রাজ্যে জুড়ে ছড়িয়ে প্রায় ৫৫০ ভুয়ো ডাক্তার, নবান্নে রিপোর্ট দিল CID

Jun 01, 2017 04:39 PM IST | Updated on: Jun 01, 2017 05:41 PM IST

#কলকাতা: শিশুপাচার চক্রের পর রাজ্যজুড়ে সক্রিয় ভুয়ো চিকিৎসকের চক্র। রাজ্য জুড়ে প্রায় সাড়ে পাঁচশো জাল চিকিৎসকের অস্থিত্বের প্রমাণ সহ বৃহস্পতিবার নবান্নে নিজেদের তদন্ত রিপোর্ট জমা দিল সিআইডি ৷

ভুল চিকিৎসায় রোগী মৃত্যুর একাধিক অভিযোগের মধ্যেই ভুয়ো চিকিৎসক চক্রে চিন্তিত রাজ্য মেডিক্যাল কাউন্সিল। অন্যের রেজিস্ট্রেশন নম্বর বা ভুয়ো ডিগ্রি ব্যবহার করে রোগীর প্রাণ নিয়ে ছিনিমিনি খেলছেন এই ধরনের চিকিৎসকরা। জেলার পাশাপাশি কলকাতায়ও সক্রিয় এই চক্র। মেডিক্যাল কাউন্সিলের অভিযোগ পেয়ে সিআইডি-র জালে ভেজাল ডাক্তাররা।

রাজ্যে জুড়ে ছড়িয়ে প্রায় ৫৫০ ভুয়ো ডাক্তার, নবান্নে রিপোর্ট দিল CID

রাজ্যে জুড়ে প্র্যাকটিস চালাচ্ছেন প্রায় ৫৫০ জন জাল চিকিৎসক ৷ সেই নিয়ে প্রায় পাঁচ পাতার তদন্ত রিপোর্ট নবান্নে জমা দিলেন তদন্তকারী অফিসাররা ৷ এদের মধ্যে প্রায় ১৪ জনকে ইতিমধ্যেই শনাক্ত করে তাদের উপর নজরদারি শুরু করেছে সিআইডি ৷ সূত্রের খবর, ওই ১৪ জন জাল চিকিৎসকের মধ্যে ২ জন বাইপাসের ধারে অবস্থিত কলকাতার প্রথম সারির দুটি হাসপাতালে কর্মরত ৷

আরও পড়ুন

প্রবেশিকা পরীক্ষায় পাশ না করেও মিলতে পারে ডাক্তারির ডিগ্রি!

অ্যানাসথেসিস্টের ডিগ্রি আছে। কিন্তু নেমেছেন হার্টের চিকিৎসায়। কেউ বা কমিনিউটি মেডিসিনে ডিপ্লোমা করেই ছুরি কাঁচি নিয়ে নেমে পড়েছেন জটিল অস্ত্রোপচারে। কেউ কেউ তো আবার এমন রেজিস্ট্রেশন নম্বর ব্যবহার করছেন যার অস্তিত্বই নেই। এমনই চিকিৎসদের কাছে প্রাণ হাতে করে ছুটে যাচ্ছেন আপনি, আমি, আমরা সবাই। ঘুণাক্ষরেও টের পাচ্ছেন না রোগীরা। রাজ্যের সঙ্গেই কলকাতাতেও সক্রিয় হয়ে উঠেছে ভেজাল চিকিৎসকদের চক্র। অভিযোগ পেয়ে নড়েচড়ে বসেছে রাজ্য মেডিক্যাল কাউন্সিল। তদন্তে নেমেছে সিআইডি।

উত্তর দিনাজপুর

--------------

৭ মে গ্রেফতার চোপড়া ব্লক স্বাস্থ্যকেন্দ্রের চিকিৎসক কাইজার আলম। ৭৯৮৪৫, এই ভুয়ো রেজিস্ট্রেশন নম্বরের মাধ্যমে চিকিৎসা। রাজ্য স্বাস্থ্য দফতরের অভিযোগ পেয়ে ধৃত। এর আগে প্রায় দু’বছর কলকাতার রুবি হাসপাতালের সঙ্গেও জড়িত। সিআইডি-র জেরায় চক্রের কলকাতা যোগ স্পষ্ট হয়।

মালদহ

------------

মালদহের তিন নম্বর গভঃ কলোনি এলাকা থেকে গ্রেফতার দুই হাতুড়ে চিকিৎসক সিদ্ধার্থ কর্মকার, আনিসুল হক। এমবিবিএস ডিগ্রি দাবি করে চিকিৎসা চালাচ্ছিলেন।

রিকশচালকদের এজেন্ট হিসেবে কাজে লাগানো হত।

জলপাইগুড়ি

--------------------------

নাগরাকাটার ধূমপাড়া স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকে গ্রেফতার চুক্তিভিত্তিক চিকিৎসক স্নেহাশিস চক্রবর্তী। বিহারের এক কলেজের ভুয়ো সার্টিফিকেট ব্যবহার। নাগরাকাটার BMOH-এর অভিযোগে গ্রেফতার। পরে ধৃতের পাঁচদিনের সিআইডি হেফাজত।

আলিপুরদুয়ার

----------------

মাদারিহাটের রাঙালিবাজনা উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ভুয়ো চিকিৎসক কাশীরাম হালদারকে গ্রেফতার করে সিআইডি।

বারাসত

---------

কাশীনাথ হালদারের থেকে জেরায় বারাসতে জাল ডাক্তার তৈরির কারখানার খোঁজ। বারাসতের হেলা বটতলার কাছে রমেশ বৈদ্য নামে এক ব্যক্তি অফিস খুলেছিলেন অল্টারনেটিভ মেডিসিনের সার্টিফিকেট ইস্যু করার। রাজ্য মেডিক্যাল কাউন্সিলের নামে সার্টিফিকেট ইস্যু করা হত। কুড়ি বছর ধরে রমরমিয়ে চলছিল এই কারখানা। সিআইডি হানায় অফিস থেকে উদ্ধার জাল মার্কশিট, নথি, হার্ডডিস্ক। অফিস সিল করে দেয় সিআইডি। পরে গ্রেফতার রমেশ বৈদ্য।

পূর্ব মেদিনীপুর

-------------

তনুময় প্রামাণিক নামে এক চিকিৎসককে গ্রেফতার করে পাঁশকুড়া থানার পুলিশ। বোর্ডে লিখতেন মেদিনীপুর ও মালদহ মেডিক্যাল কলেজের অধ্যাপক।

অন্যের রেজিস্ট্রেশন নম্বর ব্যবহার করে দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা ও নদিয়ায় চিকিৎসা।

কলকাতা

------------------

মৌলালির চেম্বার থেকে সিআইডি-র জালে প্রখ্যাত চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ নরেন পাণ্ডে। MBBS, MD (ডারমাটোলজি) ডিগ্রির দাবি ছিল তাঁর। বেলভিউ নার্সিংহোমের সঙ্গে ৫ বছর ধরে যুক্ত। দেশ ও আন্তর্জাতিক সম্মেলনের প্রধান উদ্যোক্তা হিসেবেও যোগদান। INTUC নেতা রমেন পান্ডের ভাই নরেন পান্ডে।

ভেজাল ডাক্তার ধরতে রাজ্য মেডিক্যাল কাউন্সিল বেছে বেছে সন্দেহভাজনদের নাম তুলে দিচ্ছে সিআইডি-র হাতে। চক্রের আরও চাঁইদের খোঁজে সিআইডি।

RELATED STORIES

RECOMMENDED STORIES