পিছু হটতে নারাজ ইসলামাবাদ, ফাঁসির বিরুদ্ধে আবেদনের জন্য ৬০ দিন সময় পাবেন কুলভূষণ

Apr 12, 2017 11:05 AM IST | Updated on: Apr 12, 2017 02:30 PM IST

#ইসলামাবাদ ও নয়াদিল্লি: প্রাক্তন নৌসেনা আধিকারিক কূলভূষণ যাদবের মৃত্যুদণ্ডের পাক নির্দেশের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিক্রিয়া সত্ত্বেও পাকিস্তান আদালতের সিদ্ধান্তেই অটল ইসলামাবাদ ৷ পাক প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফের মতে যা হয়েছে আইন মেনেই হয়েছে ৷ আর সেই আইন অনুযায়ীই ফাঁসির বিরুদ্ধে আবেদন করার জন্য ৬০ দিন সময় পাবেন সাজাপ্রাপ্ত ভারতীয় কূলভূষণ যাদব ৷

বহুদিন পর কোনও এক ইস্যুতে এককাট্টা সংসদ। পাকিস্তানের জেলে বন্দী কূলভূষণ যাদবের মৃত্যুদণ্ড যে কোনও মূল্যে রুখতে হবে। কূলভূষণের ফাঁসি আটকাতে সোমবার থেকেই শুরু হয় কূটনৈতিক তৎপরতা। সুষমার হুঁশিয়ারি, সবকিছু উপেক্ষা করে কূলভূষণকে ফাঁসি দেওয়া হলে তার ফল হবে মারাত্মক। যদিও রাতের দিকে অবস্থান বদল করে পাক প্রশাসন। পাক প্রতিরক্ষামন্ত্রীর ঘোষণা, ৬০ দিনের মধ্যে মৃত্যুদণ্ডের রায় চ্যালেঞ্জ করতে পারবেন কূলভূষন।

পিছু হটতে নারাজ ইসলামাবাদ, ফাঁসির বিরুদ্ধে আবেদনের জন্য ৬০ দিন সময় পাবেন কুলভূষণ

আপাতত এই বিষয়ে সব দিকে তৈরি হয়েই লড়তে চাইছে ভারত ৷ গুপ্তচর সন্দেহে বন্দি ভারতীয় নাগরিক কূলভূষণ যাদবকে ফাঁসির সাজা দিল পাকিস্তান সেনা আদালত। করাচি ও বালুচিস্তানে গুপ্তচরবৃত্তি চালানোর অভিযোগে গত বছর ৩ মার্চ তাকে গ্রেফতার করে পাক সেনা। সোমবার কূলভূষণের ফাঁসির সাজার কথা নিশ্চিত করেছেন পাক সেনাপ্রধান আসিফ গফ্ফর। খবরটি প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে ভারত ৷

বিদেশমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ থেকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং, মৃত্যুদণ্ডের বিরুদ্ধে সরব সকলে ৷ পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সুষমার চরম হুঁশিয়ারি, কূলভূষণের ফাঁসি হলে ছেড়ে দেবে না ভারত ৷ প্রভাব পড়বে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে ৷

যে কোনও মূল্যে কূলভূষণের ফাঁসি রুখতে বদ্ধপরিকর ভারত। এজন্য কূটনৈতিক উদ্যোগের পাশাপাশি নরমে-গরমে পাক প্রশাসনকে বার্তা দেওয়ারও কৌশলও নিচ্ছে কেন্দ্র। সংসদে বিদেশমন্ত্রীর বক্তব্যেই তা স্পষ্ট। ভারতের আপত্তি সত্ত্বেও কূলভূষণকে ফাঁসি দেওয়া হলে অনিশ্চিত হয়ে পড়বে ভারত-পাক সম্পর্ক। বিদেশমন্ত্রীর কথাতে যেন তারই ইঙ্গিত।

চরবৃত্তির অভিযোগে প্রাক্তন সেনাকর্মী কূলভূষণকে ফাঁসিয়েছে পাকিস্তান। কেন্দ্রকে অন্ধকারে রেখেই ভারতীয় বন্দীর বিচার চলেছে। এটা আসলে পরিকল্পিত খুনেরই নামান্তর বলেও দাবি সুষমার।

মঙ্গলবার এই বিষয়ে সংসদে সরব হয় বিরোধীরা ৷ আন্তর্জাতিক স্তরে চাপ দিয়ে ফেরানোর দাবি জানায় তারা ৷ কুলভূষণকে ফেরানোর বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীরও হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন তারা ৷

এদিন লোকসভায় সৌগত রায় বলেন, ‘তেহেরানে গ্রেফতার করা হয় কুলভূষণকে ৷ ব্যবসা সংক্রান্ত কারণে গিয়েছিলেন ইরানে ৷ ভারতকে অন্ধকারে রেখে বিচার ৷ কোনও আইনজীবীও নিয়োগ করা হয়নি ৷ হাফিজ সইদ, মাসুদ আজহারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়নি পাকিস্তান ৷’

অন্যদিকে মল্লিকার্জুন বলেন, যদি কূলভূষণকে বাঁচানো না যায়, তা সরকারের দুর্বলতা হিসেবে প্রমাণিত হবে। বিরোধীরা কূলভূষণ ইস্যুতে কোণঠাসা করে সরকারপক্ষকে।

এর উত্তরে রাজনাথ সিং অবশ্য আশ্বাস দিয়েছেন, ‘গোটা দেশ কুলভূষণের পাশে আছে ৷ ‘পাক পদক্ষেপের তীব্র নিন্দা করছে ভারত ৷ কুলভূষণের ভারতীয় পাসপোর্ট ছিল ৷ কুলভূষণকে ফেরাতে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেবে ভারত ৷ ’

কূলভূষণের ফাঁসি রোখার দায়িত্ব আপাতত সুষমারই ওপর। কংগ্রেস সহ সংসদের সবকটি দলই মঙ্গলবার এব্যাপারে শেষ পর্যন্ত যাওয়ার জন্য সওয়াল করে। সুষমার সুরেই তাদের আশ্বস্ত করেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ৷

বিদেশমন্ত্রক সূত্রে খবর, কূলভূষণের ফাঁসি স্থগিত রাখতে চলতি সপ্তাহেই পাকিস্তানকে চিঠি দেবে কেন্দ্র। নিজের বক্তব্য জানিয়ে ডশিয়ার দেওয়ার প্রস্ততিও চলছে। তবে এক্ষেত্রে মাথায় রাখতে হচ্ছে বেশ কয়েকটি সম্ভাবনা ৷

সামরিক আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে যাওয়ার সুযোগ নেই

কূলভূষণের বিচার সংক্রান্ত কোনও নথি কেন্দ্রের হাতে নেই

সেই নথি চেয়ে পাঠাতে পারে কেন্দ্র

কূলভূষণের সঙ্গে দেখা করতে দেওয়ার জন্য কনসুলার অ্যাকসেস চাওয়া হবে

কূটনীতি ব্যর্থ হলে তখন অন্য সম্ভাবনা। সেক্ষেত্রে বিষয়টিতে হস্তক্ষেপ করতে পারেন প্রধানমন্ত্রী। প্রাথমিক উত্তেজনা থিতিয়ে গেলে কূলভূষণকে নিয়ে আলোচনা শুরু করতে চায় কেন্দ্র।

কুলভূষণের মৃত্যুদণ্ড ফের একবার উসকে দিয়েছে সরবজিতের স্মৃতি৷ এই সকিদ্ধান্ত যাতে কোনওভাবে কার্যকর না হয় তার দাবি জানিয়েছেন সরবজিতের দিদি দলবীর কউর ৷

RELATED STORIES

RECOMMENDED STORIES