ইঁটের পাঁজড়ে বিশ্বযুদ্ধের অজস্র ছাপ, কলকাতার নস্ট্যালজিয়ায় ‘অ্যাংলো’ পাড়ার রঙিন ইতিহাস

Aug 02, 2017 02:09 PM IST | Updated on: Aug 02, 2017 03:31 PM IST

#কলকাতা: সেজে ওঠে বড়দিনে, হোম মেড লিকারের গন্ধে সে পাড়ায় হামেশায় ঢুঁ মারা ৷ আমরা বলি বো ব্যারাক ৷ অ্যাংলো ইন্ডিয়ানের বাস ৷ কলকাতার হয়েও যেন আদতে বাঙালিয়ানার সঙ্গে অল্প মিল ৷ মাছে ভাতে এরাও আছে ৷ আছেন কুকিস কেকে ৷ জীর্ণ বাড়ি জুড়ে এদের হাতের মুঠোয় বিশ্বযুদ্ধের ইতিহাস ৷ অ্যাংলো ইন্ডিয়ান ডে-তে ফিরে দেখা বো ব্যারাকের গলি ৷

এই শহরের মধ্যেকার অন্য এক শহর ৷  বিশ্বযুদ্ধের আমলে আমেরিকান সেনাদের মিলিটারি ব্যারাক ছিল ৷ ক্যালকাটা ইমপ্রুভমেন্ট ট্রাস্টের তরফে গড়া হয়েছিল বাড়িগুলি ৷ শতাব্দী প্রাচীন এই বাড়িগুলির আজ জরাজীর্ণ অবস্থা ৷ মাঝে এই বাড়িরগুলি ভেঙে ফেলা হবে কিনা তা নিয়ে জল্পনা শুরু হয়ে গিয়েছিল ৷ কিন্তু অবশেষে তা হয়নি ৷ কারণ বো-ব্যারাক কেবল একটি জায়গা নয় ৷ শহরের ঐতিহ্যের সঙ্গে যুক্ত থাকার পাশাপাশি এখানকার বাসিন্দারা অথার্ৎ অ্যাংলো ইন্ডিয়ার পরিবার এত বছর ধরে নিজেদের একটি সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডল তৈরি করেছে ৷

ইঁটের পাঁজড়ে বিশ্বযুদ্ধের অজস্র ছাপ, কলকাতার নস্ট্যালজিয়ায় ‘অ্যাংলো’ পাড়ার রঙিন ইতিহাস

সেন্ট্রাল অ্যাভিনিউ ও বউবাজারের সংযোগস্থলে ব্য-ব্যারাক ৷ কলকাতার ‘অ্যাংলো পাড়া’  বিশ্বযুদ্ধের সাক্ষী হিসেবে রয়ে গিয়েছে ৷ আজ বাড়িগুলো থাকলেও তাদের অবস্থা জরাজীর্ণ ৷ সংস্কার দরকার অথচ সরকারের তরফে রক্ষণাবেক্ষণও তেমন হয় না বলে অভিযোগ বাসিন্দাদের।

বর্তমানে লাল ইটের বাড়িগুলোয় ১৩০-১৩২টা পরিবার বাস করেন ৷ একশো বছরের পুরোন বাড়িগুলির ভগ্নাদশা হলেও এখনও বো ব্যারাক ও তাদের জীবন ফিকে হয়নি ৷ আজও রঙিন কলকাতার বো ব্যারাক ৷ প্রায় এক একর জমির ওপর অবস্থিত বো ব্যারাকের মোট সাতটি ব্লক ৷ নিজেদের ঝুঁকিতে বেঁচে রয়েছেন বাসিন্দারা ৷ পরিষেবা হিসেবে প্রতিদিন ৪০ মিনিটের জন্য পানীয় জল সরবরাহ ও একজন সুইপার বরাদ্দ করা হয়েছে বো ব্যারাকের জন্য সরকারের তরফে ৷

আজও চেনা ছন্দে সেজে ওঠে এই শহরের মধ্যেকার অন্য এক শহর। এখানে খ্রিস্টান পরিবারের সংখ্যা সাড়ে তিনশো। সারা বছর কাজের সূত্রে দেশ বিদেশে ছড়িয়ে থাকেন আত্মীয়সজন। কিন্তু, বছরের শেষে ক্রিসমাস ইভে ফিরে আসেন নিজের এলাকায়। বাড়তি পাওনা অ্যানা আন্টির হোম মেড ওয়াইন। সারাবছর বাড়িতেই ওয়াইন তৈরি করেন অ্যানা চাউ। বড়দিনের সময় তা দেদার বিক্রিও হয়। তবে শুধু ওয়াইন নয়, বেকারিতে তৈরি হয় রকমারি কেকও।

বো-ব্যারাকের বাড়িগুলি বিপজ্জনক ঘোষণা করার পর থেকেই তা নিয়ে শুরু হয়েছে বিতর্ক ৷ বো-ব্যারাকের পরিবারগুলির পুনর্বাসনের কথা বলা হলেও প্রবীণ বাসিন্দারা তা মানতে নারাজ ৷

RELATED STORIES

RECOMMENDED STORIES