৩৬ ঘণ্টা পরও 'জতুগৃহ' লালবাড়ি, কেন এখনও নিভছে না আগুন ?

Elina Datta | News18 Bangla
Updated:Mar 01, 2017 01:48 PM IST
৩৬ ঘণ্টা পরও 'জতুগৃহ' লালবাড়ি, কেন এখনও নিভছে না আগুন ?
Photo : AFP
Elina Datta | News18 Bangla
Updated:Mar 01, 2017 01:48 PM IST

#কলকাতা: ৩৬ ঘণ্টা পর এখনও আগুন জ্বলছে বড়বাজারের বহুতলে ৷ এখনও বাড়ির বেশ কিছু অংশ থেকে ইতস্তত ধোঁয়া বের হচ্ছে ৷ ছাদ ভেঙে বন্ধ হয়ে গিয়েছে ভেতরে ঢোকার রাস্তা ৷ ফেল বাড়ির ভিতরে ঢুকতে পারছে না দমকল কর্মীরা ৷ বাইরে থেকেই আগুন নেভানোর চেষ্টা চালানো হচ্ছে ৷ এখনও ঘটনাস্থলে রয়েছে দমকলের ৯টি ইঞ্জিন ৷ ভয়াবহ আগুনে ভস্মীভূত বড়বাজারের বাড়িটি ৷ ফাটল দেখা গিয়েছে বেশ কয়েকটি অংশে ৷ যে কোনও মুহূর্তে ভেঙে পড়তে পারে বাড়িটি বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে ৷ ঘটনায় আতঙ্কিত এলকাবাসীরা ৷ আশপাশের এলাকা খালি করা হয়েছে ৷

সোমবার রাত সাড়ে ৯টা নাগাদ ৫ তলা বাড়ির একতলায় আচমকাই আগুন লাগে। নিচের তলায় একাধিক গোডাউনে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। দমকল আসার আগেই আগুন নেভাতে হাত লাগান বাসিন্দারা। এগিয়ে আসেন স্থানীয়রাও। বহুতলটির গোডাউনে প্লাস্টিক ও অন্যান্য দাহ্য পদার্থ থাকায় গোটা বহুতলে দ্রুত আগুন ছড়াতে শুরু করে। প্রবল শব্দে ফাটতে শুরু করে বেশ কয়েকটি সিলিন্ডারও। বাড়ি ছেড়ে পালাতে শুরু করেন বাসিন্দারা।

ঘিঞ্জি এলাকায় প্লাস্টিক বোঝাই গুদাম। বাড়িজুড়ে কাঠের সিঁড়ি। অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থার নামমাত্র নেই। এককথায় জতুগৃহের আদর্শ উদাহরণ বড়বাজারের আমড়াতলা লেনের লালবাড়িটি। ঘিঞ্জি এলাকা হওয়ায় ঢুকতে পারেনি দমকলের ইঞ্জিনও। তাই আগুন নেভানো দূরে থাক, আগুনের উৎসস্থল পর্যন্ত পৌঁছতেই পনেরো ঘণ্টা পার হয়ে যায় দমকলকর্মীদের।

একপাশে আমড়াতলা স্ট্রিট। অন্যদিকে ক্যানিংস্ট্রিট। তারই মাঝে মুরগির গলার মতো সরু, বড়বাজারের ৩ নম্বর আমড়াতলা লেন। সোমবার রাত ন'টা নাগাদ এই ঘিঞ্জি রাস্তার, শতাব্দী প্রাচীন বহুতলেই ভয়াবহ আগুন লাগে। স্থানীয়ভাবে যা লালবাড়ি হিসেবে পরিচিত। সোমবার রাতের আগুন পুরোপুরি নেভাতে মঙ্গলবার সন্ধে গড়িয়ে যায়। এমনকি আগুনের উৎসস্থল পর্যন্ত পৌঁছতেই ১৫ ঘণ্টা পেরিয়ে যায় দমকলকর্মীদের। আগুন আয়ত্তে আনতে কেন এত বেগ পেতে হল দমকলকে?

- লালবাড়ির বেশিরভাগ জায়গাতেই দাহ্য পদার্থের গুদাম

- বাড়িতে কাঠের সিঁড়ি ও কাঠের অন্যন্য কাঠামো

- বিদ্যুতের তার মাকড়শার জালের মতো ছড়িয়ে

- বাড়ির মাঝের ফাকা অংশও অস্থায়ী নির্মাণ

- নেই কোনও অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা

এরজেরে একবার আগুন লাগতেই, তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। এলাকার ভৌগোলিক অবস্থানও দমকলকর্মীদের বিপাকে ফেলে।

- আমড়াতলার ঘিঞ্জি এলাকায় ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে উঠেছে একের পর এক বাড়ি

- সরু রাস্তায় দমকলের গাড়ি ঢোকার সুযোগই নেই

- তাই অদূরে ক্যানিং স্ট্রিট ও রবীন্দ্র সরণিতে গাড়ি রাখতে বাধ্য হয় দমকল

- সেখান থেকে একের পর এক পাইপ জুড়ে জল আনতে হয় দমকলকর্মীদের

- ফলে চারদিক থেকে আগুন নেভানোর জন্য জল দেওয়া যায়নি

- বহুতলে আগুন নেভানোর ল্যাডার ব্যবহার করা জরুরি হলেও তা পৌঁছতে পারেনি

বড়বাজারে ভয়বাহ অগ্নিকাণ্ডে উদ্বিগ্ন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আগামীদিনে এ ধরনের বিপর্যয় এড়াতে দমকলমন্ত্রী শোভন চট্টোপাধ্যায়কে বেশকয়েকটি দাওয়াই দেন মুখ্যমন্ত্রী। বড়বাড়ারের লালবাড়ির এই আগুন উষ্কে দিয়েছে নন্দরাম মার্কেটের স্মৃতি।

First published: 01:47:32 PM Mar 01, 2017
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर