রাষ্ট্রসঙ্ঘে সম্মানিত ‘কন্যাশ্রী’, এবার কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীরাও পাবেন এই সুবিধা

Elina Datta | News18 Bangla
Updated:Jul 28, 2017 07:25 PM IST
রাষ্ট্রসঙ্ঘে সম্মানিত ‘কন্যাশ্রী’, এবার কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীরাও পাবেন এই সুবিধা
Photo : AFP
Elina Datta | News18 Bangla
Updated:Jul 28, 2017 07:25 PM IST

#কলকাতা:  আরও ছড়াচ্ছে কন্যাশ্রী। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘোষণা, স্নাতকোত্তরেও চালু হচ্ছে কন্যাশ্রী। ৪৫ শতাংশ নম্বর পেলেই মিলবে বৃত্তি। রাষ্ট্রসংঘে সেরা সামাজিক প্রকল্প হিসাবে স্বীকৃতি পেয়েছে মুখ্যমন্ত্রীর স্বপ্নের এই প্রকল্প। এর যাবতীয় কৃতিত্ব রাজ্যের প্রায় ৪১ লক্ষ কন্যাশ্রীকেই দিলেন মুখ্যমন্ত্রী।

শুধু অষ্টম থেকে দ্বাদশ নয়, উচ্চশিক্ষাতেও রাজ্যসরকারের কন্যাশ্রী প্রকল্পের সুবিধা পাবেন বাংলার মেয়েরা ৷ কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেয়েদের জন্যও শীঘ্রই কন্যাশ্রী প্রকল্পের সুবিধা চালু করতে চলেছে রাজ্য সরকার ৷ শুক্রবার কন্যাশ্রী দিবসের অনুষ্ঠানে এ কথা জানালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

সম্প্রতি রাষ্ট্রসঙ্ঘে বিশেষ স্বীকৃতি পেয়েছে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কন্যাশ্রী প্রকল্প ৷ নাবালিকা কন্যাদের পড়াশুনা থামিয়ে বিয়ে দেওয়ার প্রবণতা সম্পূর্ণ বন্ধ করার উদ্দেশ্যেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্যোগে শুরু হয়েছিল কন্যাশ্রী প্রকল্প ৷ এই কবছরে এই প্রকল্পের কারণেই স্কুলছুট পড়ুয়াদের সংখ্যা অনেক কমেছে ৷

এদিন কন্যাশ্রী দিবসের অনুষ্ঠানে দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেন, রাজ্যের মেয়েদের উচ্চশিক্ষায় উৎসাহিত করার জন্য কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীরা শীঘ্রই কন্যাশ্রী প্রকল্পের সুবিধা পাবে ৷ তিনি বলেন,

‘এবার স্নাতকোত্তর বিভাগেও কন্যাশ্রী ৷ কলা বিভাগে ৪৫ শতাংশ নম্বর পেলেই পড়ুয়ারা আসবে কন্যাশ্রীর আওতায় ৷ মাসে তাদের ২ হাজার টাকা করে দেওয়া হবে ৷ অন্যদিকে, বিজ্ঞান বিভাগে ৪৫ শতাংশ পেলেই মিলবে কন্যাশ্রী-র সুবিধা ৷ বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্রীদের মাসে আড়াই হাজার টাকা করে দেওয়া হবে ৷’

ইতিমধ্যেই এই প্রকল্পের আওতায় রয়েছে ৪১ লক্ষ ১৩ হাজার পড়ুয়া ৷ এতদিন অষ্টম থেকে দ্বাদশ শ্রেণীর ছাত্রীরাই এই সুবিধা পেতেন ৷ যাদের পরিবারের বার্ষিক আয় ১ লাখ ২০ হাজার টাকার কম, সেই পরিবারের মেয়েদের কন্যাশ্রী প্রকল্পের আওতায় স্কলারশিপ দেয় রাজ্য সরকার ৷ রাজ্যের স্কুলগুলির মাধ্যমে সপ্তম ও অষ্টম শ্রেণীর ছাত্রীদের নাম সরকারি এই প্রকল্পে নথিভুক্ত করা হয় ৷ ১৮ বছর হওয়ার পর স্কুলের গন্ডি পেরোলে মেয়েদের উচ্চশিক্ষার জন্য সরকারের তরফ থেকে এককালীন ২৫ হাজার টাকা অথবা বার্ষিক ৫০০ টাকা দেওয়া হয় ৷ গড়ে প্রতিবছর ১৮ লক্ষ ছাত্রী বার্ষিক স্কলারশিপ ও ৩.৫ লাখ পড়ুয়া এককালীন স্কলারশিপ পায় ৷

শুধু স্নাতকোত্তরে কন্যাশ্রী শুরু করার ঘোষণা ছাড়াও আরও একটি ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী ৷ বিদেশে গবেষণা করতে ছাত্রীদের জন্যও থাকছে স্কলারশিপ।  তিনি বলেন- ‘আর্থিক প্রতিযোগিতা নয়, এবার হবে মেধা, সংস্কৃতির প্রতিযোগিতা ৷ ১০ ছাত্রীকে গবেষণার খরচ দেওয়া হবে ৷ খরচ দেবেন অনাবাসী ভারতীয়রা ৷ ছাত্রীদের কাছে মানবিক মুখ প্রত্যাশা করি ৷’

এদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘কন্যাশ্রী এখন বিশ্বশ্রী ৷ রাষ্ট্রসংঘের কাছে আমরা কৃতজ্ঞ ৷ বিশ্বের সেরা পুরস্কার পেয়েছে কন্যাশ্রী ৷ কন্যাশ্রীর বিশ্বজয়ে গর্বিত বাংলা ৷ কন্যাশ্রীর মেয়েদের অভিনন্দন ৷ মেয়েরা শুধু কন্যাশ্রী নয়, তারা ভাগ্যশ্রী ৷’

কন্যাশ্রীর সাফল্যে থামছে না রাজ্য। বরং আগামীদিনে  এই প্রকল্পকে মডেল করেই  সামাজিক সুবিধা আরও ছড়িয়ে দেওয়ার রাস্তায় হাঁটতে চায় রাজ্য। শুক্রবার মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণাতেই তা স্পষ্ট।

উল্লেখ্য, ইতিমধ্যেই সিলেবাসে অন্তর্ভুক্ত ‘কন্যাশ্রী’ ৷ তবে এবার রাষ্ট্রসংঘের এই বিশেষ স্বীকৃতির কথা তাতে যুক্ত করার জন্য প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে ৷ আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকেই পাঠ্যক্রমে থাকবে রাষ্ট্রসঙ্ঘে কন্যাশ্রীর স্বীকৃতির কাহিনী ৷

First published: 04:00:00 PM Jul 28, 2017
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर