দু চাকায় পাড়ি হিমালয়, বিরল কৃতিত্ব গড়ার পথে বাঙালি তরুণ

Elina Datta | News18 Bangla
Updated:Mar 27, 2017 11:35 AM IST
দু চাকায় পাড়ি হিমালয়, বিরল কৃতিত্ব গড়ার পথে বাঙালি তরুণ
Photo : AFP
Elina Datta | News18 Bangla
Updated:Mar 27, 2017 11:35 AM IST

#কলকাতা: অ্যাডভেঞ্চারই তাঁর নেশা ৷ তবে এ নেশা সর্বনাশা নয় ৷ নিজের প্রিয় দু’চাকাকেই সম্বল করে ট্রান্স হিমালয় ও সার্ক অন্তর্ভুক্ত দেশগুলির উদ্দেশ্যে পাড়ি দিয়েছে বারাসতের চন্দন বিশ্বাস ৷ সাইকেলে চেপে ২৪০ দিনে মোট ৮০০০ কিলোমিটার রাস্তা অতিক্রম করবেন তিনি ৷

একসময় পেশা ছিল সাংবাদিকতা ৷ এখন সম্বল শুধুই নেশা ৷ সমবয়সী আর পাঁচটা যুবকের থেকে আলাদা চন্দনকে কী কাজ করা হয় প্রশ্ন করলে উত্তর আসে, ‘উত্তরীয় সংগ্রহই এখন আমার কাজ ৷’

নেশার টানে সাইকেলে চেপে মাঝে মধ্যেই অনন্তের উদ্দেশ্যে অ্যাডভেঞ্চারের খোঁজে বেরিয়ে পড়েন এই তরুণ ৷ এর আগে দল বেঁধে বহু অ্যাডভেঞ্চার ট্রিপে অংশ নিলেও, এরকম কঠিন রাস্তায় একক ট্রিপ এই প্রথম ৷ কলকাতা থেকে শুরু করে বাংলাদেশ নেপাল ভুটান হয়ে ভারতের ত্রিপুরা, অরুণাচল প্রদেশ, মণিপুর, নাগাল্যান্ড উত্তরাখণ্ড, হিমাচল প্রদেশ হয়ে ভূস্বর্গ অর্থাৎ কাশ্মীরে গিয়ে থামবে চন্দনের সাইকেল ৷ আবহাওয়া ও শরীর সঙ্গ দিলে ২৪০ দিনের মধ্যে এই জার্নি শেষ করতে পারবেন বলে আত্মবিশ্বাসী চন্দন ৷

ছবি সৌজন্যে- চন্দন বিশ্বাস (ফেসবুক) ছবি সৌজন্যে- চন্দন বিশ্বাস (ফেসবুক)

ইতিমধ্যেই অভিযানের ৩১ দিন কাটিয়ে ফেলেছেন তিনি ৷ ১৭ ফেব্রুয়ারি কলকাতা থেকে যাত্রা শুরু করেন তিনি ৷ যাত্রা পথে চন্দনের প্রথম স্টপেজ ছিল বাংলাদেশের যশোর ৷ এরপর ২১ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে ভাষা দিবস উদযাপনের পর খুলনা, ফিরোজপুর, বরিশাল এবং রাজধানী ঢাকা হয়ে ফের পাড়ি দেন ভারতের উদ্দেশ্যে ৷ আখুরা-আগরতলা বর্ডার হয়ে আগরতলায় পৌঁছায় অ্যাডভেঞ্চার বয় ৷

এত দীর্ঘ পথ লাগেজ নিয়ে সাইকেলে চেপে পাড়ি দেওয়া সহজ কথা নয় ৷ তার উপর রাস্তার চড়াই-উতরাই ৷ কখনও চাইলেও মেলে না পছন্দমতো খাবার ৷ তবুও কোনও কিছুর পরোয়া নেই এই বছর একত্রিশের তরুণের ৷ তবে পরিকল্পিত যাত্রাপথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে আইন-শৃঙ্খলা ৷ অশান্ত রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে যাত্রাপথের থেকে মায়ানপুর ও মণিপুরকে বাদ রাখতে বাধ্য হন অ্যাডভেঞ্চার বয় ৷

তাই রুট বদলে শিলচর থেকে বেরিয়ে যাত্রার ১৯ দিনের মাথায় হাফলং পৌঁছান চন্দন ৷ কলকাতা থেকে হাফলংয়ের দুরত্ব প্রায় ৮৫০ কিমি ৷ এরপরের গন্ডব্য ছিল আসামের লামডিং ৷ সেখান থেকে ডিমাপুর ৷ দিন তিনেক আশপাশের এলাকা ভ্রমণ করে ফের শুরু অ্যাডভেঞ্চার ৷ আস্তে আস্তে দুর্গম হচ্ছে রাস্তা ৷ তবু ক্লান্তিহীন এই তরুণের উৎসাহের খামতি নেই ৷

ছবি সৌজন্যে- চন্দন বিশ্বাস (ফেসবুক) ছবি সৌজন্যে- চন্দন বিশ্বাস (ফেসবুক)

৩২ তম দিনে শুরু হচ্ছে যাত্রা পথের সবথেকে কঠিনতম অংশের সফর ৷ অভিযানের প্রধান অংশ: ট্রান্স-হিমালয়া। ইস্ট-অরুণাচল থেকে লাদাখ। গত এক বছর ধরে এই রুট নিয়ে রিসার্চ করেছেন চন্দন ৷ এই অভিযানের ব্লু-প্রিন্ট তৈরির আগে ম্যাপ বই, ন্যাটমো ছাড়াও সাহায্য নিয়েছেন সার্ভে অফ ইন্ডিয়া, নেপাল অ্যামব্যাসি, ভুটান অ্যামবাসিরও ৷ এই রুটে এর আগে পাবলিক ট্রান্সপোর্টে, বাইকে মায় পায়ে হেঁটে অভিযান হলেও একক সাইকেল অভিযান এই প্রথম ৷ পাসীঘাট, জিরো হয়ে ইটানগরের পথ ধরেছে অ্যাডভেঞ্চার প্রিয় সাহসী ছেলেটি ৷

দেশ-প্রতিবেশী দেশ ভ্রমণ শেষে কাশ্মীরের খার দুংলা পাসে থামবে চন্দনের দু’পেয়ে পক্ষীরাজ ৷ তবু শখের খামতি নেই ৷ চন্দন জানিয়েছেন, অনুমতি পেলে তিনি সিয়াচেনে সেনা বেস ক্যাম্পে গিয়ে শেষ করতে চান তাঁর সফর ৷ আত্মবিশ্বাসী এই তরুণের অভিনব প্রয়াসের জন্য আমাদের তরফ থেকে রইল অনেক শুভেচ্ছা ৷

First published: 04:03:21 PM Mar 26, 2017
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर