ক্ষমতা থাকলে গ্রেফতার করে দেখান, মুখ্যমন্ত্রীকে চ্যালেঞ্জ দিলীপ ঘোষের

Jan 15, 2017 02:23 PM IST | Updated on: Jan 15, 2017 02:23 PM IST

#খড়গপুর: কোনও রাখঢাক নয় সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে চ্যালেঞ্জ করলেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ ৷ শ্রীনু নাইডু খুনের নেপথ্যে তাঁর ভূমিকা নিয়ে শ্রীনুর স্ত্রী পূজা নাইডুর অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে দিলীপ ঘোষের পাল্টা জবাব, সবই সরকারের বকলমে পুলিশের কারসাজি ৷

পূজার অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি। ইটিভি নিউজ বাংলার মুখোমুখি হয়ে বিজেপি রাজ্য সভাপতির পাল্টা দাবি, পুলিশের শেখানো বুলি আওড়াচ্ছেন শ্রীনুর স্ত্রী। একইসঙ্গে সরকারের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রেরও অভিযোগ আনেন তিনি ৷

ক্ষমতা থাকলে গ্রেফতার করে দেখান, মুখ্যমন্ত্রীকে চ্যালেঞ্জ দিলীপ ঘোষের

আর্থিক প্রতারণার অভিযোগে শনিবার পুলিশের জালে বিজেপির রাজ্য সহ-সভাপতি জয়প্রকাশ মজুমদার। এবার বিজেপি নেতাদের বিরুদ্ধে উঠল খুনের অভিযোগ। বিতর্কের সেই আগুনে ঘি ঢেলে দিলেন নিহত শ্রীনুর স্ত্রী পূজা। শ্রীনু খুনে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ শ্রীনু নাইডুর স্ত্রী পূজা নাইডুর ৷ রেল শহরে লোহামাফিয়া শ্রীনু নাইডুর খুনের পিছনে রয়েছেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ ৷ সংবাদ মাধ্যমের সামনে এই অভিযোগই করেছে নিহত শ্রীনুর পরিবার ৷

পূজা নাইডুর অভিযোগ, ২০১৫-এ বিধানসভা ভোট চলাকালীন শ্রীনুকে খুনের হুমকি দেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ ৷ তিনি বলেন, ‘আমার স্বামীর খুনের নেপথ্যে রয়েছেন দিলীপ ঘোষ ৷ বিধানসভা ভোটের আগে তিনি শ্রীনুকে খুন করার হুমকি দিয়েছিলেন ৷’

এই অভিযোগ সম্পূর্ণ উড়িয়ে দিয়ে বিজেপি রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষের পাল্টা মন্তব্য, ‘ভিত্তিহীন অভিযোগ ৷ পুলিশ শ্রীনুর স্ত্রীকে দিয়ে এসব বলিয়ে নিচ্ছে ৷’ একইসঙ্গে প্রশাসনের বিরুদ্ধে তাঁর তোপ, ‘অভিযোগ ভিত্তিহীন ৷ শ্রীনুর সঙ্গে কখনও কোনও কথা হয়নি ৷ দিলীপ ঘোষকে দোষী প্রমাণের চেষ্টা ৷ পুলিশ এগুলো বলিয়ে নিচ্ছে ৷ ক্ষমতা থাকলে গ্রেফতার করে দেখান ৷’

পুলিশের জালে একের পর এক ধরা পড়ছে শ্রীনু খুনে জড়িতরা। প্রথমে গ্রেফতার করা হয় সাতজনকে। গোপনসূত্রে খবর পেয়ে শুক্রবার রাতেই অভিযান চালায় পুলিশ। খড়গপুরের রেলইয়ার্ডের চিফ মেক্যানিক্যাল অফিসের গেট থেকে গ্রেফতার করা হয় জন ফ্রান্সিস নামে আরেকজনকে। শনিবারই তাকে মেদিনীপুর আদালতে তোলা হয়। তাকে ৪ দিনের পুলিশ হেফাজতে রাখার নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

শ্রীনু হত্যায় মিলেছে আরেক মাফিয়া রামবাবুর যোগ। কোনও বড় মাথার মদতেই শ্রীনুর শত্রুদের একজোট করে বাসব রামবাবু। পেশাদার খুনিদের ৮ লক্ষ টাকা সুপারি দেওয়া হয়। টাকা ছড়িয়ে জড়ো করা হয় স্থানীয় ছেলেদের। ধৃত জন ফ্রান্সিসকে জেরা করেই মিলেছে এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য। কিন্তু, বড় মাথা কে? চলছে পুলিশের তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহ।

শ্রীনু খুনের তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পেরেছে, অপরাধীরা স্তরে স্তরে পিরামিডের আকারে রয়েছে। চাঞ্চল্যকর তথ্য ফাঁস করেছে ধৃত জন ফ্রান্সিস। পিরামিডের প্রথম ধাপে ইতিমধ্যেই শঙ্কর, নন্দ, জন ফ্রান্সিসের মতো বেশ কয়েকজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তারা মূলত ছিল অপারেশন চালানোর দায়িত্বে। পিরামিডের দ্বিতীয় ধাপে রয়েছে শ্রীনুর ‘বড় শত্রু’ রামবাবু। তার ওপরেই অপারেশন বাস্তবায়নের ভার দেওয়া হয়। পিরামিডের শেষ ধাপে রয়েছে পুলিশের সেই রহস্যময় ‘মূলচক্রী’। মূলত, যার পরিকল্পনাতেই খুন হয় শ্রীনু। নানা তথ্য ও প্রমাণ দেখেই পুলিশের ধারণা, রামবাবু ও অন্যান্য ছাড়া শ্রীনু হত্যার পিছনে রয়েছে ভিন্ন কারোর পরিকল্পনা। সিঁড়ির শেষধাপে দ্রুত পৌঁছনোর চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা।

RELATED STORIES

RECOMMENDED STORIES