দেশে সন্ত্রাসবাদীরা ঢুকলে দায়ি হবে বিচারক, অভিবাসন নীতি খারিজ করা নিয়ে মন্তব্য ট্রাম্পের

Dolon Chattopadhyay | News18 Bangla
Updated:Feb 06, 2017 06:05 PM IST
দেশে সন্ত্রাসবাদীরা ঢুকলে দায়ি হবে বিচারক, অভিবাসন নীতি খারিজ করা নিয়ে মন্তব্য ট্রাম্পের
Photo : AFP
Dolon Chattopadhyay | News18 Bangla
Updated:Feb 06, 2017 06:05 PM IST

#ওয়াশিংটন: আরও বড় ধাক্কা খেল ট্রাম্পের বিতর্কিত অভিবাসন নীতি। দেশজুড়ে অভিবাসন নীতির উপর সাময়িক স্থগিতাদেশ জারি করেছিল সিয়াটেলের ফেডারেল কোর্ট। এরফলে আপাতত সাত মুসলিম অধ্যুষিত দেশের নাগরিকদের আমেরিকায় প্রবেশে কোনও নিষেধাজ্ঞা ছিল না। এর বিরুদ্ধে আদালতে পাল্টা আবেদনের কথা জানিয়েছিল হোয়াইট হাউস। ফেডারেল কোর্টের নির্দেশকে হাস্যকর বলে উড়িয়ে দিয়েছিলেন স্বয়ং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। অবিলম্বে স্থগিতাদেশ রদের আর্জি জানিয়েছিলেন প্রেসিডেন্ট। তবে রবিবার রাতে কার্যত মুখ থুবড়ে পড়ল ট্রাম্প প্রশাসনের আর্জি ৷ নাকচ হয়ে গেল আর্জি।  নিম্ন আদালতের রায়ের ওপর স্থগিতাদেশ দেওয়ার যে আবেদন করা হয়েছিল, তা খারিজ করা হয়েছে। অথার্ৎ  সাত মুসলিম অধ্যুষিত দেশের নাগরিকরা আমেরিকায় প্রবেশ করার উপর থাকবে না কোনও নিষেধাজ্ঞা ৷

তবে এখানেই হারতে নারাজ ট্রাম্প ৷ এবার কি আদালতের বিরুদ্ধে যুদ্ধঘোষণার পথে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প?  মার্কিন মুলুকে  পা দেওয়া অভিবাসীদের ওপর নজর রাখতে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগকে নজিরবিহীন নির্দেশ মার্কিন প্রেসিডেন্টের। ফেডেরাল কোর্ট যেভাবে তাঁর অভিবাসন নির্দেশ খারিজ করেছে, তার প্রক্ষিতেই কি ট্রাম্পের পালটা চাপ? নজিরবিহীনভাবে টুইটে ফেডেরাল কোর্টের বিচারপতির বিরুদ্ধে দেশদ্রোহিতার অভিযোগ মার্কিন প্রেসিডেন্ট?

এমন দৃশ্য আমেরিকা কখনও দেখেনি। ফেডেরাল কোর্টের এক বিচারপতির রায় নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন দেশের প্রেসিডেন্ট। আইনের শাসনই যে দেশের ভিত, সেই আমেরিকায় ট্রাম্পের এহেন কীর্তিতে নতুন করে তোলপাড় মার্কিন সমাজ। টুইটারে ট্রাম্প যে বার্তা দিয়েছেন, তাতে বিচারবিভাগকে উপেক্ষার মনোভাবই স্পষ্ট ।

বাইরে থেকে যারা আসবে, তাদের ওপর নজর রাখতে হোমল্যান্ড সিকিউরিটিকে নির্দেশ দিয়েছে। এই আদালত সব কাজে বাগড়া দিচ্ছে। কাজ করা কঠিন হয়ে পড়ছে ৷ কোনও বিচারপতি দেশকে এই অবস্থায় ফেলে দিতে পারেন, বিশ্বাস হচ্ছে না। খারাপ কিছু হয়ে গেলে ওই বিচারককে দায়িত্ব নিতে হবে। খারাপ, খুবই খারাপ ঘটনা। 

আদালতের রায় অনুযায়ী, সাতটি মুসলিম প্রধান দেশের ৬০ হাজার বিদেশির ভিসা বাতিলের সিদ্ধান্ত আপাতত প্রত্যাহার করা হয়েছে। বৈধ ভিসা থাকলে এই সাতটি দেশের মানুষ আমেরিকায় প্রবাশএ করতে পারবেন ৷

বিচারপতিকে রায় নিয়ে অসন্তোষ, হোমল্যান্ড সিকিউরিটিকে নির্দেশ - এবার কি সরাসরি বিচার বিভাগের সঙ্গেও যুদ্ধে নামছেন মার্কিন ট্রাম্প?

কোন আইনে ট্রাম্প এই নির্দেশ দিতে পারেন, সরব ট্রাম্প বিরোধীরা। বসে নেই ট্রাম্প শিবিরও। অভিবাসন নির্দেশ নিয়ে ফেডেরাল কোর্টের রায় খারিজে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেছেন মার্কিন অ্যাটর্নী জেনারেল। শীর্ষ আদালতে ট্রাম্প প্রশাসনের আর্জি ৷ জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থেই অভিবাসন নীতিতে পরিবর্তন আনা হয়েছিল। মার্কিন নাগরিকদের সুরক্ষার দায়িত্ব প্রশাসনের। অভিবাসন নীতি ঢেলে না সাজালে সেটা সম্ভব নয়।

এখানেই শেষ নয়। নতুন টুইটে সংবাদমাধ্যমকেও মিথ্যেবাদীদের ঝাড় বলে আক্রমণ মার্কিন প্রেসিডেন্ট। অভিযোগ, অভিবাসন নীতির বিরোধিতা করে

জেন জনমত সমীক্ষা দেখানো হচ্ছে, সব সাজানো। রকম সকম দেখে রিপাবলিকান পন্থী এক সেনেটরের মন্তব্য, আমেরিকাটাকেই না টুকরো টুকরো করে ফেলেন এই প্রেসিডেন্ট।

গতমাসের সাতাশ তারিখ বিতর্কিত ভিসা ও অভিবাসন নীতিতে সই করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই নীতির ফলে সাত মুসলিম অধ্যুষিত দেশের নাগরিকদের মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ঢোকায় নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। এই ঘোষণার পর থেকে প্রায় এক লক্ষ ভিসা বাতিল করা হয়েছে বলে দাবি মার্কিন বিদেশ দফতরের। বিতর্কিত অভিবাসন নীতির জেরে ঘরে-বাইরে প্রবল সমালোচনার মুখে পড়েন ট্রাম্প। তাতে অবশ্য দমতে রাজি নন নিউ ইয়র্কের প্রাক্তন রিয়েল এস্টেট জায়েন্ট। সিয়াটেলের ফেডারেল কোর্টের সিদ্ধান্তকে হাস্যকর বলে ট্যুইট করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। আপাতত আদালতে পালটা আইনি লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছে হোয়াইট হাউস। তবে একের পর এক আদালতের স্থগিতাদেশের জেরে, বিচারব্যবস্থার সঙ্গে ট্রাম্প প্রশাসনের সংঘাতের আবহ বেশ স্পষ্ট।

First published: 10:40:13 AM Feb 06, 2017
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर