সঞ্জয়ের চিকিৎসায় অ্যাপোলোর গাফিলতি, জমা পড়ল রিপোর্ট

Elina Datta | News18 Bangla
Updated:Mar 05, 2017 09:40 AM IST
সঞ্জয়ের চিকিৎসায় অ্যাপোলোর গাফিলতি, জমা পড়ল রিপোর্ট
Photo : AFP
Elina Datta | News18 Bangla
Updated:Mar 05, 2017 09:40 AM IST

#কলকাতা: এমনই জানাচ্ছে স্বাস্থ্য সচিবের কাছে জমা পড়া রিপোর্ট ৷ ডানকুনির বাসিন্দা সঞ্জয় রায়ের মৃত্যুতে দায়ী অ্যাপোলো হাসপাতাল ৷ সঞ্জয়কে SSKM-এ পাঠাতে অযথা সময় নষ্ট করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তার স্পষ্ট প্রমাণ মিলেছে ৷

প্রাথমিক প্রমাণ আগেই মিলেছিল। সঞ্জয় রায়ের চিকিৎসায় অ্যাপোলোর গাফিলতির অভিযোগ মেনে নিয়েছে রাজ্য সরকারের বিশেষজ্ঞ কমিটি। ৬ সদস্যের বিশেষজ্ঞ কমিটির শুক্রবারই রিপোর্ট জমা দেয় মুখ্যমন্ত্রীকে। রিপোর্টে অ্যাপোলোর গাফিলতির প্রমাণ মিলেছে বলে আগেই জানিয়েছিল বিশেষজ্ঞ কমিটি। সঞ্জয়ের মৃত্যু নিয়ে স্বাস্থ্য সচিবের কাছে জমা পড়া তদন্ত কমিটির রিপোর্টও তাই বলছে ৷ রিপোর্টে যে অভিযোগগুলি সামনে এসেছে তা হল,

-সঞ্জয়কে SSKM-এ পাঠাতে অযথা সময় নষ্ট করে অ্যাপোলো কর্তৃপক্ষ

-ICU-তে সঞ্জয়ের সঠিক নজরদারি হয়নি

-প্রশ্ন উঠেছে সঞ্জয় রায়ের চিকিৎসার বিল নিয়েও প্রায় ৪০% অতিরিক্ত খরচ নেওয়া হয়েছে

-বিলে একই পরীক্ষা একাধিকবার দেখানো

-প্রশ্ন অহেতুক একাধিক ওষুধ ও ইঞ্জেকশনের ব্যবহারেও

-সঞ্জয়ের চিকিৎসা নিয়ে অন্ধকারে পরিবার ৷ শারীরিক অবস্থার অবনতির পরেও পরিবারকে জানায়নি অ্যাপোলো

-টাকার জন্য চাপ দেওয়ার প্রমাণ মিলেছে

-চিকিৎসকদের উপরেও চাপ অ্যাপোলোর

-চিকিৎসকদের স্বাধীনভাবে কাজে বাধা দিয়েছে হাসপাতাল

অন্যদিকে, স‍ঞ্জয় রায় মৃত্যু মামলার তদন্তে মোট বাইশজনের তালিকা তৈরি করে ফুলবাগান থানা। তালিকায় ছিলেন অ্যাপোলো হাসপাতালের নার্সিং স্টাফ, ট্রলি বয়, ক্যাশিয়ার এবং চিকিৎসকরা। এদের মধ্যে ষোলো জনকে নোটিস পাঠিয়ে তলব করে ফুলবাগান থানা। অ্যাপোলোর এমারজেন্সি বিভাগের চিকিৎসক অরিজিৎ বোসকেও পুলিশ ডেকে পাঠায়। দীর্ঘক্ষণ জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় তাঁকে।

ডানকুনির সঞ্জয় রায়ের চিকিৎসায় অ্যাপোলোর বিরুদ্ধে গাফিলতির প্রমাণ মিলেছে। শুক্রবার রাজ্যের ৬ সদস্যের বিশেষজ্ঞ কমিটি মুখ্যমন্ত্রীর কাছে রিপোর্ট জমা দিয়েছে। সঞ্জয় রায়ের পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করেছে ফুলবাগান থানা। মোটরবাইক দুর্ঘটনায় গুরুতর জখম সঞ্জয়কে ষোলো ফেব্রুয়ারি অ্যাপোলো হাসাপাতালে ভর্তি করা হয়। টানা এক সপ্তাহ ওই বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি।

-- শনিবার নোটিস পান অ্যাপোলোর ১৬ জন কর্মী

-- ৭ দিনের মধ্যে ফুলবাগান থানায় হাজিরার নির্দেশ

-- তালিকায় রয়েছেন ট্রলি বয়, নার্সিং স্টাফ, ক্যাশিয়ার, নিরাপত্তারক্ষী ও চিকিৎসকরা

-- থানায় বয়ান রেকর্ড করে সঞ্জয়ের পরিবারের কাছে পাওয়া তথ্যের সঙ্গে তা মিলিয়ে দেখা হবে

সমন পেয়ে শনিবার দুপুরে ফুলবাগান থানায় যান অ্যাপোলোর এমারজেন্সি বিভাগের চিকিৎসক অরিজিৎ বসু ও একজন সিকিউরিটি ইনচার্জ। দীর্ঘ সময় ধরে তাঁদের জেরা করে পুলিস। শুক্রবারই অ্যাপোলো হাসপাতালে গিয়ে বেশ কিছু নথি ও সিসিটিভির হার্ড ডিস্ক বাজেয়াপ্ত করেন তদন্তকারীরা।

-- অ্যাপোলোর রিসেপশন ও বিলিং সেকশনের সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে পুলিশ

-- সঞ্জয় রায়ের পরিবারের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের কোনও প্রমাণ মেলেনি

-- প্রাথমিকভাবে পরিবারের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের অভিযোগ খারিজ করেছেন তদন্তকারীরা

ষোলোজনের পর আরও পাঁচজনকে নোটিস পাঠাবে পুলিশ। বাজেয়াপ্ত নথি থেকে উঠে আসা এই কর্মীদের জেরা করে সঞ্জয় রায়ের মৃত্যুতে অ্যাপোলোর আরও কী কী গাফিলতি ছিল তা জানতে চায় ফুলবাগান থানা।

First published: 09:37:57 AM Mar 05, 2017
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर