প্রয়াত বাংলার বিখ্যাত চারু শিল্পী উৎপল চক্রবর্তী

May 28, 2017 06:49 PM IST | Updated on: May 28, 2017 06:49 PM IST

#কলকাতা: চলে গেলেন বাংলার বিখ্যাত চারু শিল্পী উতপল চক্রবর্তী । তাকে শ্রদ্ধা জানাতে উপচে পড়ল শিল্পী , শুভানুধ্যায়ী দের ভিড় । এই পৃথিবীতে কিছু কিছু মানুষ জন্মান যাঁদের কাছে দেশ কাল বড় নয় । মানুষের জন্য কাজ করতে করতে তাঁরা যেখানে থাকেন সেখানের মানুষকেই নিজের পরমআত্মীয় করে নেন । তেমনই একজন ছিলেন উৎপল চক্রবর্তী । বাংলার বিখ্যাত এই চারু শিল্পী আজ চলে গেলেন ।বাংলার জন্য রেখে গেলেন তাঁর অসামান্য বহু কির্তী , অসংখ্য ছাত্র ছাত্রী ও তাঁর সন্তান সম ‘অভিব্যাক্তি’কে ।

উৎপল চক্রবর্তী । প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতির বিন্দুমাত্র পরোয়া না করা আপাদমস্তক বেপোরোয়া এই মানুষটি নিজেই নিজেকে একটি অন্যতম প্রতিষ্ঠান হিসাবে গড়ে তুলেছিলেন । দেশ ভাগের বেশ কয়েকবছর আগে বাংলাদেশের বগুড়া থেকে এরাজ্যের বালুরঘাটে চলে এসেছিলেন সম্ভ্রান্ত চক্রবর্তী পরিবার ।১৯৩৮ সালের ২৯ মে সেই পরিবারেই জন্ম নেন উৎপল চক্রবর্তী । বালুরঘাটে অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত পড়াশোনা করে পরিবারের সঙ্গে মালদা চলে আসেন তিনি । সেখানে কলেজের পড়াশোনা শেষ করে নিজে ট্যাক্সি ড্রাইভার হিসাবে কর্মজীবন শুরু করেন । অল্পদিন পরেই স্থানীয় একটি প্রাথমিক স্কুলে শিক্ষক হিসাবে যোগ দেন।কিছুদিন চাকরী করার পর প্রাথমিক শিক্ষকের চাকরীতে পদত্যাগ করে বানিপুর প্রাথমিক শিক্ষক শিক্ষন শিবিরে অধ্যাপক হিসাবে যোগ দেন । গত শতকের মাঝামাঝি তিনি বদলী হয়ে বাঁকুড়ার ছান্দারে প্রাথমিক শিক্ষক শিক্ষন শিবিরে কাজে যোগ দেন । ছোট থেকেই চারু ও কারু শিল্পে ঝোঁক থাকায় অধ্যাপনার পাশাপাশি সেই কাজ চালিয়ে যান তিনি । সত্তরের দশকের শেষ ভাগে শিল্প সাধনায় পুরোপুরি ডুবে যেতে অধ্যাপনার কাজ ছেড়ে ছান্দারে অভিব্যাক্তি নামে নিজের আশ্রম গড়ে তোলেন ।

প্রয়াত বাংলার বিখ্যাত চারু শিল্পী উৎপল চক্রবর্তী

এরপর দিন যত গড়িয়েছে ততই ছান্দারের অভিব্যাক্তির পরিধি যেমন বেড়েছে তেমনই উৎপল চক্রবর্তীর খ্যাতি ছরিয়ে পড়েছে দেশে বিদেশে ।নিজের অভিব্যাক্তিতে বসে কঠোর সাধনায় উৎপল চক্রবর্তী কাটুম কুটুম , চিত্রকলা , হস্ত শিল্প , ভাস্কর্য ও লোক সঙ্গীত শিল্পে ক্রমশ বিখ্যাত হয়ে ওঠেন । শুধু নিজে সাধনা করা নয় সাধনায় অর্জিত জ্ঞান অন্যের মধ্যে বিলিয়ে দিতে এই শিল্পী ছিলেন অকৃপন । নিপাট এই ভাল মানুষটির ইচ্ছা ছিল বাঁকুড়া জেলার শিল্প ও সংস্কৃতির অন্যতম পিঠস্থান হিসাবে তিলে তিলে গড়ে তোলা অভিব্যাক্তি কে আগামী প্রজন্মের জন্য বাঁকুড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের হাতে তুলে দেওয়ার । সে প্রক্রিয়া শুরুও হয়েছিল । কিন্তু তার আগেই আজ সকালে বাঁকুড়ার একটি বেসরকারি নার্সিংহোমে জীবনাবসান হয় তাঁর । তাঁর মৃত্যুর খবর ছরিয়ে পড়তেই অই নার্সিংহোমে পৌঁছে যান বাঁকুড়ার বিধায়ক , জেলার পুলিশ সুপার সহ শিল্প সংস্কৃতি জগতের অগনিত মানুষ । রক্তের সম্পর্ক না থাকলেও পরমাত্মীয়কে হারানোর যন্ত্রণায় এদিন চোখের জলে ভেসেছেন অনেকেই । সকলেরই দাবি উৎপল চক্রবর্তীর চলে যাওয়া বাংলার শিল্প সংস্কৃতি জগতের এক অপূরণীয় ক্ষতি ।

RELATED STORIES

RECOMMENDED STORIES