বাম নেতা ডক্টর সূর্যকান্ত মিশ্রের রাজ্য মেডিক্যাল কাউন্সিলে কোনও রেজিস্ট্রেশনই নেই!

Jun 11, 2017 01:37 PM IST | Updated on: Jun 11, 2017 01:38 PM IST

#কলকাতা: রাজ্য জুড়ে জাল ডাক্তার ধরার হিড়িকের মধ্যেই প্রবীণ বাম নেতার রেজিস্ট্রেশন নিয়ে উঠল বিতর্ক ৷ প্রাক্তন স্বাস্থ্যমন্ত্রী এবং বর্তমান সিপিআইএম রাজ্য সম্পাদক ডাঃ সূর্যকান্ত মিশ্রের নামে কোনও রেজিস্ট্রেশন নেই বলে জানিয়েছে রাজ্য মেডিক্যাল কাউন্সিল ৷

কাউন্সিলের সভাপতি ডা. নির্মল মাজি শুক্রবার জানান, এ রাজ্যের মেডিক্যাল কাউন্সিলে ডাক্তার হিসাবে সূর্যকান্তবাবুর নাম নেই৷ অথচ তিনি রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী হিসাবে দীর্ঘদিন কাজ করেছেন৷ তাঁর রেজিস্ট্রেশন নম্বর খতিয়ে দেখা হচ্ছে৷ অন্য রাজ্য বা এমসিআই-তে নাম রয়েছে কি না খোঁজ নেওয়া হচ্ছে৷ প্রয়োজনে কাউন্সিল তলব করবে সিপিএমের রাজ্য সম্পাদককে৷ এখানেই শেষ নয়৷ নির্মল মাজি এদিন একহাত নেন সূর্যকান্তবাবুদের৷ বলেন, “বাম জমানায় ব্যাঙের ছাতার মতো মেডিক্যাল সোসাইটি ও কাউন্সিল গড়ে মোটা টাকার বিনিময়ে ভুয়া ডিগ্রি দেওয়া হয়েছে হাজার হাজার মানুষকে৷ ওই টাকার ভাগ পার্টি ফান্ডেও গিয়েছে৷” তাঁর মন্তব্য, সূর্যকান্ত মিশ্রদের ‘পাপের প্রায়শ্চিত্ত’ করতে হচ্ছে মা-মাটি-মানুষের সরকারকে৷

বাম নেতা ডক্টর সূর্যকান্ত মিশ্রের রাজ্য মেডিক্যাল কাউন্সিলে কোনও রেজিস্ট্রেশনই নেই!

নিউজ ১৮-এর কাছে ওয়েস্ট বেঙ্গল মেডিক্যাল কাউন্সিলের সভাপতি দাবি করেছেন, ভুয়ো ডাক্তার ধরপাকড়ের জন্য রেজিস্টার্ড ডক্টরদের লিস্ট পরীক্ষা করার সময়ই সামনে এসেছে সিপিআইএম নেতা ডক্টর সূর্যকান্ত মিশ্রের এরাজ্যে কোনও রেজিস্ট্রেশন নেই ৷ নির্মলবাবুর দাবি, সূর্যকান্ত মিশ্রের থেকে এসম্পর্কে তথ্য চেয়ে পাঠান হয়েছে ৷ একইসঙ্গে অন্য রাজ্য বা এমসিআই-তে এই প্রবীণ নেতার নাম নথিভুক্ত আছে কিনা দেখা হচ্ছে ৷ যদিও নিয়ম অনুসারে ডাক্তারি পাশ করেই সবার আগে মেডিক্যাল কাউন্সিলে নাম নথিভুক্ত করাতে হয় ৷

অন্যদিকে, বাম আমলে দীর্ঘদিন স্বাস্থ্যমন্ত্রী হিসাবে কাজ করা ডক্টর সূর্যকান্ত মিশ্রের দাবি, তিনি ওড়িশার কটকের এসসিবি মেডিক্যাল কলেজ থেকে ১৯৭১ সালে এমবিবিএস পাস করেছেন ৷ এছাড়া ওই একই কলেজ থেকে যক্ষ্মা ও চেস্ট ডিজিজের উপর ডিপ্লোমাও করেন তিনি ৷

সূর্যকান্ত মিশ্রের ডিগ্রি নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করা ছাড়াও নির্মল মাজি বাম দলকেও চুড়ান্ত আক্রমণ করেন ৷ তিনি বলেন, বাম জমানায় মোটার বিনিময়ে ভুয়ো জাল ডিগ্রি দেওয়া হয়েছে হাজার হাজার মানুষকে আর সেই পাপের ফল ভোগ করতে হচ্ছে তৃণমূল সরকারকে ৷

এই বিষয়ে সূর্যকান্ত মিশ্রের তরফে কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি ৷

অন্যদিকে, কলকাতা থেকে জেলা। রাজ্যের সর্বত্রই ভুয়ো চিকিৎসকের খোঁজ মিলছে। যা নিয়ে রীতিমতো অস্বস্তিতে রাজ্য মেডিক্যাল কাউন্সিল। বিপাকে পড়ে এবার কড়া ব্যবস্থার পথে হাঁটছে তারা। শনিবার পর্যন্ত প্রায় ২৭ জন জাল চিকিৎসককে গ্রেফতার করা হয়েছে ৷ এর আগে ৫৫০ জনের বেশি জাল ডাক্তারের নাম সহ রিপোর্ট নবান্নে জমা দিয়েছে ৷

চিকিৎসদের প্রবল চাপ ও ভুয়ো ডাক্তারকাণ্ডে নাম জড়িয়ে যাওয়ায় শেষমেশ বোধোদয় রাজ্য মেডিক্যাল কাউন্সিলের। এবার থেকে সবসময় চিকিৎসককে কাউন্সিলের দেওয়া পরিচয়পত্র সঙ্গে রাখতে হবে। এছাড়া কোন বিষয়ে স্নাতকোত্তর পাস করছেন প্রেসক্রিপশনে তার উল্লেখ করতে হবে চিকিৎসকদের। রাজ্য মেডিক্যাল কাউন্সিলের বৈঠকে শুক্রবার এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে বেসরকারি হাসপাতালের ক্ষেত্রেও পুলিশ ভেরিফিকেশন বাধ্যতামূলক করার জন্য স্বাস্থ্য দফতরের কাছে আবেদন করছে কাউন্সিল।

RELATED STORIES

RECOMMENDED STORIES