ভাঙড়কাণ্ডে ফের সিআইডি-কে ভর্ৎসনা হাইকোর্টের

May 11, 2017 08:01 PM IST | Updated on: May 11, 2017 08:01 PM IST

#কলকাতা: ভাঙড়কাণ্ডে সিআইডি-কে ভর্ৎসনা হাইকোর্টের। খুনিকে ধরতে না পারায় হাইকোর্টের তোপের মুখে এডিজি সিআইডি। আজ ভাঙড়কাণ্ডের শুনানিতে বিচারপতি জয়মাল্য বাগচির প্রশ্ন, ঘটনার পর ২ মাস পেরিয়ে গিয়েছে।

পুলিশের সামনে গুলি চলেছে, অথচ অপরাধীরা অধরা কেন? কার্তুজ উদ্ধার হলেও, তদন্তে খুব বেশি এগোতে পারেনি পুলিশ। এডিজি সিআইডি রাজেশ কুমারকে  বিচারপতি বলেন, দোষীদের আদালতে হাজির করা হয়নি। তদন্ত এখন কোন পর্যায়ে রয়েছে তা নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েছে।  দোষীদের আদালতে হাজির করানোর জন্য সিআইডিকে নির্দেশ দেন বিচারপতি।

ভাঙড়কাণ্ডে ফের সিআইডি-কে ভর্ৎসনা হাইকোর্টের

সতেরোই জানুয়ারি পাওয়ার গ্রিডের বিরোধিতায় অশান্ত হয়ে ওঠে ভাঙড়। জনতা-পুলিশ সংঘর্ষের মধ্যে গুলিবিদ্ধ হয়ে মৃত্যু হয় দু’জনের। কিন্তু তিন মাস কেটে গেলেও ধরা পড়েনি খুনি। সিআইডি-র তদন্তের অগ্রগতি কী? তা জানতে চেয়ে এর আগেও সরকারি আইনজীবীকে প্রশ্নবানে জর্জরিত করেন বিচারপতি জয়মাল্য বাগচি।

আগের শুনানিতে তাঁর প্রশ্ন ছিল,

কোন পথে তদন্ত

- দিনের বেলায় পুলিশের উপস্থিতিতে গুলি করে খুন, অথচ দুষ্কৃতীকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না

- এটা কি তদন্তের ব্যর্থতা নয়?

- কে গুলি ছুঁড়েছিল, সেই দুষ্কৃতীকে চাই

- নিহতের পরিবারের সুবিচার প্রাপ্য

- দুষ্কৃতীকে বিচারের আওতায় আনা উচিত

- খুনির কোনও শাস্তি হবে না, এটা হতে পারে না

বিচারপতির প্রশ্নে জর্জরিত হয়ে সরকারি আইনজীবী জানান,

- খুনিকে চিহ্নিত করা গিয়েছে

- কিন্তু স্থানীয়রা তদন্তে সহযোগিতা করছেন না

- এলাকা অশান্ত হওয়ায় তদন্তে সমস্যা হচ্ছে

আইনজীবীর এই সওয়ালে বিচারপতি বাগচি ক্ষুব্ধ হয়ে বলেন,

- দেশে এমন একটা আইন দেখান, যা অশান্ত এলাকায় নির্বিচারে খুন করাকে স্বীকৃতি দেয়

- সাক্ষীর নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করা রাজ্যের কর্তব্য

- সন্দেহজনক খুনি যদি এলাকার দাপুটে কেউ হয়, তাহলে স্থানীয়রা মুখ খুলবেন না এটাই স্বাভাবিক

- রাজ্য যদি তাঁদের ভরসা দিতে না পারে, তাহলে আইনের শাসন কী থাকল?

মানুষ না চাইলে পাওয়ার গ্রিড হবে না। মুখ্যমন্ত্রীর এই ঘোষণার পরও স্বাভাবিক হয়নি ভাঙড়। এখন দেখার ভাঙড়ের আইনশৃঙ্খলা ফেরাতে কী ভূমিকা পালন করে প্রশাসন। আর কবে বিচার পায় নিহতের পরিবার।

RELATED STORIES

RECOMMENDED STORIES