প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে ফের আশঙ্কা, নিয়োগের প্রক্রিয়ার অনিয়ম নিয়ে মামলা গ্রহণ হাইকোর্টের

Elina Datta | News18 Bangla
Updated:Feb 07, 2017 06:08 PM IST
প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে ফের আশঙ্কা, নিয়োগের প্রক্রিয়ার অনিয়ম নিয়ে মামলা গ্রহণ হাইকোর্টের
Photo : AFP
Elina Datta | News18 Bangla
Updated:Feb 07, 2017 06:08 PM IST

#কলকাতা: আবারও আইনি প্রক্রিয়ার বেড়াজালে প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ ৷ আদালত গ্রহণ করল নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে দায়ের হওয়া মামলা ৷ শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে উঠছে একাধিক প্রশ্ন তুলে হাইকোর্টে মামলা দায়ের করলেন ১০ জেলার প্রশিক্ষিত প্রার্থীরা ৷ বিচারপতি অরিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় মামলাকারীদের আবেদন শুনে মামলা দায়ের করার অনুমতি দেন ৷ এই মামলার ফলে নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে ফের তৈরি হল আশঙ্কা ৷ বৃহস্পতিবার কলকাতা হাইকোর্টে এই মামলার শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে ৷

দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর প্যানেল প্রকাশে এমন ঢাক গুড়গুড় অবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন উৎকন্ঠিত চাকরিপ্রার্থীরা ৷ নিয়োগ প্রক্রিয়ায় প্রথম থেকেই অস্বচ্ছতার সন্দেহ প্রকাশ করেছেন বহু টেট উত্তীর্ণ ৷ এবার পর্ষদের প্যানেল প্রকাশ করা নিয়ে গড়িমসি সহ একাধিক প্রশ্ন নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন ১০ জেলার প্রশিক্ষিত প্রার্থীরা ৷

ফের আইনি জটিলতায় প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ। প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের নিয়োগ পদ্ধতিকে চ্যালেঞ্জ করে মঙ্গলবার হাইকোর্টে মামলা দায়ের হল। দীর্ঘদিন ধরেই আইনি জটিলতায় প্রাথমিকে নিয়োগ আটকে ছিল। বিচারপতি সিএস কারনানের নির্দেশে প্রাথমিক টেটের ফল প্রকাশ হয়। তারপরই দোসরা ফেব্রুয়ারি থেকে কাউন্সিলিংয়ের মাধ্যমে শুরু হয় নিয়োগ প্রক্রিয়া। কিন্তু নিয়োগ প্রক্রিয়ার বেশ কিছু পদ্ধতিতে আপত্তি জানিয়ে মঙ্গলবার হাইকোর্টে মামলা হল।

প্রাথমিক নিয়োগে কেন মামলা?

-সম্পূর্ণ নিয়োগ তালিকা অপ্রকাশিত কেন?

- জেলা ভিত্তিক প্রশিক্ষিতদের ভাগাভাগি কেন?

- প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ তথ্য কেন এসএমএসে দেওয়া হচ্ছে?

- ইমেলে কেন নিয়োগ পত্র দেওয়া হবে?

-প্রশিক্ষিতদের অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে না কেন?

এমনই একাধিক প্রশ্ন তুলে মঙ্গলবার হাইকোর্টে মামলা করেন প্রশিক্ষিত নিয়োগ প্রার্থী প্রসেনজিত দত্ত-সহ কয়েকজন। দশ জেলার প্রশিক্ষিতরা হাইকোর্টে মামলা করেছেন। মঙ্গলবার মামলার জন্য বিচারপতি অরিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুমতি চাওয়া হয়। আবেদন মঞ্জুর করে বিচারপতি বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, মামলার শুনানি হবে বৃহস্পতিবার।

বহু প্রতীক্ষার পর গত ৩১ তারিখ সাংবাদিক সম্মেলন করে প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ সভাপতি মানিক ভট্টাচার্য জানান,‘প্রাথমিক শিক্ষক পদে নিয়োগের জন্য ৪১ হাজার ৬২৮ টি পদে প্রার্থীদের প্যানেল তৈরি হয়ে গিয়েছে ৷ মহামান্য কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশ ও রাজ্য সরকারের নিয়ম বিধি মেনে প্রশিক্ষিত সফল প্রার্থীদেরই আগে সুযোগ দেওয়া হয়েছে ৷ ১১ হাজার ৩০০ প্রশিক্ষিত প্রার্থীর প্যানেল তৈরির পর বাকি শূন্য পদে যোগ্যতা অনুযায়ী অপ্রশিক্ষিত প্রার্থীরা সুযোগ পেয়েছেন ৷’

এরপরই দফায় দফায় নির্বাচিত পরীক্ষার্থীদের নামের তালিকা প্রকাশ করতে শুরু করে পর্ষদ ৷ প্রথম দফায় ১২ হাজার প্যানেলভুক্ত চাকরি প্রার্থীর নাম ঘোষণার পর দ্বিতীয় দফায় ৫২৩১ জন প্রশিক্ষণহীন পরীক্ষার্থীদের তালিকা প্রকাশ করা হয় ৷ কিন্তু প্রথম থেকে ওয়েবসাইটে পুরো প্যানেল লিস্ট প্রকাশ নিয়ে দ্বিধা দেখা যায় পর্ষদের তরফে ৷ ওয়েবসাইটের নিরাপত্তার খাতিরে একসঙ্গে প্রায় ৪৩ হাজার পরীক্ষার্থীর নামের তালিকা অনলাইনে প্রকাশ করতে চায়নি পর্ষদ ৷ পরে ৪১ হাজার ৬২৮ জন প্যানেলভুক্ত পরীক্ষার্থী বদলে ওয়েবসাইটে মাত্র ১৭ হাজার পরীক্ষার্থীর নাম প্রকাশিত হয় ৷ পশ্চিমবঙ্গ প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ সূত্রে জানানো হয়, বাংলা মাধ্যম ছাড়া অন্য মাধ্যমের নির্বাচিত প্রশিক্ষণহীন প্রার্থীদের নাম রয়েছে ওই তালিকায় ৷

একইসঙ্গে মামলাকারীদের অভিযোগ, পূর্বের নিয়ম অনুযায়ী প্রশিক্ষিত প্রার্থীদের যথাযথ সুবিধা দেওয়া হচ্ছে না ৷ আগে প্রশিক্ষিত প্রার্থীরা ইচ্ছেমত যে কোনও পছন্দ জায়গার স্কুলের শিক্ষক পদ গ্রহণ করতে পারতেন কিন্তু এবারের প্রক্রিয়ায় প্রতি জেলার প্রশিক্ষিত প্রার্থীদের সেই জেলাতেই শূন্যপদে যোগ দিতে বলা হয়েছে ৷

প্রথমে আদালত তরফে জানানো হয়, মঙ্গলবার দুপুর ২টো নাগাদ বিচারপতি অরিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় মামলাকারীদের আর্জি শুনে নিজের সিদ্ধান্ত জানাবেন ৷ আবেদনকারীদের আর্জি শুনে প্রাথমিক নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে মামলা গ্রহণ করেন বিচারপতি ৷ এরপর বৃহস্পতিবারই জানা যাবে কি রয়েছে প্রাথমিক শিক্ষক পদে চাকরিপ্রার্থীদের ভাগ্যে ৷ ফের কি স্থগিত হতে চলেছে নিয়োগ!

First published: 05:50:39 PM Feb 07, 2017
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर