ক্নিনিক্যাল এসটাব্লিশমেন্ট আইন কার্যকর করতে তৎপর সরকার, গঠন করা হল ১১ জন সদস্যের কমিশন

Mar 17, 2017 01:47 PM IST | Updated on: Mar 17, 2017 01:47 PM IST

#কলকাতা: ক্নিনিক্যাল এসটাব্লিশমেন্ট আইনকে সঠিক পথে কার্যকর করতে তৎপর রাজ্য সরকার ৷ শুক্রবার নবান্নে সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ১১ জন সদস্যের কমিশন গঠনের কথা বলেন ৷

এই স্বাস্থ্য কমিশনের নিয়ন্ত্রণে থাকবেন বিচারপতি অসীমকুমার রায় ৷ তিনি অনুপস্থিত থাকলে কাজ চালাবেন ভাইস চেয়ারম্যান অনিল ভার্মা৷ কমিশনে আছেন চিকিৎসক সুকুমার মুখোপাধ্যায়, চিকিৎসক গোপালকৃষ্ণ ঢালি, মাখনলাল সাহা ৷ রয়েছেন চিকিৎসক অভিজিৎ চৌধুরী, মধুসুদন বন্দ্যোপাধ্যায় ৷ রয়েছেন পুলিশকর্তা অনুজ শর্মা, প্রবীণ ত্রিপাঠি ৷ রয়েছেন মৈত্রয়ী বন্দ্যোপাধ্যায়, মাধবী দাস ৷

ক্নিনিক্যাল এসটাব্লিশমেন্ট আইন কার্যকর করতে তৎপর সরকার, গঠন করা হল ১১ জন সদস্যের কমিশন

এই বিল অনুযায়ী,

-নতুন আইনে চিকিৎসায় গাফিলতি প্রমাণে কড়া শাস্তি

কেন এই ধারা?

-অ্যাপোলোয় সঞ্জয় রায়ের চিকিৎসায় গাফিলতির প্রমাণ পেয়েছে রাজ্য সরকারের তদন্ত কমিটি

-অ্যাপোলোয় ক্যান্সারের চিকিৎসা চলাকালীন মৃত্যু হয় কল্যাণীর বাসিন্দা এক কিশোরের

- এই ঘটনাতেও চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগ অঙ্কোলজিস্ট সহ ২ চিকিৎসকের বিরুদ্ধে

- রত্না ঘোষের মৃত্যুতেও অ্যাপোলোর গাফিলতির অভিযোগ

-সঙ্গে সঙ্গে দুর্ঘটনায় আহতের চিকিৎসা করতে হবে

কেন এই ধারা ?

টাকা জমা না হওয়ায় চিকিৎসা শুরু হয়নি বেলেঘানার তরুণী আইটি কর্মী শতাব্দীকে। খোয়াতে হয় পা

অন্য কয়েকটি ঘটনাতেও একই অভিযোগ

-পরিষেবার বাইরে টাকা নয়

কেন এই ধারা?

রোগীর মৃত্যুর পরের দিন রক্তপরীক্ষার বিল করেছে মেডিকা। আইনজীবী অশোক মুখোপাধ্যায়ের অভিযোগে সামনে আসে ঘটনা

-দেহ আটকে রাখা যাবে না

পিয়ারলেস থেকে ফর্টিস। সব হাসপাতালের বিরুদ্ধেই অভিযোগ। এমনকী পুরো টাকা না মেটানোয় জমা রাখা হয় প্যান কার্ডও।

-প্যাকেজের বাইরে অতিরিক্ত বিল নয়

শ্বেতা নামের রোগীর পরিবার কাছে প্যাকেজের বাইরে ৮০ হাজার টাকা চাওয়ার অভিযোগ সিএমআরআইয়ের বিরুদ্ধে।

বেসরকারি হাসপাতালগুলিকে নিয়ন্ত্রণ। রোগী ও তার পরিবারকে সুরক্ষার আশ্বাস। এই দুই লক্ষেই তৈরি হয় নতুন স্বাস্থ্য বিল। চিকিৎসায় গাফিলতি বা কারণ ছাড়াই বাড়তি বিল - বেসরকারি হাসপাতালের চেনা ছবিটা বদলাতেই নতুন বিল আনে রাজ্য। বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেছিলেন, মানুষের স্বার্থেই এই ঐতিহাসিক বিল আনল রাজ্য প্রশাসন।

বেসরকারি হাসপাতালগুলির বিরুদ্ধে একের পর এক অভিযোগের প্রেক্ষিতেই যে এই নতুন আইন, তা স্পষ্ট করলেন মুখ্যমন্ত্রী। রাজ্য সরকারের আশা, বেসরকারি স্বাস্থ্য পরিষেবায় আমূল পরিবর্তন আনতে চলেছে এই নতুন বিল।

অনেকক্ষেত্রেই বেসরকারি হাসপাতালের চাপে কাজ করতে বাধ্য হন চিকিৎসকরা। অথচ দূর্ভাগ্যজনক কিছু ঘটলে দায় নিতে হয় চিকিৎসকদের। নতুন বিলে চিকিৎসকদের পাশাপাশি বেসরকারি হাসপাতালের দায়বদ্ধতাতে জোর দেওয়া হয়েছে।

ক্রিটিকাল কেয়ার থেকে চিকিৎসায় স্বচ্ছতা - এতকাল অবহেলায় থাকা বিষয়গুলিতে নজর দিয়েছে নয়া বিল। আইনের পাশাপাশি পরিকাঠামোয় উন্নতিতেও জোর দিচ্ছেন চিকিৎসকরা।

দূর্ঘটনা বা প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে শর্ত ছাড়ায় চিকিৎসা শুরু করতে হবে বেসরকারি হাসপাতালগুলিকে। প্রয়োজন ছাড়া পরীক্ষা বা প্যাকেজের বাইরে টাকা নেওয়াও বন্ধ হতে চলেছে। রোগী ও তাঁর পরিবার এতে স্বস্তি পাবে বলেও মত চিকিৎসকদের।

RELATED STORIES

RECOMMENDED STORIES