খাদিমকর্তা অপহরণ মামলায় আজ দ্বিতীয় পর্বের রায় ঘোষণা

Elina Datta | News18 Bangla
Updated:Dec 08, 2017 12:52 PM IST
খাদিমকর্তা অপহরণ মামলায় আজ দ্বিতীয় পর্বের রায় ঘোষণা
খাদিমকর্তা অপহরণ মামলা
Elina Datta | News18 Bangla
Updated:Dec 08, 2017 12:52 PM IST

 #কলকাতা: রাজ্যের অপরাধের ইতিহাসে সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর মামলার রায় আজ। খাদিমকর্তা পার্থ রামবর্মণ অপহরণ মামলায় রায় দেবে আলিপুর আদালত। ২০০৯ সালে মামলার প্রথম পর্যায়ের রায় ঘোষণা করে আদালত। দ্বিতীয় পর্বের রায় ঘোষণা হবে আলিপুর কেন্দ্রীয় সংশোধনাগারের বিশেষ আদালতে।

খাদিম কর্তা অপহরণ। কলকাতার বুকে সংঘটিত যে অপরাধের শিকড় পৌঁছেছিল দুবাই পর্যন্ত। পরে তাতে উঠে আসে মার্কিন সেন্টারে হামলার যোগসূত্রও। সাড়াজাগানো সেই মামলার সাজা আজ।

২৩ জুলাই, ২০০১

তিলজলা থেকে অপহৃত হন খাদিমকর্তা পার্থ রায়বর্মন

১ অগস্ট, ২০০১

৮ দিন পর বাড়ি ফিরে আসেন খাদিমকর্তা

অপহরণের ঘটনায় মাস্টারমাইন্ড হিসাবে উঠে আসে আফতাব আনসারির নাম। ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী বসিরহাটের হাড়োয়ার গোপালনগরে অপহরণ করে রাখা হয়েছিল খাদিমকর্তাকে। ৩ কোটি ৭৫ লক্ষ টাকা মুক্তিপণের বিনিময়ে ছেড়ে দেওয়া হয় তাঁকে। যদিও মুক্তিপণের কথা কখনই স্বীকার করেননি খাদিমকর্তা বা তাঁর পরিবার।

এই ঘটনার সঙ্গে জুড়ে যায় আমেরিকান সেন্টার হামলার ঘটনা। জুড়ে যায় আসিফ রেজা কম্যান্ডো ফোর্স বা এআরসিএফের নাম। এআরসিএফের হরকৎ উল জিহাদি ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ ছিল। কলকাতা, আগ্রা, মুম্বই, মালেগাঁও, সুরাতে ততদিনে জাঁকিয়ে বসেছে এআরসিএফ সদস্যরা। আফতাব আনসারি, আসিফ রেজা খান, আমীর রেজা খানদের মতো থিঙ্কট্যাঙ্কদের সফট টার্গেট ছিলেন পার্থ রায়বর্মণের মতো কোটিপতি ব্যবসায়ীরা। তোলপাড় শুরু হয় রাজ্যজুড়ে। শুরু হয় বিচার।

তদন্তভার সিআইডির হাতে যাওয়ার পর গ্রেফতার হয় বেশ কয়েকজন মাথা ৷ ৩৫ জনের নামে চার্জশিট জমা পড়ে আলিপুর আদালতে ৷ এদের মধ্যে ১৩ জনকে পলাতক দেখিয়ে ২২ জনের বিচার শুরু হয় ২০০৫ সালে ৷ ২০০৯ এর এপ্রিলে অপহরণ মামলার প্রথম পর্যায়ের রায় ঘোষণা ৷ আলিপুর কেন্দ্রীয় সংশোধনাগারের মধ্যে চার বছর বিচারপর্ব চলে ৷ আফতাব আনসারির মতো দুস্কৃতী ও তাদের জঙ্গিযোগ থাকার জন্যই বিশেষ আদালত বসানো হয় ৷

রায়ের প্রমাণের অভাবে বেশ কয়েকজন খালাস পেলেও মূল অভিযুক্তরা রেহাই পায়নি। তথ্যপ্রমাণের অভাবে ১৭ জনকে খালাস করে বিশেষ আদালত ৷ ৫ জনকে দোষী সাব্যস্ত করা হয় ৷ এরা হল আফতাব আনসারি, আকিব আলি, আবদুল রহমান পুঞ্জি, সৌকত এবং হ্যাপি সিং ৷ এজের যাবজ্জীবন সাজা দেয় আলিপুর আদালত ৷

আফতাব ছাড়া বাকি ৪ দোষী সাব্যস্তই এই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে মামলা করে। বিচার চলাকালীনই অস্বাভাবিক মৃত্যু হয় হরপ্রীত ওরফে হ্যাপি সিংয়ের। নিম্ন আদালতের সাজা বহাল রাখে হাইকোর্টও।

প্রথম পর্যায়ের বিচার শুরু হওয়ার পাশাপাশি পলাতকদের খোঁজে তদন্ত চালিয়ে যায় সিআইডি। তখনই সিআইডির জালে মহারাষ্ট্র থেকে ধরা পড়ে মিজানুর রহমান, মোজাম্মেল শেখ, আফতাব, শাহবাজ, নইম, আফতার, ওমর জালালরা। ২০১২ সালে এদের বিরুদ্ধে চার্জ গঠন হয় ৷ ২০১৩ সালে পার্থ রায়বর্মণ অপহরণের দ্বিতীয় পর্বের বিচার শুরু হয় ৷ এই পর্বে মোট ৬৮ জন সাক্ষী দিয়েছেন ৷

কিছুদিন আগেই বিচার শেষ হয়েছিল। আজ কেন্দ্রীয় সংশোধনাগারে বিশেষ আদালতে রায় ঘোষণা।

First published: 12:52:39 PM Dec 08, 2017
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर