মমতার মাথা কেটে আনলে ১১ লাখ টাকা পুরস্কারের ঘোষণা যুব বিজেপি নেতার

Apr 12, 2017 11:58 AM IST | Updated on: Apr 12, 2017 03:39 PM IST

#কলকাতা: খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মাথা কাটার ফতোয়া জারি করলেন ভারতীয় জনতা যুব মোর্চার নেতা যোগেশ ভার্সনেই ৷ সিউড়ির হনুমান জয়ন্তীর মিছিলে লাঠিচার্জ প্রসঙ্গে সরাসরি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মাথা কাটার নির্দেশ ৷

মঙ্গলবার সিউড়িতে গেরুয়া বাহিনীর মিছিল লাঠি চার্জের ঘটনায় প্রবল ক্রুদ্ধ যোগেশ ভার্সনে সংবাদ সংস্থার প্রতিনিধির ক্যামেরার সামনে ঘোষণা করেন, ‘যিনি বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মাথা কেটে আনতে পারবেন তাঁকে ১১ লক্ষ টাকা পুরস্কার দেব ৷ ওই ভিডিও দেখে একটি কথাই মনে আসছে যে, যদি কেউ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মাথা কাটতে পারবে তাকে এগারো লক্ষ টাকা পুরস্কার দেওয়া হবে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মাথা কেটে আন, ১১ লক্ষ টাকা পুরস্কার নিয়ে যাও। আমি দেব ১১ লক্ষ টাকা।’

মমতার মাথা কেটে আনলে ১১ লাখ টাকা পুরস্কারের ঘোষণা যুব বিজেপি নেতার

বলার ভঙ্গিমা খানিকটা বিজ্ঞাপনের মতো। আসলে তালিবানি কায়দায় মাথা কেটে ফেলার ফতোয়া দিচ্ছেন। খোদ পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীকে খুনের হুমকি।

আলিগড়ের ভারতীয় জনতা যুব মোর্চার নেতার এই ঘোষণায় প্রবল প্রতিক্রিয়া সব মহলে ৷ গেরুয়া বাহিনীর এই নেতার বিরুদ্ধে খুনের প্ররোচনার অভিযোগ উঠেছে ৷

আরও পড়ুন

‘মমতার মুণ্ডচ্ছেদ করতে আসুক,বাংলার লক্ষ-লক্ষ মানুষ সামনে দাঁড়িয়ে যাবে’, তীব্র প্রতিক্রিয়া পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের

কিন্তু কেন? বক্তৃতায় কোন ভিডিওর কথাই বা বলছেন যোগেশ ভার্সনেই? মঙ্গলবার সিউড়িতে হিন্দু জাগরণ মঞ্চের হনুমান জয়ন্তীর মিছিল ছিল। তাকে ঘিরেই উত্তেজনা চরমে পৌঁছয়। পরিস্থিতি আয়ত্তে আনতে লাঠিচার্জ করে পুলিশ। সেই ভিডিও দেখেই নাকি মেজাজ বেজায় গরম হয়েছে আলিগড়ের বিজেপি ওই যুব নেতার। তাই, রাজনীতির পাঠ ভুলে মুখ্যমন্ত্রীকেই খুনের হুমকি দিয়ে বসেছেন তিনি।

গতকাল হনুমান জয়ন্তীর মিছিল নিয়ে সিউড়িতে গেরুয়া শিবিরের তাণ্ডব চলে। পুলিশ অনুমতি না দিলেও জোর করে মিছিল করে হিন্দু জাগরণ মঞ্চ। পুলিশ মিছিল আটকালে শুরু হয় ধস্তাধস্তি। মিছিল থেকে পুলিশকে লক্ষ্য ইট ছোড়া হয়। পালটা লাঠি চালায় পুলিশ। নামে র‍্যাফ, কমব্যাট ফোর্স। দুই সিভিক ভলান্টিয়ারকে বিজেপি কার্যালয়ে ঢুকিয়ে মারধরেরও অভিযোগ ওঠে।

রামনবমীর মিছিল ঘিরে বিতর্ক দানা বেঁধেছিল। মিছিলে অস্ত্রব্যবহার নিয়ে শুরু হয় বিতর্ক। প্রবল সমালোচনার মুখে পড়ে বিজেপি। মঙ্গলবার সিউড়িতে হনুমান জয়ন্তীর মিছিল নিয়েও বিতর্ক পিছু ছাড়ল না। ফের অশান্তির আশঙ্কায় পুলিশ মিছিলের অনুমতি দেয়নি। অনুমতি ছাড়াই মিছিল শুরু করে হিন্দু জাগরণ মঞ্চ। মাদ্রাসা রোডে মিছিল আটকায় পুলিশ। মুহূর্তের মধ্যে রণক্ষেত্র হয়ে ওঠে পরিস্থিতি। শুরু হয় পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তি। পুলিশকে লক্ষ করে ইট পাথর ছুড়তে থাকে বিক্ষোভকারীরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পালটা লাঠি চালায় পুলিশ। নামে র‍্যাফ, কমব্যাট ফোর্স।

আরও পড়ুন

রাজ্যে যা চলছে সেটা নিন্দনীয় কিন্তু মুখ্যমন্ত্রীর মাথা কাটার মন্তব্যের সমর্থন করে না বিজেপি, নিন্দায় দিলীপ-বিজয়বর্গী

গন্ডগোলের জেরে পুলিশি পাহারায় ঘুরপথে শেষ হয় মিছিল। সিউড়ির আইনশৃঙ্খলা নিয়ে এসপির দফতরে তড়িঘড়ি আলোচনায় বসেন স্পেশাল আইজি ডিআইজি বর্ধমান রেঞ্জ রাজেশকুমার সিং। মিছিলে থাকার কথা ছিল বিজেপি রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষেরও। মিছিলের অনুমতি না মেলায় ছিলেন না তিনি।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কেন এমন নখদাঁত বের করে আক্রমণ বিজেপি নেতার? যোগেশের মত, ‘গীতাতেই নাকি এই নিদান দেওয়া রয়েছে। গীতায় ভগবান শ্রীকৃষ্ণ অর্জুনকে যুদ্ধ করতে বলেছিলেন। ধর্ম রক্ষা করতে বলেছিলেন। তখন, অর্জুন প্রশ্ন করেন, আপনি ভগবান হয়ে যুদ্ধ করার কথা কীভাবে বলছেন? শ্রীকৃষ্ণ তখন উত্তর দেন, একটা সময় আসবে তখন অধার্মিকের সংখ্যা বেড়ে যাবে। তাদের বোঝালেও বুঝবে না। তখন তাদের এমনই দণ্ড দিতে হবে। এটাই নিয়ম। তেমনই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কোনও কাজে মানবতা নজরে আসে না। তাঁর সব কাজেই খালি শয়তানি। তাই তাঁর এই পৃথিবীতে বেঁচে থাকার অধিকার নেই।’

যোগেশ ভার্সনেইয়ের এই মন্তব্যকে অবশ্য ধর্মযুদ্ধ হিসেবে মোটেই দেখছে না বিজেপি। প্রায় অচেনা যোগেশ অনেকটা পরিচিতি আদায় করে নিলেও, বিতর্কে পড়ে দূরত্ব বজায় রাখার বার্তাই দিচ্ছে গেরুয়াশিবির।

RELATED STORIES

RECOMMENDED STORIES