ডোকলম বিবাদের নিষ্পত্তি, সেনা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত ভারত-চিনের

Dolon Chattopadhyay | News18 Bangla
Updated:Aug 28, 2017 04:14 PM IST
ডোকলম বিবাদের নিষ্পত্তি, সেনা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত ভারত-চিনের
Photo : AFP
Dolon Chattopadhyay | News18 Bangla
Updated:Aug 28, 2017 04:14 PM IST

#নয়াদিল্লি: ডোকলাম নিয়ে সন্ধির বার্তা ভারত ও চিনের। আজ বিদেশমন্ত্রকের একটি বিবৃতিতে জানানো হয়, দু'দেশের মধ্যে কূটনৈতিক আলোচনার ভিত্তিতেই ডোকলাম বিবাদের নিষ্পত্তি হয়েছে। সেখান থেকে সেনা সরাবে দু'পক্ষই। ভারত সেনা সরিয়ে নিয়েছে বলে মেনে নিয়েছে চিনও। কিন্তু, বেজিংয়ের অবস্থান নিয়েই নতুন করে ধন্ধ শুরু হয়েছে। বিতর্কিত ওই এলাকায় লালফৌজের টহলদারি চলবে বলেই জানিয়েছে চিন।

তাওয়াং, আকসাই চিন বা চুমরের পর ডোকলাম। ভারত-ভুটান ও চিন সীমান্তের ওই মালভূমি নিয়ে এশিয়ার দুই মহাশক্তিধরের লড়াই। কীভাবে ভারত ও চিনের মধ্যে ডোকলাম নিয়ে ঠাণ্ডা লড়াইয়ের সূত্রপাত?

৪ জুন, ২০১৭

ডোকলামে চিনের রাস্তা নির্মাণের চেষ্টায় বাধা ভারতীয় সেনার

২০ জুন, ২০১৭

চিনা সেনার পদক্ষেপের কড়া নিন্দা ভুটানের

২৯ জুন, ২০১৭

মানচিত্রে ডোকলামকে নিজেদের ভূখণ্ড বলে দাবি চিনের

৬ জুলাই, ২০১৭

জি-২০ সম্মেলনে শি জিংপিং ও মোদির বৈঠক বাতিল

জুন-অগাস্ট, ২০১৭

- ডোকলাম নিয়ে চিনের একাধিকবার গরমাগরম বিবৃতি

- পালটা বিবৃতি নয়াদিল্লিরও

১৫ অগাস্ট, ২০১৭

- লাদাখের প্যাংগঙ এলাকায় চিনা সেনার অনুপ্রবেশ

- ভারতীয় সেনার সঙ্গে পাথর ছোড়াছুড়ি ও হাতাহাতি

২৮ অগাস্ট, ২০১৭

ডোকলাম থেকে সেনা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত দু'দেশের

দক্ষিণ এশিয়ার দুই পরমাণু শক্তিধরের মধ্যে সীমান্ত বিবাদ নতুন নয়। কিন্তু, ডোকলাম নিয়ে ভারত-চিন তিক্ততার জের পড়ে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রেও। বিবাদ মেটাতে ট্র্যাক টু স্তরে দু'দেশই কূটনৈতিক আলোচনা শুরু করে। সোমবার, বিদেশমন্ত্রক বিবৃতি দিয়ে জানায়, ডোকলাম বিবাদের নিষ্পত্তি ঘটেছে।

বিদেশমন্ত্রকের বিবৃতি

ডোকলাম বিবাদ নিয়ে ভারত ও চিন গত কয়েক সপ্তাহ ধরে কূটনৈতিক স্তরে আলোচনা চালিয়েছিল। তার ফলেই আমরা আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি ও উদ্বেগের কথা চিনকে বোঝাতে সমর্থ হয়েছি। এর ভিত্তিতেই ডোকলাম থেকে দ্রুত সেনা সরিয়ে নেওয়া হবে।

চিনা বিদেশমন্ত্রকের বিবৃতি

গত কয়েক মাস ধরে চলা ডোকলাম বিবাদের নিষ্পত্তি ঘটাতে ভারত ও চিন দু'পক্ষই রাজি। ভারত ওই এলাকা থেকে ইতিমধ্যেই সেনা ও যাবতীয় সরঞ্জাম সরিয়ে নিয়েছে।

কিন্তু, সত্যিই কী বিবাদ মেটাতে রাজি চিন? আম্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের দেওয়া তথ্যে নয়াদিল্লির আশঙ্কা ও উদ্বেগ থাকছেই। চিনা বিদেশমন্ত্রক জানিয়েছে, ডোকলাম থেকে ইতিমধ্যেই সরে গিয়েছে ভারতীয় সেনা। চিনের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র হুয়া চিনইংকে উদ্ধৃত করে রয়টার্সের খবর, আঞ্চলিক সার্বভৌমত্ব এবং জাতীয় স্বার্থ বজায় রাখবে পিপলস লিবারেশন আর্মি। এই বিবৃতি থেকেই যাবতীয় ধন্দের সূচনা। তবে কি ডোকলাম থেকে সেনা সরাচ্ছে না বেজিং? প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে,

দখলদারিই চিনের লক্ষ্য?

- লাল ফৌজের নজরে শিলিগুড়ি করিডোর

- ওই করিডোরই উত্তর পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে দেশের যোগাযোগের প্রধান পথ

- ডোকলাম থেকে শিলিগুড়ি করিডোরের দূরত্ব খুব বেশি নয়

- প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, চুম্বি উপত্যকায় সড়ক নির্মাণের আড়ালে সামরিক পরিকাঠামো গড়ছে চিন

ডোকলাম নিয়ে বেজিংয়ের চোখে চোখ রেখে কথা বলে বিদেশনীতি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলের প্রশংসা কুড়িয়েছিল নয়াদিল্লি। কিন্তু, চিনা দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে আশঙ্কার মেঘ থেকেই যাচ্ছে।

প্রায় তিন মাস পর ডোকলাম নিয়ে ভারত-চিন বিবাদের নিষ্পত্তি। ডোকলাম থেকে সেনা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত দু’দেশেরই। আজ টুইটারে একটি বিবৃতি দিয়ে বিদেশমন্ত্রক জানিয়েছে, ডোকলাম নিয়ে গত বেশ কয়েক সপ্তাহ ধরেই কূটনৈতিক স্তরে যোগাযোগ রাখছিল ভারত ও চিন। সীমান্তবর্তী ওই এলাকা নিয়ে বেজিংকে নিজেদের অবস্থান সম্পর্কে স্পষ্ট বার্তা দিতে পেরেছে নয়াদিল্লি।

নিজেদের উদ্বেগের কথাও চিনকে বোঝানো গিয়েছে বলে টুইটে জানিয়েছে বিদেশমন্ত্রক। সেই আলোচনার ভিত্তিতেই ডোকলাম থেকে দ্রুত সেনে সরিয়ে নেবে দু’দেশই।

গত জুন মাসে, ডোকলামে চিনা সেনার পাকা রাস্তা তৈরি নিয়েই আপত্তি জানায় ভারত। তারপর থেকেই ওই অঞ্চলে দু’পক্ষই সেনা মোতায়েন করে রাখে। দু’দেশের সেনার মধ্যে হাতাহাতি ও পাথর ছোড়াছুড়ির ঘটনাও ঘটে। ভারত-চিন সীমান্ত বিবাদের জের পড়ে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রেও।

First published: 01:46:06 PM Aug 28, 2017
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर