Birthday Special: ‘নাম আমার কিশোর কুমার গাঙ্গুলি’, জন্মদিনে অমরশিল্পীকে বিশেষ শ্রদ্ধার্ঘ

Aug 04, 2017 02:13 PM IST | Updated on: Aug 04, 2017 02:20 PM IST

#কলকাতা: এনসেকট্রিক জিনিয়াস।কারো মতে তিনি মূর্তিমান পাগল। আর পাগলামিই তো জিনিয়াসের লক্ষ। এই জন্যই তাঁর সম্পর্কের অমোঘ উক্তিটি করা যায়। ইন এভরি লুনাটিক, দেয়ার ইজ মিসআন্ডারস্টুড জিনিয়াস। তাঁর একদিকে বমচিকা বমচিকা বা সিং নেই তবু নাম তার সিংহ।

আভাস কুমার গঙ্গোপাধ্যায় থেকে কিশোর কুমার। জার্নিটা খুব সহজ ছিল না। কিন্তু ওই যে বলে না অবলীলায় সবকিছুকে উড়িয়ে দেওয়া। যে কোনও প্রতিকুল অবস্থাকে শুধু হাসি মজায় উড়িয়ে ভারতীয় সঙ্গীতের কিংবদন্তী হয়ে উঠেছিলেন এই মানুষটি।

Birthday Special: ‘নাম আমার কিশোর কুমার গাঙ্গুলি’, জন্মদিনে অমরশিল্পীকে বিশেষ শ্রদ্ধার্ঘ

গান না অভিনয়। এই নিয়ে দাদা অশোক কুমারের সঙ্গে কিছুটা মতবিরোধ হয়। অশোক কুমার চেয়েছিলেন ভাই অভিনয় করুক, কিন্তু কিশোর চাইছিলেন সঙ্গীতের নিজেকে প্রতিষ্ঠা করতে। শেষ পর্যন্ত কিশোরের জেদের কাছে হার মানতে হয় দাদামনিকে।

এখান থেকেই কিশোর গানের উঠে এল সেই অমোঘ কয়েনেজ। সেটা হল ইয়োডলে। এমনিতেই কে এল সায়গলের অন্ধ ভক্ত ছিলেন তিনি. বরাবরই তাঁকে গুরু মেনে এসেছেন। নিজের স্বরকে নিয়ে খেলতে পারতেন অনায়াসে।

তাল ছন্দের সঙ্গে যে ভাবে তিনি মিশিয়ে দিতে পারতেন, তাঁর নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি, তা সত্যিই বিরল। গানের গায়কী নয় কিশোরের গানের প্রধান উপাদানই ছিল জীবনীশক্তি ও প্রাণপ্রাচুর্য। একবার যা শুনলে রীতিমতো মনে হত সুর ও স্বরের ভাগ্যবিধাতা হয়ে উঠেছিলেন এই মানুষটি।

কিশোর কুমার আরও একটি দিক নিয়ে কথা বললেই নয়, সেটি হল তাঁর নারী প্রেম। তিনি বরাবরই মনে করছেন নারীদের ভালবাসা খুবই রেয়ার জিনিস। যাকে অর্জন করতে হয়। তাই একের পর এক নারীর সঙ্গে প্রেম করেছেন, বিয়ে করেছেন, সম্পর্ক ভেঙে গিয়েছে, কিন্তু তিনি প্রেমিকই থেকে গিয়েছেন ।

সাতাশি সালে আটান্ন বছর বয়সে কিশোর কুমারের মৃত্যু থামিয়ে দিল মহান শিল্পীর জীবন। মুকুল দত্ত লিখেছিলেন আমার পুজার ফুল ভালবাসা হয়ে গেছে। কিশোর কুমারের ক্ষেত্রে কিন্তু উল্টোটাই। তার ভালবাসাই তাঁর পুজার ফুল হয়ে উঠেছিল। কোনও এক ঘনিষ্ঠ ব্যক্তির সামনে নিজের মূল্যায়ন করতে গিয়ে আঙুল দিয়ে নিজের গলা দেখিয়েছিলেন কিশোর কুমার। আসলে গানটাই কিশোর কুমার।

শুধু অভিনয় নয়, গায়ক হিসেবেও নাম করেছিলেন অশোক ৷ ঠিক এই সময়ই কে এল শয়েগলের গানে প্রভাবিত হয়ে, কিশোর কুমার গান গাওয়ার ইচ্ছে প্রকাশ করেন ৷ কিন্তু অশোক কুমার নাকি সোজা সাপটা জানিয়েছিলেন গায়ক হতে হবে না ৷ অভিনয় কর!

দাদা অশোক কুমারের কথা একদম ফেলে দেননি কিশোর ৷ তবে রেখেছেন নিজের ইচ্ছেকেও ৷ অভিনয়, গান সবদিকেই নিজের সেরাটা দিয়েছেন কিশোর কুমার !

কিশোর কুমারকে নিয়ে হিন্দি ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে নানারকম মজার খবর রয়েছে ৷ প্রযোজক ও পরিচালকদের জন্য নাকি কিশোর কুমার বাড়ির গেটে লিখে রাখতেন ‘কিশোর কুমার থেকে সাবধান !’

মনে হলে, রাত তিনটে নাগাদও গানের রের্কডিং করতে পিছপা হতেন না কিশোর ৷ গানের আগে খুব একটা রির্হাসলকে পাত্তা দিতে না কিশোর ৷ একবারেই বাজিমাত ছিল কিশোরের ফিলোজফি !

RELATED STORIES

RECOMMENDED STORIES