হেলায় বিকোচ্ছে 'বিষ', কীভাবে কাজ করত নকল ওষুধের চক্রটি?

Akash Misra | News18 Bangla
Updated:Mar 14, 2017 02:07 PM IST
হেলায় বিকোচ্ছে 'বিষ', কীভাবে কাজ করত নকল ওষুধের চক্রটি?
Photo : AFP
Akash Misra | News18 Bangla
Updated:Mar 14, 2017 02:07 PM IST

#কলকাতা: নয়া মোড়কে এক্সপায়ার্ড ওষুধ বিক্রির চক্র। লালবাজার সংলগ্ন ক্যানিং স্ট্রিটে ছাপাখানার আড়ালে চলছিল মেয়াদ ফুরানো ওষুধে নতুন তারিখ বসানোর কাজ। বাজেয়াপ্ত প্রায় সাড়ে তিন লক্ষ টাকার মেয়াদ উত্তীর্ণ অ্যান্টিবায়োটিক ও ইঞ্জেকশন। গ্রেফতার ছাপাখানার মালিক পবন ঝুনঝুনওয়ালা ও ওষুধের ডিস্ট্রিবিউটার রিনেশ সারোগি। গোটা ঘটনায় প্রশ্ন উঠছে ড্রাগ কন্ট্রোলারের ভূমিকা নিয়ে।

ক্যানিং স্ট্রিটে ওষুধে মারণচক্র

নয়া মোড়কে এক্সপায়ার্ড ওষুধ

ওষুধ কারচুপিতে গ্রেফতার ২

মেয়াদ ফুরানো ওষুধে নতুন তারিখ বসিয়ে বিক্রির ছক। ক্যানিং স্ট্রিটে ছাপাখানার আড়ালে চলত এই মারণ চক্র। ড্রাগ কন্ট্রোলারের থেকে অভিযোগ পেয়ে ওই ছাপাখানায় তল্লাশি চালায় পুলিশ। বাজেয়াপ্ত প্রায় সাড়ে ৩ লক্ষ টাকার মেয়াদ উত্তীর্ণ ওষুধ।

গ্রাফিক্স ইনঃ- তল্লাশিতে উদ্ধার

- অ্যান্টিবায়োটিক

- জীবনদায়ী ইঞ্জেকশন

কিভাবে কাজ করত এই চক্রটি? পুলিশের দাবি,

- ডিস্ট্রিবিউটারের কাছ থেকে মেয়াদ উত্তীর্ণ ওষুধ আসত

- নেল পলিশ রিমুভার দিয়ে ওষুধের এক্সপায়ারি ডেট মোছা হত

- তারপর নতুন ব্যাচ নম্বর ও এক্সপায়ারি ডেট ছাপানো হত

- এইভাবে ওষুধের মেয়াদ ২-৩ বছর বাড়ানো হত

ছাপাখানার মালিক পবন ঝুনঝুনওয়ালাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তাকে জেরা করে বেলুড়ের এক ওষুধের ডিস্ট্রিবিউটার রিনেশ সারোগিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এই রিনেশই মেয়াদ ফুরানো ওষুধে নতুন তারিখ বসানোর জন্য পবনকে বরাত দিয়েছিল বলে অভিযোগ।

ধৃতদের বিরুদ্ধে ড্রাগ ও কসমেটিক আইনে মামলা রুজু করা হয়েছে।

- বিনা লাইসেন্সে ওষুধ তৈরি

- লাইসেন্স ছাড়া ওষুধ কেনা, মজুত ও বিক্রি

এই ঘটনায় ড্রাগ কন্ট্রোলারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। ধৃতদের জেরা করে এই চক্রে আরও কারা জড়িত তা খুঁজে বের করতে চাইছে পুলিশ। রিনেশ সারোগির মত আর কোনও ওষুধের ডিস্ট্রিবিউটার এই চক্রের সঙ্গে জড়িত কিনা? তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

ওষুধের মধ্যেই লুকিয়ে অসুখ। ভরসা নেই এক্সপায়ারি ডেট দেখেও। কারণ ওষুধের স্ট্রিপে বসানো হচ্ছে নতুন তারিখ। মেয়াদ পেরিয়ে যাওয়া এই ওষুধ নিয়ে শহরজুড়ে চলছে রমরমা কারবার। খোঁজ নেওয়ার কথা যাদের, সেই ড্রাগ কন্ট্রোলারের চোখ এড়িয়ে ফুলে ফেঁপে উঠছে মারণ ব্যবসা। এই ওষুধের ফল যে প্রাণঘাতী তা মেনে নিচ্ছেন চিকিৎসকরা।

জীবনদায়ী নয়, জীবন নিতে পারেও ওষুধ। শুধু ক্যানিং স্ট্রিটের ছাপাখানাই নয়, শহরজুড়ে এমন মেয়াদ উত্তীর্ণ ওষুধ বিক্রির কারবার চলছে রমরমিয়ে। ক্যানিং স্ট্রিটের এই ছাপাখানায় নতুন এক্সপায়ারি ডেট বসিয়ে, ফের মেয়াদ উত্তীর্ণ ওষুধ বাজারে আনা হত। মূলত মেয়াদ উত্তীর্ণ বিভিন্ন দামি অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধের স্ট্রিপে নতুন তারিখ বসানো হত। শুধু ট্যাবলেট নয়। মেয়াদ উত্তীর্ণ ইনজেকশনও একই পদ্ধতিতে ফের বাজারে বিক্রি করা হত। এই ধরনের ইঞ্জেকশন প্রাণঘাতী হতে পারে বলে দাবি চিকিৎসকদের।

- মেয়াদ উত্তীর্ণ মেরোফেনামের ইনজেকশনে প্রাণ সংশয় হতে পারে

- মেয়াদ উত্তীর্ণ অ্যামক্সিসিলিন রোগীর শরীরে ড্রাগ রেজিস্টেন্স তৈরি হবে

সাধারণত ওষুধের দোকান দশ শতাংশ ছাড় দেয়। সেখানে অসাধু ব্যবসায়ীরা কুড়ি থেকে তিরিশ শতাংশ ছাড় দিচ্ছে। এই ছাড়ের মধ্যেই লুকিয়ে মেয়াদ উত্তীর্ণ ওষুধ বিক্রির কারবার।

প্রতি ওষুধের দোকানে ফার্মাসিস্ট থাকা বাধ্যতামূলক। কিন্তু সেই নিয়ম মানছে কে? ড্রাগ কন্ট্রালারের নজরদারির অভাবেই বেআইনি কারবারের বাড়বাড়ন্ত। ড্রাগ কন্ট্রোলারের কর্মীদের সহযোগিতা ছাড়া মেয়াদ উত্তীর্ণ ওষুধের রমরমা কারবার সম্ভাব নয় বলে দাবি ওষুধ বিক্রেতাদেরই।

First published: 02:07:07 PM Mar 14, 2017
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर