেই শিশুকে উদ্ধার করতে যায় সিআইডি। সিআইডির সমনকে চ্যালেঞ্জ করে পালটা মামলা করেন সন্তানহীন দম্পতি। চাইল্ড ওয়েলফেয়ার কমিটিকে ওই দম্পতির কাছে শিশুকে ফেরানোর প্রস্তাব বিবেচনা করতে নির্দেশ হাইকোর্টের।

টার্গেট, বিবাহ বহির্ভূতদের সন্তান বা মানসিক ভারসাম্যহীন মহিলার সন্তান। দাবিদারহীন শিশুদের বিক্রি করেই জাল বিছিয়েছিল পাচার চক্র।

বিক্রি হয়ে যাওয়া শিশুকে সাতদিনের মধ্যে সন্তানহীন দম্পতির কাছে ফেরানোর নির্দেশ দিল হাইকোর্ট

২১ নভেম্বর, ২০১৬

বাদুড়িয়ায় সুহান নার্সিংহোমে বিস্কুটের কার্টেনের ভিতর থেকে দু’টি শিশু ও পরে আরেকটি শিশুকে উদ্ধার করে িসআইডি। সেই রাতেই সিল করে দেওয়া হয় নার্সিংহোম। গ্রেফতার হয় মালিক ও হাতুড়ে চিকিৎসক নাজমা বিবি। হাবড়ার সুজিত দত্ত মেমোরিয়াল ট্রাস্টের মাধ্যমেই চলত শিশু পাচার। ট্রাস্টের জমি থেকে মেলে শিশুদের খুলি, হাড়-গোড়। মালকিন উৎপলা ব্যাপারী ওরফে পলি দত্ত ও তার স্বামীকে গ্রেফতার করে সিআইডি। সবমিলিয়ে ২০ জনকে গ্রেফতার করা হয়। এদের মধ্যে নিত্যানন্দ বিশ্বাস নামে একজনের বিরুদ্ধে উপযুক্ত তথ্যপ্রমাণ না মেলায় জামিন দেয় বসিরহাট আদালত। তদন্তে নেমে জানা যায় পাচার চক্রের জাল ছড়িয়েছে রাজ্যজুড়ে। বাদুড়িয়ার নার্সিংহোম থেকে আর্মহার্স্ট স্ট্রিটের শ্রীকৃষ্ণ নার্সিংহোম ও বেহালায় একটি হোমেও শিশু পাচার হয়েছিল।

ফলতায় একটি খালের পাশ থেকে তিনটি সদ্যোজাত উদ্ধার করে পুলিশ।

সদ্যোজাত উদ্ধারের সূ্ত্র ধরে তিন মাস পর ফলতায় জীবনদীপ নার্সিংহোমের খোঁজ পায় পুলিশ। নার্সিংহোমের মালিক বাবা ও ছেলেকে শিশু পাচারের অভিযোগে গ্রেফতার করে পুলিশ। তাঁদের জেরা করেই শিবানীপুরের বাসিন্দা সাবিত্রী বৈদ্য ওরফে বড়দি ও তার স্বামী শ্যামল বৈদ্যের খোঁজ মেলে। জানা যায়, এরাই নার্সিংহোম থেকে বাদুড়িয়া ও বেহালার হোমে শিশু পাচার করত। পরে এই দু’জনকে গ্রেফতার করে সিআইডি।

সন্তান নেই। তাই বিভিন্ন হোম ও বা নার্সিংহোমের মাধ্যমে টাকা দিয়েই শিশু কিনেছিলেন তাঁরা। পাচার চক্র সামনে আসার পর বৈধ কাগজ না থাকায় শিশুর দায়িত্বভার নেয় চাইল্ড ওয়েলফেয়ার কমিটি। এরকমই এক শিশুর বৈধতা চেয়ে হাইকোর্টে মামলা করে সন্তানহীন দম্পতি। আর্মহার্স্ট স্ট্রিটের শ্রীকৃষ্ণ নার্সিংহোম থেকে শিশু কিনেছিলেন ওই দম্পতি। হাইকোর্ট জানায়

- ৭ দিনের মধ্যে ফেরাতে হবে শিশু

- চাইল্ড ওয়েলফেয়ার কমিটিকে ফেরাতে হবে শিশু

- শিশুটির যত্নে কী ভূমিকা নিচ্ছেন নিঃসন্তান দম্পতি

- চাইল্ড ওয়েলফেয়ার কমিটিকে খতিয়ে দেখার নির্দেশ

- খতিয়ে দেখে শিশুটিকে তাঁদের কাছে ফেরানোর প্রস্তাব

- চাইল্ড ওয়েলফেয়ার কমিটিকে প্রস্তাব বিবেচনার নির্দেশ

- CID-র কাছেও রিপোর্ট তলব

- নির্দেশ বিচারপতি জয়মাল্য বাগচির

গরমের ছুটির দু ’সপ্তাহ পর কলকাতা হাইকোর্টে ফের এই মামলার শুনানি হবে।

সিআইডি তদন্তে জানা যায়। শ্রীকৃষ্ণ নার্সিংহোম থেকে একদিনের শিশু পাচার হয়েছিল। সেই শিশু মুর্শিদাবাদের সন্তানহীন দম্পতি কিনেছিলেন। সাড়ে তিন বছরে। সেদিন তো সামনে আসেনি ঘটনা। সিআইডি তদন্তে নেমে ওই শিশুকে উদ্ধার করে। হাইকোর্টে মামলা করল বাবা-মা। নিঃসন্তান ছিলাম। বেওয়ারিশ শিশুর হদিশ পাই কলেজ স্ট্রিটের নার্সিংহোমে। ১দিনে বাড়িতে নিয়ে আসি। হাইকোর্ট তুমিই অভিভাবক। আমি কী অধিকারি নই। শিশুর নামে আধারকার্ড তৈরি হয়েছে। এলআইসি জীবনবিমা। কার্যত ওই দম্পতির সন্তান হয়ে উঠেছে। বিচারপতি জয়মাল্য বাগচির মন্তব্য- এরকম ক্ষেত্রে সবসময় অভিযুক্তকে গ্রেফতার করতে হবে, এমনটা অর্থহীন। এমন দম্পতিদের সাক্ষী করে চক্রের তদন্তকে আরও ত্বরান্বিত করতে পারে সিআইডি।

নির্দেশ সাতদিনের মধ্যে শিশুকে ফিরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দম্পতিকে। চাইল্ড ওয়েলফেয়ার কমিটিকে নির্দেশ। তবে শিশুর কল্যাণের স্বার্থে পালিত বাবা-মায়ের কাছেই শিশুটিকে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য বিবেচনা করে দেখার নির্দেশ চাইন্ড ওয়েলফেয়ার কমিটি। যদি দম্পতির ভূমিকা শিশুর স্বার্থে কল্যাণমূলক হয় তবে তা ফিরিয়েও দিতে পারে চাইল্ড ওয়েলফেয়ার কমিটি। সমগ্র ঘটনার উপর একটি রিপোর্ট পেশ করার নির্দেশ চাইল্ড চার সপ্তাহের মধ্যে। বাদুড়িয়া শিশুপাচার কাণ্ডে সিআইডি-র ভূমিকার তদন্চকারী অফিসারের রিপোর্টেও তলব করেছে হাইকোর্ট।

RELATED STORIES

RECOMMENDED STORIES