পাশে শ্বশুরবাড়ি, ডাক্তার হতে চলেছেন গাঁয়ের বাল্য বধূ রূপা

Jul 02, 2017 03:06 PM IST | Updated on: Jul 02, 2017 03:06 PM IST

#জয়পুর: রাজস্থানের সংস্কৃতিতেই আছে, ছোট বয়সে মেয়ের বিয়ে দিয়ে দেওয়া ৷ তবে শহরে এই নিয়ম না খাটলেও, রাজস্থানের গ্রামে কিন্তু এখনও নিয়ম মেনেই ছোট্ট বেলাতেই বিয়ে দিয়ে দেওয়া হয় মেয়েদের ৷ ঘোমটার আড়ালে, ছোট্ট মেয়ের স্বপ্ন পুড়ে ছাই হয়ে যায় দাম্পত্যে ৷

তবে জয়পুরের কাবেরি গ্রামের মেয়ে রূপার গল্পটা অনেকটাই রূপকথার মতো ৷ যেখানে বরের বেশে রাজপুত্র, রাজকন্যার স্বপ্নপূরণ করলেন !

পাশে শ্বশুরবাড়ি, ডাক্তার হতে চলেছেন গাঁয়ের বাল্য বধূ রূপা

আট বছর বয়সেই ১২ বছরের শঙ্করলালের সঙ্গে বিয়ে হয়ে গিয়েছিল রূপার ৷ তখন সে পড়ে তৃতীয় শ্রেণীতে ৷ রূপা ভেবেছিল এখানেই তাঁর স্বপ্নের শেষ ৷ তবে কপাল গুণে শ্বশুরবাড়িটা ভালোই পেয়েছিল রূপা ৷ বাড়ির বউয়ের পড়াশুনো না থামিয়ে দাম্পত্যের পাশাপাশিই চলল রূপার পড়াশুনো ৷ শ্বশুরবাড়িতে থেকেই ক্লাস টেন পাস করল রূপা ৷ প্রাপ্ত নম্বর ৮৪ ৷ ক্লাস টুয়েলভ পাশ করার পর বিএসসি পড়তে কলেজে ভর্তি হন রূপা। ডাক্তারি পড়ার স্বপ্নে বসেছিলেন অল ইন্ডিয়া প্রি-মেডিক্যাল টেস্টে। ২৩ হাজার র‌্যাঙ্ক করে মেডিক্যালে সুযোগ পাননি। ‘‘এক জন আমাকে বলেন, কোটা গিয়ে কোচিং করলে আমি পরীক্ষায় ভাল র‌্যাঙ্ক করতে পারবো। আমার ইচ্ছা থাকলেও শ্বশুরবাড়ির সম্মতি পাবো কি না বুঝতে পারছিলাম না। কিন্তু আমারা স্বামী, শ্বশুরবাড়ির সবাই রাজি হয়ে যান। আমাকে পড়ানোর জন্য ওরা অটোরিকশা চালাতে শুরু করে’ ৷ এখন রূপা তাঁর শ্বশুরবাড়ির প্রশংসা করতে গিয়ে একেবারেই আটকান না ৷ সব কথার শেষে স্বামী শঙ্করলাল ও গোটা শ্বশুরবাড়িকেই টেনে নিয়ে আসেন জয়পুরের কাবেরি গ্রামের হবু ডাক্তার রূপা !

RELATED STORIES

RECOMMENDED STORIES